কক্সবাজার ও রামুতে পৃথক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

`দলের আবর্জনা সম্মেলনের আগে পরিষ্কার করতে হবে’

রবিবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৯ | ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ | 83 বার

`দলের আবর্জনা সম্মেলনের আগে পরিষ্কার করতে হবে’

আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন, পরপর ৩ বার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার কারণে আমাদের দলে অনেক অনুপ্রবেশে ঘটেছে। এখন সবাই আওয়ামীলীগ হতে চায়, সবাই আওয়ামীলীগের নৌকায় উঠতে চায়। আমাদের সবাইকে আওয়ামীলীগের নৌকায় তোলার প্রয়োজন নেই। যে সমস্ত অনুপ্রবেশকারী ইতিমধ্যেই ঢুকেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।

তিনি বলেন, এক সময় যারা আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধাচরণ করতো, তারা নানাভাবে পদ পদবী পেয়েছে। এ আবর্জনা সম্মেলনের আগেই পরিষ্কার করতে হবে। পরীক্ষিত নেতাকর্মীরাই পদ-পদবির দাবিদার।

শনিবার সকালে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে, তাই মাদক নির্মূলে দলের সবাইকে কাজ করতে হবে। দলের কারণে আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায়। দল আমাদেরকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিয়ে গেছে। কিছু মানুষের কারনে আমাদের দলের দুর্নাম হতে পাওে না। তাই তিনি এ ব্যাপারে দলের সকল নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

উন্নয়ন কর্মকান্ডে যেন কোন উইপোকা খেয়ে না পেলে সে জন্য দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান তথ্য মন্ত্রী।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফার সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক এবং পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সংরক্ষিত আসনের সাংসদ কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদি, কক্সবাজার পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. নজিবুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়সহ জেলার শীর্ষ নেতারা। সেখান থেকে মন্ত্রী রামুর উদ্দেশ্যে রওনা।

॥ রামু ॥

অপরদিকে রামুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন, আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনে কোন আবর্জনা থাকবে না। অচিরেই দলে ছাকুনি দিয়ে সকল আবর্জনা ফেলে দেয়া হবে। কেবল ত্যাগী নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের মাধ্যমেই দলকে এগিয়ে নেয়া হবে।

আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধিন সরকারের উন্নয়ন-কর্মকান্ড তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিগত ১০ বছর আগের চেয়ে দেশের উন্নয়নের তুলনা এখন যে কেউই করতে পারবে। ১০ বছর আগে যেখানে সাঁকো দিয়ে পার হতে হতো, সেখানে এখন পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কক্সবাজার-রামুতে এমপি সাইমুম সরওয়ার কমলের নেৃতৃত্বেই অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলে আগামীতে এমপি কমলের হাতকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে আওয়ামীলীগকে শক্তিশালী করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করে দেশের অর্থনীতিকে আরো চাঙ্গা করার জন্য অনেক অর্জন বয়ে এনেছেন। অথচ বিএনপি নেতারা উল্টো অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আওয়ামীলীগের কোন উন্নয়ন তারা চোখে দেখেনা।

কক্সবাজারের রামুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধুর পরিবারবর্গ এবং রামু উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা কীর্তিমান ব্যক্তিদের ইছালে ছওয়াব/পারলৌকিক শান্তি কামনায় আয়োজিত মিলাদ মাহফিল ও বিশাল মেজবান উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে রামু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল।

রামু উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি রিয়াজ উল আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ জাফর আলম, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান প্রমূখ।

