এইমাত্র পাওয়া

x

নানা সমীকরনে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন

রবিবার, ২৩ জুন ২০১৯ | ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ | 129 বার

নানা সমীকরনে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন

অনেকটাই প্রাণহীন হয়ে উঠছিল বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব। শেষমেশ জৌলুসটা ফিরিয়ে আনলো শ্রীলংকা। তাও আবার এই বিশ্বকাপের হট ফেভারিট ইংল্যান্ডকে হারিয়ে। শ্রীলংকার এই জয় বাংলাদেশের জন্য হয়েছে আশীর্বাদ। অনেকটাই জমে উঠেছে সেমিফাইনালের সমীকরণ।

যে ইংল্যান্ডকে ভাবা হচ্ছিলো বিশ্বকাপের অন্যতম দাবীদার, তারাই এখন সেমিফাইনালের আগেই বাদ পড়ে যেতে পারে। সম্ভাবনা তাই জেগে উঠেছে বাংলাদেশের। শেষ তিন ম্যাচে নিজেদের কাজটা ঠিকভাবে করলে ও অন্যান্য সমীকরণগুলো মিলে গেলেই তবে মিলে যাবে সেমিফাইনালের টিকেট। সম্ভাবনায় এখন হিসেব কষছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজও। তবে আরও জমে উঠতো এই সমীকরণ যদি আফগানিস্তান ভারতের বিপক্ষে জয় পেয়ে যেতো।

সমীকরনের প্রথম শর্ত হলো ইংল্যান্ডকে হারতে হবে তাদের শেষ তিন ম্যাচেই। তাদের বাকি তিন ম্যাচের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও নিউজিল্যান্ড। এখানে বাংলাদেশের জন্য আশা জাগানিয়া তথ্য হলো, গত ২৭ বছরে এই তিন দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে কখনো জিততে পারেনি ইংলিশরা। ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল ১৯৯২ বিশ্বকাপে আর নিউজিল্যান্ডকে শেষবার হারিয়েছিল ১৯৮৭ বিশ্বকাপে। ইংল্যান্ডের জন্য কাজটা তাই সহজ হবে না মোটেও।

ইংল্যান্ড তিন ম্যাচ হারলে সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে বাংলাদেশের। ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার চারে রয়েছে ইয়ন মরগ্যানের দল। ৬ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৫। মাশরাফিদের বাকি ৩ ম্যাচের প্রতিপক্ষ এশিয়ার তিন দল আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তান। ইংল্যান্ড যদি শেষ তিন ম্যাচে হেরে যায় তাদের পয়েন্ট থাকবে ৮ পয়েন্টই সেক্ষেত্রে পয়েন্ট তালিকায় ইংল্যান্ডকে টপকাতে হলে বাংলাদেশকে জিততে হবে অন্তত দুটো ম্যাচ। তখন বাংলাদেশের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৯, আর পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ দল হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। মাশরাফিরা যদি তিনটি ম্যাচেই জিততে পারে তাহলে পয়েন্ট হবে ১১, আর তখন সম্ভাবনার দরজা খুলে যাবে আরও বেশি।

সমীকরন আরও আছে। ইংল্যান্ড দুটো ম্যাচে হারলে আর একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত বা টাই হয়, তখন বাংলাদেশের সেমির স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে। তখন ইংল্যান্ড আর বাংলাদেশ দুই দলেরই পয়েন্ট হবে ৯। এ বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, দুই দলের পয়েন্ট সমান হয়ে গেলে যে দলের জয় বেশি তারাই যাবে পরের পর্বে। যদিও ৪টি করে জয় নিয়ে তখন সমতায় থাকবে দুই দল। এরপর দেখা হবে রান রেট। যেখানে বাংলাদেশের চেয়ে বিস্তর ব্যবধানে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। তাছাড়া বাংলাদেশকে ১০৬ রানে হারানোয় ইংল্যান্ড এগিয়ে আছে হেড-টু-হেডে। বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য তাই তিন ম্যাচেই ইংল্যান্ডের হারের কোনো বিকল্প নেই।

সমীকরনে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও ভালো সম্ভাবনা আছে। লঙ্কানদের ম্যাচ বাকি তিনটি। ইংল্যান্ড যদি তিন ম্যাচেই হেরে যায়, আর ৬ ম্যাচ শেষে ৬ পয়েন্ট পাওয়া শ্রীলঙ্কা যদি দুটো ম্যাচ জিতে যায়, তখন তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ১০। সেমিফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশকে তখন জিততে হবে তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই। ইংল্যান্ডের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার পরাজয়ও লাগবে বাংলাদেশের।

সেমিফাইনালে যেতে হলে অন্য ম্যাচগুলোর ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। পাশাপাশি নিজেদের শেষ ম্যাচগুলোতে দুই দলকেই অন্তত ৩টি করে ম্যাচ জিততে হবে। তবে এই দুই দলের আনপ্রেডিক্টেবল রেকর্ড বলে যে, অসম্ভব কিছু নয়।

লংকানদের এই জয় আপাতত নানা সমীকরনের জন্ম দিলেও সেমিফাইনালে যেতে হলে নিজেদের ম্যাচগুলো জিততে তো হবেই, পাশাপাশি অন্য ম্যাচগুলোর ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। যদি ভাগ্য সহায় হয় মাশরাফি-সাকিবদের সঙ্গে ষোল কোটি বাংলাদেশিরও আকাঙ্খা তবে পূরন হবে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!