দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায়: মাছ শূন্য মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৮:০৫ অপরাহ্ণ | 127 বার

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায়: মাছ শূন্য মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাগরে মাছ শিকার বন্ধ রয়েছে। এতে মাছ শূন্য কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। অন্যদিকে বেকার হয়ে পড়েছেন জেলেরা। জেলেদের দাবি, একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আর ঘন ঘন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দিন দিন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন তারা। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কাটিয়ে কিছুদিনের মধ্যে সামুদ্রিক মাছে আবারও জমজমাট হয়ে উঠবে বলে আশা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপকের।
বুধবার সকালের দৃশ্য বাঁকখালী নদীর মোহনায় নোঙর করা শত শত মাছ ধরার ট্রলার। হঠাৎ করে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে সাগরে বন্ধ রয়েছে মাছ শিকার। ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন ট্রলারের শত শত জেলে। নিষেধাজ্ঞা আর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় দিনদিন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন বলে দাবি জেলেদের।

ফিশারীঘাট এলাকায় নোঙর করা মহেশখালীর জেলে ছুরত আলম বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গত ১০ দিন ধরে সাগরে মাছ শিকারে যেতে পারেনি। যার কারণে ট্রলারে বসে বসে দিন কাটছে। তবে গতকাল বুধবার সতর্ক সংকেত কেটে যাওয়ার পর সাগরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম। কিন্তু এখনো সাগর উত্তাল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া যাচ্ছে না।
খুরুশকুল এলাকার জেলে রশিদ বলেন, সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছি না। এভাবে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখলে দিন দিন আমাদের আরো অবনতি হবে। দিন দিন ঋণে জর্জরিত হয়ে যাচ্ছি।

সাগরে ট্রলার যেতে না পারায় সামুদ্রিক মাছ শূন্য কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। তবে চট্টগ্রাম থেকে হিমায়িত কিছু মাছ বিক্রি করে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানালেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে মাছ ব্যবসায়ী রহিম বলেন, দুর্যোগ আবহাওয়ার কারণে গত আট-দশদিন সাগরে যেতে পারিনি। যে কারণে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে সামুদ্রিক মাছ এখন নেই বললেই চলে।

আরেক মাছ ব্যবসায়ী রিয়াদ উদ্দিন বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সামুদ্রিক না থাকায় অবশেষে চট্টগ্রাম থেকে হিমায়িত কালো রুপচাদা, পোপা, রিটা ও সুরমা মাছ কিনে এনেছি। যা এখানকার স্থানীয় বাজারের মাছ ব্যবসায়ীদের বিক্রি করছি।
মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সমুদ্র উত্তাল, সমুদ্রে মাছও ধরতে যেতে পারছে না জেলেরা। এ কারণে আমাদের রাজস্ব আয়ও কমে গেছে। আশা করছি, খুব শীঘ্রই এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কমে যাবে। আবারও সামুদ্রিক মাছে অবতরণ কেন্দ্রটি সরগরম হয়ে উঠবে।”

কক্সবাজার জেলায় নিবন্ধিত মাছ ধরা ট্রলার রয়েছে প্রায় ৬ হাজার। আর নিবন্ধিত জেলের সংখ্যাও প্রায় অর্ধ-লক্ষাধিক। তবে এখনো লক্ষাধিক জেলে অনিবন্ধিত রয়ে গেছে বলে দাবি ট্রলার মালিক, মৎস্য ব্যবসায়ী ও মৎস্য শ্রমিকদের।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!