মার্কিন ও চীনা প্রতিনিধি দলের ক্যাম্প পরিদর্শন

দুই শর্তে স্বদেশে ফিরতে রাজি শূন্যরেখার রোহিঙ্গারা

সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৮:৩৪ অপরাহ্ণ | 121 বার

দুই শর্তে স্বদেশে ফিরতে রাজি শূন্যরেখার রোহিঙ্গারা

‘নিরাপত্তা ও নিজ ভিটে মাটিতে বসবাসের’ নিশ্চয়তা পেলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফিরতে রাজী; চীনা প্রতিনিধি দলটির কাছে সাধারণ রোহিঙ্গারা এমনটি অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিনয়নের তুমব্রু সীমান্তের কোনার পাড়া শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গারা পরিদর্শনে আসা চীনা প্রতিনিধি দলের সদস্যদের কাছে এ অভিব্যক্তি তুলে ধরেছেন।

রোববার বিকেলে চীনের প্রতিনিধি দল এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু দ্দৌজা।
তবে রোহিঙ্গা নেতারা এ নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করে বলেন, শুধুমাত্র দুই শর্ত নয়; মিয়ানমারের অন্য জাতিসত্ত্বার নাগরিকদের মত পূর্ণ নাগরিক অধিকার দিলেই রোহিঙ্গারা এখনই স্বদেশে ফিরে যাবে।

সামছু দ্দৌজা বলেন, রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান চীনের প্রতিনিধিদলটি। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি সেখান থেকে গাড়িযোগে দুপুর ১টার দিকে বান্দরবানের ঘুমধুমের তুমব্রু কোনারপাড়া সীমান্তে জিরো লাইনের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিদর্শন করেন। তারা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে সেখানককার বেশ কয়েকজন সাধারণ রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজ খবর নেন।

“ চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং গাড়ী থেকে নেমে সরাসরি শূন্যরেখায় ঢুকেন। তিনি সেখানে হেটে হেটে ৬ থেকে ৮ জন রোহিঙ্গা সাধারণ রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেন। তবে চীনা দূত তুমব্রু শূন্যরেখায় আশ্রয় নেয়া কোন রোহিঙ্গা নেতার সঙ্গে কথা বলেননি।
চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে শূণ্যরেখায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কি বিষয়ে আলাপ হয়েছে জানতে চাইলে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার সামছু দ্দৌজা বলেন, “ চীনের রাষ্ট্রদূতের কাছে রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং নিজ ভিটে মাটিতে বসবাসের নিশ্চয়তা পেলে তারা ( রোহিঙ্গারা) মিয়ানমার ফিরে যাবে। ”
তবে সাধারণ রোহিঙ্গাদের এ ধরণের অভিব্যক্তির সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন তমব্রু সীমান্তের কোনার পাড়া শূণ্যরেখা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ।
দিল মোহাম্মদ বলেন, শুধুমাত্র দুই শর্ত হবে কেন? আমরা তো মিয়ানমারের নাগরিক। মিয়ানমারের নাগরিকদের যা যা অধিকার আছে, ঠিক সেসব অধিকার ফিরিয়ে দিলে আমরা (রোহিঙ্গারা) এখনই ফিরে যাবো।

এ রোহিঙ্গা নেতা বলেন, “ চীনের রাষ্ট্রদূত তমব্রু শূণ্যরেখায় এসে তড়িগড়ি করে দুইজন শিশু ও দুইজন বয়স্ক রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে চলে যান। যেখানে আমাদের (রোহিঙ্গা নেতাদের) যেতে দেয়নি। তার মানে এ নয় যে, দুই শর্ত আমরা (রোহিঙ্গারা) ফিরতে রাজি। এখানে (শূণ্যরেখার ক্যাম্পে) সাড়ে ৪ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা রয়েছে। ”
অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার সামছু দ্দৌজা বলেন, তমব্রু শূণ্যরেখার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে চীনা প্রতিনিধি দলটি ঘুমধুম সীমান্তের বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সেতু সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট এলাকা পরিদর্শনে যান। সেখানে দলটির সদস্যরা ওপাড়ে অবস্থানরত মিয়ানমারের কয়েকজন বিজিপি সদস্যের সঙ্গেও কথা বলেন।

পরে চীনের প্রতিনিধি দলটির সদস্যরা গাড়িযোগে কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে পৌঁছেন। সেখানে রোহিঙ্গা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আধা ঘন্টাব্যাপী বৈঠক করেন। এরপর তারা হোটেলে চলে যান। দলটির সদস্যরা আজ ও কাল সোমবার কক্সবাজার অবস্থান করবেন। কাল সোমবার আবারও প্রতিনিধি দলটির রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।
তবে প্রতিনিধি দলের প্রধান বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

অপরদিকে রোববার সকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার নেতৃত্বে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান মার্কিন প্রতিনিধি দলটি। এরপর সেখান থেকে দুপুরে প্রতিনিধিদলটি যান কুতুপালং ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।
সেখানে প্রতিনিধি দলটি রোহিঙ্গাদের সাথে প্রত্যাবাসন ইস্যুতে কথা বলেন এবং রোহিঙ্গাদের সেবা ও খাদ্য সহায়তার কার্যক্রমগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। তারপর বিকেল ৪টার দিকে তারা কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

প্রসঙ্গত যে, গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াতেও প্রতিনিধি দল পাঠায় চীন। চীনের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার। কিন্তু রোহিঙ্গারা রাজি না হওয়ায় দ্বিতীয়বারের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটিও ভেস্তে যায়।
উল্লেখ্য যে, বিগত ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন শুরু করে। এতে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়।

এ নিয়ে নতুন পুরনোসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি শিবিরে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!