এইমাত্র পাওয়া

x

তিন দিনের ভারি বর্ষণে চকরিয়ায় খাবার পানির তীব্র সংকট

মঙ্গলবার, ০৯ জুলাই ২০১৯ | ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ | 158 বার

তিন দিনের ভারি বর্ষণে চকরিয়ায় খাবার পানির তীব্র সংকট

গত শনিবার থেকে টানা তিন ভারিবর্ষণে চকরিয়ার ১৮ ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভেঙ্গে গেছে তিনটি বেড়ি বাঁধ। নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়ি। বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্লাবিত এলাকার গ্রাম থেকে মানুষ চলে আসছে পৌরশহরের বিভিন্ন উচু ভবনগুলোতে। উপজেলার দেড় শতাধিক গ্রামের প্রায় পনের হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় মাতামুহুরী নদীর পানি এখনো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গ্রামীণ সড়ক গুলো বন্যার পানিতে ডুবে থাকায় উপজেলা সদরের সাথে অধিকাংশ ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে। গত তিন দিনে টিউওয়েবেলগুলো ডুবে থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। তিন দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের পানি বেড়ে মাতামুহুরী নদীর একাধিক পয়েন্ট দিয়ে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। টিউবওয়েলগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে ছিকলঘাট-কাকারা, মাঝেরপাড়ি-মানিকপুর সড়কে।

মাতামুহুরী নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া, রুমআলী চৌধুরী পাড়া ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ভরন্যারচর, খীল সাদেক এলাকার শতশত পরিবার আতঙ্কে রয়েছে। দু, ইউনিয়নের অর্ধেক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির। ইউনিয়নের দুর্গত জনগনের পাশে দাড়ানোর জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। যেকোন সময় অসংখ্য বসতবাড়ি নদীতে তলিয়ে যেতে পারে। লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে হুমকির মুখে পড়েছে নদীর তীরে বিদ্যুত বিভাগের ১লাখ ৩২হাজার ভোল্ডের বিদ্যুৎ টাওয়ার। খুটাখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। খুটাখালী বাজারের একাধিক পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেছে।

এদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বরইতলী ইউনিয়নে পাহাড় ধসে একব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বড় ধরণের বন্যার আশঙ্কা করছেন উপজেলাবাসী। অনেক স্থানে কালভার্ট, ব্রিজ ও অধিকাংশ রাস্তাঘাট বন্যার পানির নিচে রয়েছে। সড়ক গুলো পানিতে ঢুবে থাকায় নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। বৃষ্টির অব্যাহত থাকায় উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী বলেন, বন্যার পানি ও ভারিবর্ষণে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খুলে দেওয়া হয়েছে ২নং ওয়ার্ডের জালিয়াপাড়ার সুইচ গেটটিও।
তিনি আরও বলেন, ৫নং ওয়ার্ডের একাধিক স্থানে বন্যার পানি থাকায় জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পৌরশহরকে জলবদ্ধতা মুক্ত রাখতে সবধরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি সরানোর জন্য লোকবল কাজ করছেন।

সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক জানিয়েছেন, বন্যার পানির প্রবল স্্েরাতে তার ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা তলিয়ে গেছে। বন্যার পানি বৃদ্ধির পাওয়ায় স্থানীয় লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমান জানিয়েছেন, তার ইউনিয়ন মাতামুহুরী নদীর নিকটতম হওয়ায় দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বড়ধরণের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

চিরিঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন জানান, ভারিবর্ষণের ফলে তাঁর ইউনিয়নের বেশিরভাগ নীচু এলাকা হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে চকরিয়া চিংড়িজোনখ্যাত চরণদ্বীপ ও সওদাগরঘোনায় হাজার হাজার একর চিংড়িঘেরে বন্যার পানিতে পানিতে তলিয়ে যাবে। এতে ঘের মালিক ও মৎস্য চাষিদের ক্ষতিসাধনের আশঙ্কা রয়েছে।

কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার জানান, মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি বন্যা নেমে আসার পর বিভিন্ন শাখাখাল ও স্লুইচ দিয়ে তাদের ইউনিয়নে লোকালয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর পানি। ইউনিয়নের অধিকাংশ নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে পানিতে। উপকুলের বিস্তীর্ণ মৎস্য প্রকল্প পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তাদের দাবি, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদীতে ঢলের পানি গতি বাড়বে। উপকুলের একাধিক বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ার মৎস্য প্রকল্প সমুহ পানিতে ভেসে যেতে পারে।

বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার জানান, তার ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, পহরচাঁদা ও মইচ্ছনাকাটার লোকালয়ে ঢুকছে ঢলের পানি। মইছন্নাকাটা পাহাড় ধসে মোহাম্মদ হারুন (৪২) নামের এক ব্যবসায়ি মৃত্যু হয়েছে। তার ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬টি ওয়ার্ডের বেশির ভাগ এলাকা বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুদ্দীন মোহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ভারিবর্ষণে উপজেলার বেশিরভাগ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ও স্লুইচ গেইট সমুহ পরিদর্শন করা হয়েছে। যেসব এলাকা বন্যা ঝুকিতে আছে, জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চকরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে প্রধান করে মনিটরিংসেল খোলা হয়েছে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!