এইমাত্র পাওয়া

x

‘তিন প্রজন্মের প্রমাণ সাপেক্ষে রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব পাবে’- মিন্ট থোয়ে

সোমবার, ২৯ জুলাই ২০১৯ | ৫:৩৬ অপরাহ্ণ | 206 বার

‘তিন প্রজন্মের প্রমাণ সাপেক্ষে রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব পাবে’- মিন্ট থোয়ে

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসা মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে বলেছেন, রাখাইনে তিন প্রজন্মের প্রমাণ দিতে পারলে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। রোববার (২৮ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আমরা নাগরিকত্ব দিতে প্রস্তুত। তবে ১৯৮২ সালের মিয়ানমারের আইন অনুযায়ী প্রত্যেককে নাগরিকত্ব দেয়া হবে। এছাড়াও যার ‘দাদা, মা ও সন্তান’ এই তিন প্রজন্ম রাখাইনে বসবাসের প্রমান দিতে পারবে তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। একইভাবে ন্যাশনাল ভ্যারিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) অনুযায়ী কাগজপত্র দেখাতে পারবে তাদেরও নাগরিকত্ব দেয়া হবে’।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব মিন্ট থোয়ে আরও বলেছেন, ‘দুইদিন ধরে একাধিক বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের প্রস্তুতি সম্পর্কে রোহিঙ্গাদের অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩ দফায় বৈঠকে রোহিঙ্গাদের দাবি সমুহ জানা গেছে। প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে মিয়ানমার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৩ ক্ষেত্রে আলোচনা করার। রোহিঙ্গাদের সাথে যে আলোচনা হয়েছে তা আবারো হবে। একই সঙ্গে আসিয়ানের প্রতিনিধিদের সাথেও আলোচনা হবে। আসিয়ানের রোহিঙ্গা সংক্রান্ত মার্চ মাসে দেয়া প্রস্তাবনা বিবেচনা করা হবে’।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেছেন- ‘আমরা হিন্দু রোহিঙ্গাদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা আমাদের সন্তোষজনক জবাব পেয়েছি। আমরা যদি প্রত্যাবাসন শুরু করি তাহলে প্রাথমিকভাবে ৪৪৪জন হিন্দুকে প্রথমে অগ্রাধিকার দিব। এছাড়াও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সকলের সঙ্গে আলোচনার মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত বৈঠক হবে ঢাকায় ফিরে।

মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলটি রোববার সকালে প্রতিনিধি দলটি কুতুপালং ৪ নম্বও ক্যাম্পে যান। যেখানে গতকালে ৪০ সদস্যের রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সাথে তৃতীয় দফায় বৈঠক করেন। টানা ২ ঘন্টার বেশি সময় ধরে বৈঠকে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের সাথে নিজের নানা দাবির কথা জানান রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গারা বলেছেন, নাগরিকত্ব, স্বাধীন চলা-ফেরার নিরাপত্তা প্রদান করলে তারা স্বদেশে ফেরত যাবেন। মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা তাদের কথা শুনেন এবং রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত যাওয়ার আহবান জানান। ফেরত গেলে তাদের দাবি সমুহ বিবেচনা করবে বলেও আশ্বাস দেন বলে বৈঠকে অংশ নেয়া রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন।

কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা শিমুল শীল জানিয়েছেন, ‘মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমরা বলেছি যে আমাদের কোন শর্তের দরকার নেই। আমরা নিরাপত্তা পেলে আমাদের দেশ রাখাইনে ফেরত যাবো। এতে তিনি আমাদের আশ^স্ত করেছে। প্রত্যাবাসন শুরু হলে প্রথমে আমাদের ফেরত নিয়ে যাবে’।

রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানিয়েছেন, ‘মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ^াসে আমরা আশার আলো দেখছি। তবে তার কথার স্থায়ীত্ব কতটুকু তা দেখার বিষয়। আমরাও চাই রাখাইনে প্রয়োজনীয় ডুকুমেন্ট দিয়ে আমাদের দেশ ফিরে পেতে। আমরা বরাবরে মত প্রতিনিধিদলকে সে কথায় বুঝিয়েছি। আমরা বুঝাতে সক্ষম হয়েছি আসা সেন্টারের কর্মকর্তাদেরও’।

দুপুরে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলটি রোহিঙ্গা হিন্দু ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। সেখানে রোহিঙ্গা হিন্দুদের সাথে আলাপ করছেন। এসময় হিন্দু রোহিঙ্গারা কোন দাবি বা শর্ত ছাড়াই মিয়ানমারে ফিরতে রাজি হয়েছেন। তবে মুসলিম রোহিঙ্গাদের মত খ্রিষ্টান ধর্মলম্বী যেসব রোহিঙ্গা রয়েছে তারাও নানা শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলকে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব মিন্ট থোয়ে’র নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল শনিবার বিমান যোগে সকাল ১০ টায় কক্সবাজার পৌঁছেন। প্রতিনিধি দলটি বিমান বন্দর থেকে হোটেল রয়েল টিউলিপে যান। এরপর উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন যান। প্রতিনিধিদলটি কুতুপালং ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের ৪০ জনের একটি দলের সাথে ২ দফায় আলাপ আলোচনা শুরু করেন।
২ দফার আলোচনা রোহিঙ্গাদেরকে নিজ দেশে ফিরে যেতে আহবান জানান মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে ফিরে গেলে সেখানে কি রকম সুযোগ সুবিধা পাবেন তার সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়। এসময় রোহিঙ্গাদের পক্ষে নানা দাবি উত্তাপন করা হয়। বৈঠকে অংশ নেয়া কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, বৈঠকে প্রত্যাবাসন ইস্যুতে যৌথ ডায়লগে সম্মতি জানিয়েছে মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৪ আগষ্ট থেকে রোহিঙ্গাদের উপর রাখাইন রাজ্যে চলা হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাচঁতে এই পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৯৭৫জন রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গা অবস্থান করছে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ পাহাড়ে ৩২টি ক্যাম্পে। দীর্ঘ সময় ধরে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দ্বিপক্ষীয় একটি চুক্তিতে সই করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। সব রকমের প্রস্তুতির পরও মিয়ানমার রহস্যজনক কারণে চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি। পরে জাতিসংঘসহ বিশে^র প্রায় সব দেশেই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ করে। চীনের ভূমিকা অস্পষ্ট থাকলেও সম্প্রতি তারাও সবুজ সংকেত দিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরজমিনে দেখে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার পক্রিয়ায় দ্বিতীয় বারের মত মিয়ানমারের উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দলের আগমন বলে ধারণ করছে কূটনীতিক মহল। প্রতিনিধিদলটি আজ বিকালে ঢাকায় ফিরে গেছেন।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!