ইউপি সদস্যকে অপহরণ চেষ্টা

পেকুয়ায় মরিচের গুড়া ছোঁড়ে ৩ জনকে কুপিয়ে জখম

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২০ | ১:১০ অপরাহ্ণ | 6 বার

পেকুয়ায় মরিচের গুড়া ছোঁড়ে ৩ জনকে কুপিয়ে জখম

পেকুয়ায় ৩ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে দুবৃর্ত্তরা। কমান্ডো স্টাইলে ধারালো অস্ত্র স্বস্ত্র নিয়ে ইউপি সদস্যকে অপহরণ চেষ্টা চালায়। ভাড়াটে অজ্ঞাত লোকজন নোহাগাড়ি নিয়ে বাজার থেকে ইউপি সদস্য ও ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতিকে প্রাণনাশ চেষ্টা চালানো হয়েছে। এর সুত্র ধরে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা বাজারে প্রকাশ্যে হামলা চালায়। এ সময় ৩ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। স্থানীয়রা জখমীদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এদেরকে সন্ধ্যার দিকে চমেক হাসপাতালে রেফার করে। ঘটনার জের ধরে টান টান উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই স্থানে ভীতি ও আতংক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ১ ঘন্টা পর্যন্ত বাজারের আংশিক দোকান পাট বন্ধ ছিল। পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উত্তেজনা প্রশমিত করতে পুলিশ বারবাকিয়া বাজার ও পাহাড়িয়াখালী গ্রামে টহল, অবস্থান জোরদার করে।
২৭ জুলাই (সোমবার) বিকেল ৫ টার দিকে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের সওদাগর হাটে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন ওই ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালী গ্রামের জাকের হোসেনের ছেলে করিম (৩০), মৃত কবির আহমদের ছেলে হেলাল (৪০), মৃত মনজুরের ছেলে শহীদ (২৬)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্র জানায়, পাহাড়ী রিজার্ভ জায়গা নিয়ে পাহাড়িয়াখালীর জাফর আলমের ছেলে এরশাদ ও পূর্ব ভারুখালীর এক বাসিন্দার মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরশাদ ও তার অনুগত লোকজন অসহায় পরিবারের বসতবাড়িতে ভাংচুর চালায়। বারবাকিয়া ইউপির ২ নং ওয়ার্ড সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ওই ঘটনায় অসহায় ব্যক্তির পক্ষে অবস্থান নেন। এ নিয়ে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ও এরশাদ গংদের মধ্যে বিরোধের সুত্রপাত হয়। ২৭ জুলাই বিকেলে এরশাদ গং কমান্ডো স্টাইলে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলমকে অপহরণ চেষ্টা চালায়। চকরিয়া থেকে নোহা নিয়ে একদল ভাড়াটে লোকজন বারবাকিয়া বাজারে এসে অবস্থান নেয়। এ সময় ওয়ারেচীর বাসভবনের গেইটের পূর্ব দিকে একটি দোকান থেকে জাহাঙ্গীর মেম্বারকে টানা হ্যাঁচড়া করে গাড়ীতে উঠিয়ে নিতে চেষ্টা চালায়। বাজারের শত শত লোকজন সেখানে জড়ো হয়। ওয়ারেচীর পুত্র শহিদুর রহমান ওয়ারেচীসহ স্থানীয়রা বিষয়টি মিটমাট করে দেয়। বহিরাগত লোকজন গাড়ী নিয়ে চকরিয়ায় চলে যায়। এর কিছুক্ষন পর দ্বিতীয় দফা ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এডভোকেট ওসমান জানান, এরশাদ, শাহাব উদ্দিন, নেছার, আশেক, নাছিরসহ ১০/১৫ জনের লোকজন ধারালো অস্ত্র লোহার রড নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ফের ঘটনা সংঘটিত করে। মরিচের গুড়া ছিটিয়ে পরিকল্পিত হামলা করেছে এরশাদ গং। এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে ৩ জন আহত হয়েছে। শহিদুর রহমান ওয়ারেচী জানান, জাহাঙ্গীর ধৈর্য্য ধারণ করেছে। তাকে গালিগালাজ ও প্রথমে কিল, ঘুষি মারলেও সে গভীর ছিল। কিন্তু জাফরের ছেলেরা পরিকল্পিত এ হামলা করেছে।

শিলখালী ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচী জানান, আমি বাজারের গরুর হাটে ছিলাম। খবর পেয়ে দ্রুত এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করি। ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, তারা আমাকে অপহরণ করতে বাহির থেকে ভাড়াটে লোকজন এনেছে। গাড়ী নিয়ে এসেও তারা ফিরে গেছে। আমরা উত্তেজিত হলে তারা জান নিয়ে যেতে পারতেন না। এরপরও অহেতুক দ্বিতীয় দফা হামলা চালায় জাফরের ছেলেরা।

পেকুয়া থানার এস,আই সুমন সরকার জানান, আমিসহ পুলিশ ফোর্স গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনি। পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়েছি। লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!