পেকুয়ায় ডজন মামলার আসামী কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক!

শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৯:২২ অপরাহ্ণ | 889 বার

পেকুয়ায় ডজন মামলার আসামী কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক!
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম চৌধুরী

পেকুয়া উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের কমিটি গঠিত হয়েছে। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: ইকবাল হোসাইনের উপস্থিতিতে এ কমিটি গঠন করেন পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম। এতে সাধারণ সম্পাদক মনোনিত হয়েছে জেলার শীর্ষ অপরাধী ও মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম চৌধুরী। কমিটির অন্যান্য পদে মনোনিতদের কোন ধরণের মন্তব্য না থাকলেও সাধারণ সম্পাদকের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলছেন শুধু পেকুয়ার নয়, জেলার একজন শীর্ষ অপরাধিকে নিয়ে কোন মতেই পেকুয়ার অপরাধ দমন করা যাবে না।

তাদের ভাষ্য মতে, পেকুয়া উপজেলার কমিউনিটি পুলিশের মনোনিত সাধারণ সম্পাদক শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম চৌধুরী একজন শীর্ষ অপরাধি। ছাত্র জীবনের শুরু থেকেই শিবিরে সাথে জড়িয়ে রাজনীতি ইস্যুতে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। অল্পসময়ের মধ্যে বনে যান শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসাবে। পরে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনে স্থানীয় শীর্ষ এক বিএনপি নেতার আমন্ত্রণে যোগদান করেন যুবদলে। এই যুবদলে থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, চিংড়ি ঘের ডাকাতি ও অস্ত্রবাজি করে আলোচনায় আসেন। কিন্তু, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে কিছুদিন অপরাধ কর্মকান্ড নিস্ক্রিয় থাকলেও কৌশলের আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার শেল্টারে চলে যান তিনি। ওই নেতার ইশরায় ভাগিয়ে নেয় মগনামা ইউপি চেয়ারম্যানের পদটি। বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পুরো উপজেলায় গড়ে তোলেন নিজস্ব সন্ত্রাস বাহিনী। প্রতিনিয়ত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি ও বিভিন্ন চিংড়ি ঘের ডাকাতি অব্যাহত রেখেছে ওয়াসিম। এসব অবৈধ আয়ের একটি অংশ চলে যায় আওয়ামীলীগের ওই নেতার পকেটে। এসব অপকর্ম ছাড়াও রাজনৈতিক কোন কর্মকান্ডে উক্ত ওয়াসিম ব্যবহার খেলার গুটি হিসাবে। সরকার যায়, সরকার গঠিত হয়। কিন্তু, পরিবর্তন হয় না ওয়াসিমের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। সম্প্রতি অস্ত্র মামলার জেল ফেরত শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম চৌধুরী ডজন মামলা মাথায় নিয়ে দায়িত্ব নেন পেকুয়া উপজেলার কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদকের পদটি। নানা তৎবির ও কৌশলে আওয়ামীলীগের ওই নেতাকে ম্যানেজ করে উক্ত পদ ভাগিয়ে নেয়ায় পুরো উপজেলায় সৃষ্টি হয়েছে নানা বিতর্ক।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওপেন হাউস ডে’র অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম। এতে প্রধান অথিতি ছিলেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো: ইকবাল হোসেন। অনুষ্ঠানে সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মতিউল ইসলাম, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উম্মে কুলসুম মিনু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম ও পেকুয়া উপজেলার সকল চেয়ারম্যানগণ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জানতে চাইলে পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম বলেন, ‘শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম চৌধুরীর মামলার বিষয় গুলো আমার জানা নেই। তবে এই রকম যদি হয়ে থাকে তাহলে আইন প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

এদিকে, জেলার শীর্ষ অপরাধি ও মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম চৌধুরী কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে উপকুলীয় এলাকার আত্মগোপনে থাকা জলদস্যু বাহিনী, সন্ত্রাস ও ডাকাতদলের সক্রিয় সদস্যরা মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে এসব অপরাধিরা নানা অপরাধ কর্মকান্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপকুলের একাধিক সূত্র। সূত্রমতে, ওয়াসিম কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক মনোনিত হওয়ায় র‌্যাব, পুলিশ ও বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযানের খবর দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধিদের কাছে পৌছার যাওয়ার আশংকা করছেন।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!