অপহরন নাটক

নিজের মেয়েকে দিয়ে অপহরণ নাটক সাজিয়ে ধরা খেলো বাবা

সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৯ | ৬:১৫ অপরাহ্ণ | 1058 বার

নিজের মেয়েকে দিয়ে অপহরণ নাটক সাজিয়ে ধরা খেলো বাবা

প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য নিজের মেয়েকে দিয়ে অপহরন নাটক করে সাড়ে ৬ মাস লুকিয়ে রাখা কলেজছাত্রীকে চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টস থেকে উদ্ধার করেছে পিবিআইর তদন্তকারী দল। উদ্ধারকৃত কলেজ ছাত্রীর নাম জুুলেখা বেগম ঝিনুক (১৯)। সে কুতুবদিয়া উপজেলার আলীআকবর ডেইল ইউনিয়নের কাজীপাড়ার নুর মোহাম্মদ বাবুলের কন্যা। জুলেখা বেগম ঝিনুক কুতুবদিয়া মহিলা কলেজের এইসএসসি প্রথমবর্ষের ছাত্রী। সোমবার ১৫ এপ্রিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) এর বাহারছরাস্থ কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওসি মেজবাহ উদ্দিন এ তথ্য জানান।কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) জেবুন্নেছা আয়শার আদালতে বিগত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর নুর মোহাম্মদ বাবুল বাদী হয়ে তাঁর মেয়ে জুলেখা বেগম ঝিনুককে অপহরণ করা হয়েছে দাবী করে একই এলাকার আলাউদ্দিন, আনোয়ার হোসেন সহ ৪ জনকে আসামী করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর সিপি:৬৬০/২০১৮। বিচারক মামলাটি প্রাথমিকভাবে আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পিবিআই কক্সবাজার অফিস কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পেয়ে পিবিআই মামলা টি তদন্ত করার জন্য একই অফিসের ইন্সপেক্টর মনির হোসেনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেন।ইন্সপেক্টর মনির হোসেন মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে পিবিআই এর আইসিটি বিশেষজ্ঞ দলের সাহায্য নিয়ে চট্টগ্রামের মোহরা ইপিজেড এলাকার একটি গার্মেন্টসে জুলেখা বেগম ঝিনুকের অবস্থান শনাক্ত করেন। মামলা দায়েরের প্রায় সাড়ে ৬ মাস পর পিবিআই চট্টগ্রামের মোহরা ইপিজেড এলাকার উক্ত গার্মেন্টসে গত ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে তথাকথিত অপহৃতা জুলেখা বেগম ঝিনুককে উদ্ধার করে।মামলার আইও মনির হোসেন সিবিএন-কে জানান-উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আদালতে শীঘ্রই বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও উদ্ধারকৃত ভিকটিমকে উপস্থাপন করা হবে। জুলেখা বেগম ঝিনুক তদন্তকারী দলের কাছে স্বীকার করেছে-তার পিতা নুর মোহাম্মদ বাবুল তাকে গার্মেন্টস চাকুরীরত অবস্থায় লুকিয়ে রেখে অপহরণের নাটক সাজিয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিল। এই মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে, তারা সকলেই নুর মোহাম্মদ বাবুলের দীর্ঘদিনের পারিবারিক শত্রু বলে জুলেখা বেগম ঝিনুক তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অকপটে স্বীকার করেছে। ইন্সপেক্টর মনির হোসেন সিবিএনকে আরো জানান, লুকিয়ে থাকা অবস্থান থেকে উদ্ধার করে আনা ভিকটিম জুলেখা বেগম ঝিনুক এখন পিবিআইর হেফাজতে রয়েছে। আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পর মিথ্যা মামলা দায়েরকারীর বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রেস ব্রিফিং এ পিবিআই কক্সবাজার অফিসের ওসি মেজবাহ উদ্দিন, মামলার আইও ইন্সপেক্টর মনির হোসেন, ইন্সপেক্টর শাহ আলম ও ভিকটিম জুলেখা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!