‘পাঁচ দিনে দুই রোহিঙ্গা নিহত : আশ্রয়স্থল হারিয়েছে হাজারো রোহিঙ্গা’ : ‘আইওএম’

মঙ্গলবার, ০৯ জুলাই ২০১৯ | ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ | 216 বার

‘পাঁচ দিনে দুই রোহিঙ্গা নিহত : আশ্রয়স্থল হারিয়েছে হাজারো রোহিঙ্গা’ : ‘আইওএম’

জেলার উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫দিনে ভারি বর্ষণ ও ঝড়োহাওয়ায় আশ্রয়স্থল হারিয়েছে হাজারো মানুষ। এসময় প্রাণ হারিয়েছে দুইজন রোহিঙ্গা। এসময় তিন হাজার চারশত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের কারণে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ‘আইওএম’ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানিয়েছেন।

আইওএম’র ন্যাশনাল কমিউনিটি অফিসার তারেক মাহমুদ এক মেইল বার্তায় জানিয়েছন, প্রবল বৃষ্টি এবং ঝড়ো বাতাসের কারণে গত পাঁচ দিনে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হাজার হাজার রোহিঙ্গা তাদের আশ্রয়স্থ হারিয়েছে। মারা গেছে দুই জন রোহিঙ্গা। আশ্রয়স্থল হারিয়েছে দুই হাজার সাতশ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা এবং তিন হাজার চারশরও বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আইওএম এর মুখপাত্র জর্জ ম্যাকলয়েড বলেছেন, বর্ষাকালের মাত্র অর্ধেক সময় পার হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে গত ৭২ ঘন্টায় আমরা দুই হাজার মানুষকে সহায়তা করেছি। আমাদের সকল সদস্য সময়ের সঙ্গে পাল্টা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক পরিমাণ ইতোমধ্যেই ২০১৮ সালের ক্ষয়ক্ষতির থেকেও বেশি হয়েছে। আইওএম কর্মকর্তা এবং স্বেচ্ছাসেবকদল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এই ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখতে পেয়েছেন। বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের কারণে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আইওএম কর্মকর্তা এবং স্বেচ্ছাসেবকদল এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্প জুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত আবাসস্থলগুলো মেরামত এবং মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি আশ্রয়স্থলে নিতে বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন।

গত ৩ থেকে ৫ জুলাই, এই তিন দিনে সবচেয়ে বড় কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫১০ মিলিমিটার। আরেকটি বড় ক্যাম্প- ‘ক্যাম্প ১৬’তে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫৩০ মিলিমিটার।

ইউএনএইচসিআর, ডব্লিউএফপি সহ আইওএম এর যারা অংশীদার আছে তারা সবাই বর্ষাকাল এবং সাইক্লোন এর সময়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ২০১৮ সালের শেষের সময়কাল থেকে তারা প্রস্তু ছিল। ক্যাম্প এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠির মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রচারণা চালানোর মধ্য দিয়ে এই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
‘আইওএম’র হিসাব মতে, গত ২ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত থাকা প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হচ্ছে- ভুমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ১ হাজার ১৮৬ টি, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ২১৬টি, ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ১ হাজার ৮৪০ টি, বন্যায় অথবা অন্যান্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৫৩৪ জন। ভূমিধস হয়েছে ৩৯১টি, ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে ৫১ বার এবং গতকাল রাত পর্যন্ত (৭ জুলাই) জন্য হয়েছে ২৬ বার।
গত ২৪ ঘন্টায় আইওএম এর ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে- আরও ১৩ টি ভূমিধস হয়েছে, নয় বার ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে এবং দুটি বন্যায় দুই হাজার ২শ ব্যক্তি এবং ৪৩২ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। এতে আরও বেশী ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!