পেকুয়ায় দা-বাহিনীর প্রধান নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২০ | ১:০১ অপরাহ্ণ | 6 বার

পেকুয়ায় দা-বাহিনীর প্রধান নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় আলোচিত দা-বাহিনীর প্রধান নাছির উদ্দিন মদ পান করে মামলার বাদী, কৃষক, ড্রাইভার ও পথচারীদের উপর বর্বর নির্যাতন চালানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী লোকজন। এছাড়াও নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে নিরহ লোকদের বসতবাড়ি ও নাল জমি জবর দখল, জবর দখলকৃত পাহাড়ের বনায়নের উপকারভোগীরা সংবাদ সম্মেলনে তাদের বক্তব্য উত্থাপন করেন। বক্তব্য দেন ধর্ষণ চেষ্টার শিকার বিধবা নারী নুরুন্নাহার। সোমবার বিকেলে পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউপির বটতলি স্টেশনে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন, দা-বাহিনীর প্রধান নাছির উদ্দিনের হাতে নির্মমভাবে নিহত টইটং বটতলি এলাকার উকিল আহমদের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য আবদু জলিল, তার ভাই আবুল কালাম আজাদ, বটতলি ঝুম পাড়া এলাকার অলী আহমদের ছেলে জয়নাল আবদীন, মধ্যম রিজার্ভ পাড়া এলাকার মৃত নুর আহমদের ছেলে মুহাম্মদ ফরিদ, স্কুল পাড়ার হাবিবুর রহমানের ছেলে রমজান আলী।
এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন, একই ইউনিয়নের হামিদুল হক, মনজুর, সাইফু উদ্দিন, সোহেল ও মছুদা বেগম।
লিখিত বক্তব্যে আবদু জলিল বলেন, আমার পিতা উকিল আহমদকে নির্মমভাবে হত্যা করেন নাছির ও তার বাহিনীর সদস্যরা। মামলাটি এখন চলমান থাকলেও নাছিরের টার্গেট আমাকে ও আমার ভাইদের হত্যা করা। গতকাল রাতে নাছির ও তার বাহিনীর লোকজন মদ পান করে এলোপাতাড়ি রাস্তায় দাড়ানো লোকদের উপর মারধর শুরু করে। বেশ কয়েকজন আহত হয। এক পর্যায়ে বটতলি স্টেশনে এসে আমাকে ও আমার ভাইদের খোঁজ শুরু করলে আমরা দ্রæত ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। যাওয়ার সময় আমাকে প্রাণে হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়ে যায়।
তার ভাই আবুল কালাম আজাদ বলেন, দা-বাহিনীর নাছির উদ্দিন দীর্ঘদিন পর জেল থেকে বের হন। আমরা মনে করেছিলাম তিনি সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও দখল বেদখল ছেড়ে দিবেন। কিন্তু তিনি জেল থেকে বের হওয়ার পর আবারো অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন। আমাদেরকে প্রাণে হত্যার মত হুমকি দেয়ার পাশাপাশি আমার মায়ের নামে বনায়ন দখল করে নেন।
জয়নাল আবদীন বলেন, নাছিরের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমি ঘরছাড়া। প্রতিদিন হুমকি দেন আমাকে প্রাণে হত্যা করবে বলে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ ফরিদ ও রমজান আলী বলেন, গতকাল রাতে আমরা টইটং সীমান্ত ব্রীজ সংলগ্ন এলাকার স্টেশনে খোশগল্প করছিলাম। ওই সময় নাছির উদ্দিনসহ আরো বেশ কয়েকজন ব্যক্তি পথচারী ও স্টেশনে বসা লোকদের উপর এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তার মাতলামীর মাত্রা বেড়ে গেলে স্টেশনের লোকজন পালিয়ে যায়। তার এমন অত্যাচারে আমরা হতবাক। আমরা এ ঘটনায় তাদের বিচার দাবী করছি।
ওই সময় ধর্ষণ চেষ্টার শিকার নুরুন্নাহার বলেন, গত ২২ জুলাই দিবাগত রাতে নাছির আমাকে ধর্ষণ চেষ্টা করে। এবিষয়ে গত ২৪ জুলাই আমি তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করি। মামলা করাই দা-বাহিনীর প্রধান নাছির উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল রাতে বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়ি ভাংচুর করার পাশাপাশি গণধর্ষণ করবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। আমি তার কারণে খুব আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছি। এখন বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছি।
সর্বশেষ তারা সবাই একযোগে বলেন, দা-বাহিনীর নাছির উদ্দিন ও তার বাহিনীর সদস্যদের দ্রæত আইনের আওতায় নিয়ে না আসলে আইনশৃংখলার চরম অবনতি হবে। তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের এসপি মহোদয়ের সহযোগিতা কামনা করেন সংবাদ সম্মেলনকারী ভুক্তভোগীরা।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!