নিরিবিলি বেড়াতে আসছে বর্ষায় কক্সবাজার

বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০১৯ | ৩:২৪ পূর্বাহ্ণ | 462 বার

নিরিবিলি বেড়াতে আসছে বর্ষায় কক্সবাজার

মানুষের ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলি ভ্রমণ যাদের পছন্দ, তাদের কক্সবাজার যেতে হবে বর্ষায়।

এই ঋতুতে কক্সবাজার যেন বদলে যায় পুরোপুরি। সৈকতে পর্যটকের ভিড় থাকেনা, আবার কম খরচেও বেড়ানো যায়। বাদল দিনের নির্জন সৈকতে বেড়াতে চাইলে দুতিন দিনের সময় নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন পর্যটন শহর কক্সবাজার থেকে।
ঢাকা থেকে রাতের বাসে চড়ে চলে যান কক্সবাজার। পছন্দসই কোনো হোটেলে উঠে পড়ুন।

এ ভ্রমণের প্রথম দিন রাখতে পারেন সৈকত ভ্রমণের জন্য। কক্সবাজার শহরে সমুদ্র সৈকতের তিনটি জনপ্রিয় পয়েন্ট হল লাবনী, সুগন্ধা ও কলাতলী।

লাবনী ও সুগন্ধা সৈকতে পর্যটকের আনাগোনা অপেক্ষাকৃত বেশি। কলাতলী পয়েন্টে সবসময়ই পর্যটক কম থাকে। তিনটি সৈকতই পাশাপাশি। পছন্দসই যে কোনো সৈকতে বেড়াতে পারেন। ইচ্ছে হলে ছাতার নিচে আরামচেয়ার ভাড়া নিয়েও সমুদ্র উপভোগ করতে পারেন।

তবে বর্ষায় সমুদ্র স্নানের জন্য নিরাপদ জায়গা লাবনী ও সুগন্ধা সৈকত। কারণ এ দুটি সৈকতেই সার্বক্ষণিত লাইফ গার্ড আছে। দিনের প্রথম অংশ রাখতে পারেন সমুদ্র স্নানের জন্য। দ্বিতীয় অংশ সৈকতে ঘুরে বেড়ান। সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখতে ভুলবনে না। ইচ্ছে হলে রাত অবধি তিনটি সৈকতেই থাকতে পারেন।

বর্ষায় কক্সবাজার ভ্রমণের দ্বিতীয় দিনে যেতে পারেন হিমছড়ি ও ইনানী। কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোল ঘেঁষা হিমছড়ি সমুদ্র সৈকত। এখানকার পাহাড়ে উঠে চোখের সামনে দেখুন সামনে বিস্তৃত নীল সমুদ্র। এছাড়া বর্ষায় হিমছড়ির পাহাড়ের হিম শীতল ঝরনাগুলোও প্রাণ ফিরে পায়। এ পাহাড়ের উপরে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন। এখানকার সমুদ্র সৈকত স্নানের জন্য উপযোগী নয়।

তাছাড়া বর্ষায় এ সৈকতে ঢেউও বেশি থাকে। দুপুরের খাবার সেরে চলে যেতে পারেন ইনানী সমুদ্র সৈকত।

হিমছড়ি থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার পূর্ব দিকে আরেকটি আকর্ষণীয় সৈকত ইনানী। এখানে রয়েছে পাথুরে সৈকত। সমুদ্র থেকে ভেসে এসে এখানকার ভেলাভূমিতে জমা হয়েছে প্রচুর প্রবাল পাথর। সেন্টমার্টিন সমুদ্র সৈকতের সঙ্গে ইনানীর কিছুটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এ সৈকতে বেড়িয়ে সময় থাকলে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে আরও কিছুটা সামনে ঘুরে আসতে পারেন। সন্ধ্যার মধ্যেই ফিরে আসুন হোটেলে।

হিমছড়ি আর ইনানী ভ্রমণে পর্যটকের সংখ্যা অনুযায়ি সারা দিনের জন্য ভাড়া নিতে পারেন অটো রিকশা কিংবা জিপ। অটো রিকশায় তিনচার জন আর জিপে ১০ থেকে ১২ জন পর্যন্ত ভ্রমণ করা যায়।

কক্সবাজার শহর থেকে সারা দিনের জন্য একটি অটো রিকশার ভাড়া ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা। ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা ১ হাজার টাকা এবং সিএনজি চালিত অটো রিকশা পাওয়া যাবে ১ হাজার ৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকায়। জিপের ভাড়া পড়বে ৩ হাজার ৫শ’ থেকে ৫ হাজার টাকা।

ভ্রমণের তৃতীয় দিনে যেতে পারেন রামু। তবে এদিন খুব সকালে উঠে যেতে পারেন শহরের ফিশারি ঘাটে। কক্সবাজার বিমান বন্দরের পাশে বাকখালী নদীর তীরের ফিশারি ঘাটে খুব সকালে দেখা যাবে প্রচুর সামুদ্রিক মাছ।

ফিসারি ঘাট দেখে সকালের খাবার সেরে রওনা দিতে পারেন রামুর উদ্দেশ্যে। কক্সবাজার শহরের পার্শ্ববর্তী এ থানায় আছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বেশ কিছু কেয়াং ও প্যাগোডা। রামুর বৌদ্ধ মন্দির ঘুরে যেতে পারেন ডুলাহাজারায় বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে।
কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে রয়েছে এই সাফারি পার্ক। কক্সবাজার জেলার ডুলাহাজরা বনাঞ্চলের ডুলাহাজরা ও হারগোজা ব্লকের প্রায় ৯০০ হেক্টর জায়গার এই পার্কে দেখা মিলবে নানান রকম প্রাণী।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!