এইমাত্র পাওয়া

x

দুদকের জালে স্ত্রীসহ ১২ পুলিশ কর্মকর্তা

বৃহস্পতিবার, ০১ আগস্ট ২০১৯ | ৩:০৬ অপরাহ্ণ | 109 বার

দুদকের জালে স্ত্রীসহ ১২ পুলিশ কর্মকর্তা

দুদকের জালে স্ত্রীসহ ১২ জন পুলিশ কর্মকর্তা। এর মধ্যে আছেন চট্টগ্রাম নগরীর তিন থানার ওসি (অফিসার ইনচার্জ)। বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন করা ৯ জন ওসি এবং টিআইও আছেন। স্ত্রীসহ তাদের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজনের অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে। তাদের অবৈধ আয় ও সম্পদের খোঁজও পেয়েছে দুদক। আরো কয়েকজনকে স্ত্রীসহ নিজের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের একটি সূত্র বলেছে, পুলিশ পরিদর্শক আবুল কাশেম ভুঁইয়া, জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ মহসীন, প্রদীপ কুমার দাশ, রনজিত কুমার বড়ুয়া, মো. শাহজাহান, এস এম ময়নুল ইসলাম, আলমগীর মাহমুদ, মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম, ট্রাফিক পরিদর্শক মীর নজরুল ইসলাম, আবুল কাশেম চৌধুরী ও এবিএম শাহাদাৎ হোসেনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে। এদের প্রায় সকলেই চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন থানায় নানা সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেকে বেশ কয়েক বছর কক্সবাজারের টেকনাফসহ ইয়াবা অধ্যুষিত থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

দুদক চট্টগ্রাম জেলার দুই কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এসব অনুসন্ধানের দায়িত্বে রয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গেও সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে এদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে। সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ পরিদর্শক আবুল কাশেম ভুঁইয়া বর্তমানে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ওসি হিসেবে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। বন্দর থানায় কর্মরত থাকাকালীন ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

পুলিশ পরিদর্শক জসিম উদ্দিন বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশে কর্মরত রয়েছেন। সর্বশেষ তিনি নগরীর আকবর শাহ থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি কোতোয়ালী থানার ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কঙবাজার জেলায়ও কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।

মোহাম্মদ মহসীন বর্তমানে কোতোয়ালী থানার ওসি হিসেবে রয়েছেন। তিনি বাকলিয়া, বায়েজিদ বোস্তামী হয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশে দায়িত্ব পালন করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব এ পুলিশ কর্মকর্তা বিভিন্ন বিষয়ে সুনামও কুড়িয়েছেন। তার বিরুদ্ধে উঠেছে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ। গত সপ্তাহে স্ত্রীসহ তার সম্পদ বিবরণী তলব করে নোটিশ দেয় দুদক।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি হিসেবে রয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশ। তিনি নগরীর পাঁচলাইশ, বায়েজিদ বোস্তামী থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সালে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি থাকাকালীন সুপার রিফাইনারি লিমিটেডের চেয়ারম্যান শিল্পপতি সেলিম আহাম্মদের বিরুদ্ধে তেল পাচারের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন। পরে চাকরি ফিরে পেয়ে মহেশখালী থানায় পদায়িত হয়ে দায়িত্ব পালন করে সুনাম কুড়ান। এখন টেকনাফে ইয়াবার বিরুদ্ধে অভিযানে ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমানে তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

পুলিশ পরিদর্শক রনজিত কুমার বড়ুয়া বর্তমানে ফেনী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ২০১৮ সালে টেকনাফ মডেল থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে নগরীর পাহাড়তলী থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানকালেও তিনি একাধিক ব্যাংকের এফডিআর ভাঙিয়েছেন বলে জানতে পারেন দুদক কর্মকর্তারা। সাউথ ইস্ট ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংকে নামে-বেনামে তার একাধিক স্থায়ী আমানতের হদিস পায় দুদক।

সন্দ্বীপ থানার বর্তমান ওসি মো. শাহজাহান। এর আগে তিনি লোহাগাড়া থানায় কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

পুলিশ পরিদর্শক এস এম ময়নুল ইসলাম বর্তমানে জামালপুর দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি নগরীর বন্দর থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শিবগঞ্জ ও বগুড়া জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।

কর্ণফুলী থানার ওসি আলমগীর মাহমুদ। এর আগে তিনি জেলার শিল্প পুলিশ, নগরীর পতেঙ্গা ও আকবর শাহ থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। বোয়ালখালী থানার সাবেক ওসি মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম বর্তমানে কুমিল্লার চান্দিনা থানার ওসি হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি সন্দ্বীপ থানার ওসির দায়িত্ব পালন করেন। তিনিও অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন-এমন অভিযোগে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক।

টিআই (ট্রাফিক পরিদর্শক) মীর নজরুল ইসলাম বর্তমানে জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা জানতে পারেন মীর নজরুল ও তার স্ত্রীর নামে ঢাকার উত্তরায় বাড়ি রয়েছে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে দুদক প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা।

আরেক ট্রাফিক পরিদর্শক আবুল কাশেম চৌধুরী বন্দর জোনের টিআই প্রশাসন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কয়েক মাস আগে তিনি বদলি হন। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। তিনি ও তার স্ত্রীর নামে-বেনামে অনেক সম্পদ রয়েছে বলে জানতে পারে দুদক। আবুল কাশেম চৌধুরী পরিবহন ব্যবসায় জড়িত থাকার বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে।
নগর পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবিএম শাহাদাৎ হোসেন মজুমদার। তিনি ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক।

দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-পরিচালক লুৎফর রহমান চন্দন বলেন, আমাদের কার্যালয়ে তিনজন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। এর মধ্যে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে এবং মামলার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তাছাড়া অন্য দুই ইন্সপেক্টরের বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, জেলা কার্যালয়-১ বেশ কয়েকজন ওসির বিষয়ে অনুসন্ধান করছে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!