পেকুয়ার ইউএনও’র প্রত্যাহার আদেশ স্থগিত

শুক্রবার, ০১ মে ২০২০ | ৭:১০ অপরাহ্ণ | 95 বার

পেকুয়ার ইউএনও’র প্রত্যাহার আদেশ স্থগিত

‘সরকারি বরাদ্ধের ত্রাণের চাল কেলেংকারির’ অভিযোগে পেকুয়া উপজেলার এক ইউপি চেয়ারম্যানকে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক সাময়িক বহিস্কারের ঘটনায় উদ্ভুদ পরিস্থিতিতে ইউএনও’র বদলী আদেশের একদিন না পেরোতেই তা স্থগিত করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার।

এর আগে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে পেকুয়ার ইউএনও সাঈকা সাহাদাতকে বদলী করে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এছাড়া আরেকটি আদেশে কুমিল্লা জেলার ব্রাম্মণপাড়ার ইউএনও নাজমা সিদ্দিকা বেগমকে বদলী করে পেকুয়ায় যোগদানেরও নির্দেশ দেয়া হয়।

কিন্তু এ আদেশের একদিন না পেরোতেই ইউএনও সাঈকা সাহাদাতের বদলী আদেশ প্রত্যাহার করে আগের কর্মস্থলে বহালের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই সাথে কুমিল্লার ব্রাম্মণপাড়ার ইউএনও নাজমা সিদ্দিকা বেগমের বদলী আদেশও প্রত্যাহার করা হয়।

চাল কেলেংকারির অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক সাময়িক বহিস্কার হওয়া জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউপি চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন হাতে আসার পর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখা থেকে পেকুয়া উপজেলার হত-দরিদ্রদের মাঝে বিতরণের জন্য গত ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়। এসবের মধ্যে ২৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এদিকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে পেকুয়ার টৈটং ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য গত ৩১ মার্চ টৈটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর অনুকূলে ১৫ মেট্রিক টন চাল উপবরাদ্ধ দেয়া হয়। ওই বরাদ্ধপত্রে স্বাক্ষর করেন পেকুয়ার ইউএনও সাঈকা সাহাদাত এবং সদস্য বদলী (গত ১৫ এপ্রিল) হওয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সৌভ্রাত দাশ।

এর প্রেক্ষিতে গত ৬ এপ্রিল চকরিয়ার খাদ্য গুদাম থেকে উপবরাদ্ধের চালগুলো টৈটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। কিন্তু চালগুলোর উত্তোলনের পর ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক হত-দরিদ্রদের মাঝে বিতরণের কোন তালিকা (মাস্টাররোল) গত ৬ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেননি।

এ নিয়ে নানা মহলে অভিযোগ উঠার পর গত মঙ্গলবার কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আশরাফ ঘটনার সরেজমিন তদন্তে পেকুয়া যান। সেখানে পৌঁছার পর তিনি ইউএনও, পিআইও, টৈটং ইউপি সদস্য ও ইউপি সচিবসহ চাল বিতরণের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আশরাফ জানিয়েছিলেন, গত মঙ্গলবারই সরকারি ত্রাণের উপবরাদ্ধের চালগুলো বিতরণের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু ঘটনায় যার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ তাকে (ইউপি চেয়ারম্যান) পাওয়া যায়নি। তাকে পাওয়া গেলে ঘটনার মূল রহস্য বেরিয়ে আসত।

পরে ঘটনার তদন্ত শেষে জেলা প্রশাসককে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন বলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।

তবে এ নিয়ে পেকুয়ার ইউএনও সাঈকা সাহাদাত বলেন, চালগুলো নিয়ম মেনে ইউপি চেয়ারম্যানকে তিনি উপবরাদ্ধ দিয়েছেন। এরপর উত্তোলিত চালগুলো ইউপি চেয়ারম্যান কি করেছেন তিনি তা অবগত নন।

এর প্রেক্ষিতে টৈটংয়ের ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলামকে ত্রাণের চাল আত্মসাতের অপরাধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে লিখিতভাবে সুপারিশ করেন বলে জানান কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

কামাল বলেন, “ পরবর্তীতে গত বুধবার জেলা প্রশাসনের কাছে প্রেরিত স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে টৈটংয়ের ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে সাময়িক বহিস্কারের আদেশ জানানো হয়েছে। ”

“ উদ্ভুদ এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের কাছে প্রেরিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয় পেকুয়ার ইউএনও সাঈকা সাহাদাতকে বদলী করে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তৎস্থলে কুমিল্লা জেলার ব্রাম্মণপাড়ার ইউএনও নাজমা সিদ্দিকা বেগমকে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ”

জেলা প্রশাসক বলেন, “ প্রশাসনিক তদন্তে ইউএনও’র কর্তৃক অনিয়মের দেখা মিলেনি। মূলত: ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজশে ত্রাণের চাল আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। ”

তবে ইউএনও সাঈকা সাহাদাতের বদলীর আদেশকে প্রশাসনিক নিয়মিত ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন বলে মন্তব্য করেন কামাল হোসেন।

এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা কর্তৃক আগেরদিনের বদলীর আদেশ স্থগিত করে ইউএনও সাঈকা সাহাদাতকে নিজ কর্মস্থলে বহাল থাকার আরেক আদেশের এক চিঠি শুক্রবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

কামাল বলেন, শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপিত এক চিঠি তিনি পেয়েছেন। এতে পেকুয়ার ইউএনও সাঈকা সাহাদাতের আগের দিনের বদলীর আদেশ স্থগিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া একই আদেশপত্রে কুমিল্লার ব্রাম্মণপাড়ার ইউএনও নাজমা সিদ্দিকা বেগমের বদলী আদেশ স্থগিত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!