এইমাত্র পাওয়া

x

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা

পেকুয়ায় নিরহ ১১ নারী-পুরুষ মিথ্যা মামলায় আসামী

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ | ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ | 81 বার

পেকুয়ায় নিরহ ১১ নারী-পুরুষ মিথ্যা মামলায় আসামী

পেকুয়ায় বনবিভাগের অভিযানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘটনায় ১১ নারী-পুরুষের বিরুদ্ধে আদালতে ও থানায় দুটি পৃথক দায়ের করেছে অবৈধ দখলদাররা। এ ঘটনা জানাজানি হলে উপজেলা জুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বনবিভাগ কর্তৃক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ক্ষিপ্ত হয়ে অবৈধ দখলদারেরা এবার উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতিসহ ১৪ গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘটনা সাঁজিয়ে থানা ও আদালতে দুইটি মামলা দায়ের করেছে।

গত ১৩জুলাই দুপুরে পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের পূর্ব ধনিয়াকাটা লাইনের শিরা এলাকায় বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দখলবাজ আন্নর আলী কর্তৃক বন বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে তৈরীকৃত স্থাপনাটি গুড়িয়ে দেয়। গত ৮ জুলাই ভোররাতে সামাজিক বনায়নের জমিতে ওই অবৈধ বসতি নির্মাণ করেছিল ধনিয়াকাটা গ্রামের নুরুল কাদেরের পুত্র আন্নর আলী।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানান, এদিকে বন বিভাগের জায়গা জবরদখলকারী আন্নর আলীর অবৈধ স্থাপনা বনবিভাগ কর্তৃক উচ্ছেদেও ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৬ জুলাই চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ভূঁয়া ঘটনা সাঁিজয়ে পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও পেকুয়া সাবেক গুলদি গ্রামের মরহুম মো: সাচির পুত্র শফিউল আলম, প্রতিবন্ধী নুরুল হোছাইনসহ ১১ জন নিরীহ গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং সিআর ৭৬২/১৯ইং। এবং এর পরের দিন বন বিভাগের জায়গা দখলকারী আন্নর আলীর প্ররোচনায় সাবেকগুলদি গ্রামের ছৈয়দ আলমের স্ত্রী লায়লা বেগম বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় উপজেলা যুবলীগ নেতা শফিউল আলমসহ ৯ জনকে আসামী করে আরো একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং জিআর ১৬১। উভয় মামলায় একই লোকদের আসামী করা হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিউল আলম অভিযোগ করে জানান, আন্নর আলী কর্তৃক বন বিভাগের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরী করা হলে তা অভিযোন চালিয়ে উচ্ছেদ করে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন। এতে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নাই। তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেনা। এরপরেও দখলবাজ আন্নর আলী নিজে বাদী হয়ে চকরিয়া আদালতে এবং আন্নর আলীর প্ররোচনায় লায়লা বেগম পেকুয়া থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ধনিয়াকাটা গ্রামের লাইনের শিরা গ্রামের বাসিন্দা আকতার আহমদ জানান, ১৩ জুলাই বন বিভাগ অবৈধ স্থাপনাটি উচ্ছেদের জন্য অভিযান শুরুর প্রাক্কালে বনভূমি দখল চক্রের মূলহোতা আন্নর আলীর নেতৃত্বে একদল লোক বনবিভাগকে বাধা প্রদানের চেষ্টা করেন। অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করে বনবিভাগ ও প্রশাসনের লোকজন চলে যাওয়ার পর ধনিয়াকাটার মৃত নুরুল কাদেরের ছেলে আনোয়ার প্রকাশ আন্নর আলী (৪০) গং বনবিভাগের লোকজন তাদের মারধর করেছে মর্মে গুজব রটিয়ে এলাকায় প্রচারণা চালিয়েছিল। তবে অবাক করা বিষয় এই যে, পুলিশ যেখানে অবৈধ স্থাপনাটি উচ্ছেদে ভূমিকা রেখেছে। সেখানে পুলিশ কিভাবে ওই স্থাপনা ভাঙ্গার বিষয়ে মামলা নেয় !

বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল গফুর মোল্লা জানান, ধনিয়াকাটা লাইনের শিরা এলাকায় আন্নর আলী নামের এক লোক অবৈধ স্থাপনা তৈরী করলে তা পরে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখন শুনেছি, উচ্ছেদেও ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে বন বিভাগের জায়গা দখলবাজের সাথে জড়িত আন্নর আলী ও এক মহিলা এলাকার নিরীহ লোকদের আসামী করে থানা ও আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি আরো জানান, বন বিভাগের জায়গা জবর দখলবাজ চক্রের দুই সদস্য কর্তৃক দায়েরকৃত মামলার অভিযোগে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ঢাহা মিথ্যাচার। পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় অবৈধ স্থাপনাটি উচ্ছেদ করেছে বনবিভাগ।
থানায় মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে পেকুয়া থানার ওসি জাকির হোসেন ভুইয়া বলেন, মামলা রুজুর ঘটনাটি কয়েকদিন আগেকার। তাই এই মুর্হুর্তে সঠিক মনে পড়ছে না। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।

এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) কাজী মতিউর ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় যদি বনবিভাগ অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। তবে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা হবার কথা নয়। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!