এইমাত্র পাওয়া

x

প্রস্থ ১৮ থেকে হবে ৩২ ফুট

দুই লেনে উন্নীত হচ্ছে মেরিন ড্রাইভ সড়ক

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫:২৯ অপরাহ্ণ | 427 বার

দুই লেনে উন্নীত হচ্ছে মেরিন ড্রাইভ সড়ক

পর্যটকদের ভ্রমণ ও আগত বিদেশীদের চলাচলের সুবিধার্তে খুব শীঘ্রই কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক দুই লেনে উন্নীত হচ্ছে। ৮০ কিলোমিটারের বেশী সড়কটি উন্নীত করণে ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সুত্রে জানা যায়, বর্তমান মেরিন ড্রাইভটি ১৮ ফুট। যেহেতু রাস্তার ছোট তাই অধিক যানবাহন চলাচলের ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলাচলরত গাড়ীগুলো এই সড়কটি ব্যবহার করছে। পাশাপাশি কোন রাষ্ট্র প্রধান আসলেও এই সড়ক ব্যবহার করছে। তাই এই সড়কটি ১৮ ফুট থেকে ৩২ ফুটে উন্নীত করতে চায় সরকার। ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প নিয়ে পরিকল্পনার কাজ চলছে। যা খুব কম সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এর উন্নীত করণ কাজ শুরু হবে বলেও জানা গেছে।
কলাতলী-মেরিনড্রাইভ হোটেল-মোটেল অনার্স এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মুকিম খান বলেন, এখন রাস্তার প্রস্থ ছোট হওয়ায় অনেক অসুবিধায় পড়ছে আগত পর্যটকরা। দুই লেনে উন্নীত হলে পর্যটকরা নির্বিঘেœ যাতায়াত করতে পারবে। তাছাড়া দুই পাশে যদি একটু বিনোদনমূলক প্রতিষ্ঠান করা যায় তাহলে আরও বেশী পর্যটকরা মেরিন ড্রাইভমুখী হবে।
মেরিন ড্রাইভ সড়কে চলাচলরত কার, মাইক্রো ও নোয়া মালিক সমিতির নেতা মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, রাস্তা ছোট হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটে। রাস্তা যদি বড় হয় তাহলে এসব দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। ফাঁকা সড়ক থাকায় অনেক যানবাহন বেপরোয়া চলাচল করে। তাদের দমনে ট্রাফিক ব্যবস্থারও দাবি জানান তিনি।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, যানবাহন চলাচলের সুবিধার্তে মেরিন ড্রাইভটি উন্নীত করতে চাই সরকার। রাস্তাটির এই মুহুর্তে উন্নীত করে পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এরপর এটি প্রকল্প হিসেবে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। যেহেতু এ সড়কটি নিয়ে সরকার খুবই আগ্রহী। তাই খুব কম সময়ের মধ্যে এর উন্নীত করণ কাজ শুরু হবে।
রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারে বিভিন্ন প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এ সড়ক না থাকলে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা কঠিন হতো। এটি ছিল বলে এতো বিদেশী অতিথিরা সহজে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যেতে পেরেছে। তাই আগামী দিনের কথা চিন্তা করে সরকার এ সড়ক ৩২ ফুটে উন্নীত করতে চাই। এ প্রকল্পে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের ৬ মে সড়কটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমুদ্র সৈকতের ধার ঘেঁষে ৮০ কিলোমিটার সড়কটির ইনানিতে উদ্বোধন করেন তিনি। পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় এলাকাটিতে দ্রুত সড়ক যোগাযোগ সম্ভব করতে ১৯৯৯ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন এটি নির্মাণ করে। মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পটিতে মোট ব্যয় হয়েছে ৪৫৬ কোটি টাকা। তিনটি ধাপে এটি বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রথম ধাপে কলাতলি থেকে ইনানি পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার, পরের ধাপে শিলখালি থেকে টেকনাফ সদর পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার ও শেষ ধাপে শিলখালি থেকে টেকনাফের সাবারাং পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার পর্যন্ত সড়ক তৈরি করা হয়।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!