মেজবানে অতিথিবৃন্দের মধ্যে অংশ নেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সারুল হক জুয়েল, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল আবছার, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি জাফর আলম চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক এডভোকেট তাপস রক্ষিত, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ শাহজাহান, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাহেদ সরওয়ার সোহেল, দৈনিক কালের কন্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশ ফেড়ারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সদস্য দৈনিক কক্সবাজার এর পরিচালনা সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম ও এডভোকেট আয়াছুৃর রহমান, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মুসরাত জাহান মুন্নী, সহকারি কমিশনার (ভূমি) চাই থোয়াইলা চৌধুরী, রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের, ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি মো. সালাহ উদ্দিন, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টেও ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্ত ভূষন বড়ুয়া, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলী হোসেন, কক্সবাজার জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি জহির উল্লাহ সিকদার, চ্যানেল আই ও দৈনিক আমাদের সময় এর স্টাফ রিপোর্টার সরওয়ার আজম মানিক, দৈনিক সকালের কক্সবাজার পত্রিকার সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, দৈনিক আজকের দেশবিদেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এডভোকেট আয়ুবুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য তাহমিনা হক চৌধুরী লুনা ও নুরুল হক কোম্পানী, কক্সবাজার জেলা যুবলীগ সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক সোহেল, আওয়ামীলীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আহমদ মাস্টার, ফতেখাঁরকুল ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, চাকমারকুল ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার, খুনিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিক আবদুল মাবুদ, রাজারকুল ইউপি চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান, গর্জনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুচ ভূট্টো, জোয়ারিয়ানালা ইউপি চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স, ঈদগড় ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো, কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইসমাইল মো. নোমান, কাউয়ারখোপ ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, রশিদনগর ইউপি চেয়ারম্যান এমডি শাহ আলম, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আবদুল গনি চেয়ারম্যান, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা, প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কবির মেম্বার, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য ফুটবলার বিজন বড়ুয়া, আওয়ামীলীগ নেতা মীর কাসেম হেলালী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো ও নুরুল আমিন কোম্পানী, জেলা সৈনিকলীগের সভাপতি তৈয়ব উল্লাহ মাতব্বর, সাধারণ সম্পাদক মুফিজুর রহমান, রামু ব্রাদার্স ইউনিয়নের সভাপতি নবু আলম, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নীতিশ বড়ুয়া, সহ সভাপতি ওসমান সরওয়ার মামুন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি এডভোকেট মোজাফ্ফর আহমদ হেলালী, সাধারণ সম্পাদক তপন মল্লিক, জেলা যুবলীগ নেতা পলক বড়ুয়া আপ্পু, জেলা তাঁতীলীগের সহ সভাপতি আনছারুল হক ভূট্টো, আওয়ামীলীগ নেতা হাজ্বী নুরুল হক, সৈয়দ মো. আবদু শুক্কুর, রাজারকুল আওয়ামীলীগ নেতা জহির সিকদার, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ সিকদার, সাংসদ কমলের একান্ত সচিব ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মিজানুর রহমান, উপজেলা যুবলীগে স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ বিদ্যুৎ মেম্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, ঈদগড় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মনিরুল ইসলাম, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ আহবায়ক নজরুল ইসলাম, সদস্য সচিব এম সেলিম, রশিদনগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মিজানুর রহমান, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আজিজুল হক আজিজ, উপজেলা সৈনিকলীগ সভাপতি মিজানুল হক রাজা, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হক বাবু, উপজেলা তাঁতীলীগ সভাপতি নুরুল আলম জিকু, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমদ, উপজেলা শ্রমিকলীগ আহবায়ক শফিউল আলম কাজল, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আরিফ খান জয়, ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন, মোহাম্মদ নোমান, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের সভাপতি একরামুল হাসান ইয়াছিন প্রমূখ। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ত্রিপিটক ও গীতা পাঠ করেন, মাওলানা নুরুল আজিম, সুবীর বড়ুয়া বুলু ও মোহন শর্মা।

দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত এ মেজবানে কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী, সরকারি দপ্তর, কলেজ, মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসা সহ বিভিন্ন শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারি, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষকসহ সর্বস্তরের জনতা অংশ নেন।

মেজবানের জন্য মাঠে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের জন্য ১১টি প্যান্ডেলে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া কক্সবাজার সদর উপজেলার মেহমান, সাংবাদিক এবং বৌদ্ধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক প্যান্ডেলে মেজবানের আয়োজন করা হয়।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!