তারেকের হাত ধরে ৩ বছরে পাল্টে গেল ‘কালারমারছড়া’

শনিবার, ২৩ মে ২০২০ | ২:৫২ অপরাহ্ণ | 120 বার

তারেকের হাত ধরে ৩ বছরে পাল্টে গেল ‘কালারমারছড়া’

মাত্র তিন বছর। সময়ের হিসাবে খুব বেশি নয়। এই স্বল্প সময়ে দীর্ঘ বছরের অবহেলিত জনপদকে দেশের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করাই ছিল এক তরুণের নির্বাচনি ইশতেহার। রাজনীতির মাঠে উদীয়মান এ তরুণের আন্তরিকতা এবং নিরন্তর প্রচেষ্টায় উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে মহেশখালীর উত্তরের জনপদ কালারমারছড়া ইউনিয়নের জনগণের দুঃখভরা জীবনযাত্রা।

আজ ২৩ মে, বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফের নির্বাচনে জয়লাভের তৃতীয় বর্ষপূর্তি। নির্বাচনি মাঠে জয়ের পর এই জনপ্রতিনিধির হাত ধরে দুর্নাম ঘুছিয়ে আলোর পথের স্বপ্ন দেখছে কালারমারছড়ার সাধারণ মানুষ।

অন্যদিকে ইউপি চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ বলছেন, আগামি ২ বছরের মধ্যে কালারমারছড়াকে ডিজিটাল ইউনিয়নে রূপান্তর করতে তিনি সব চেষ্টাই চালিয়ে যাবেন। মহেশখালী উপজেলা সদর থেকে ১৭ কিলোমিটার উত্তরে বঙ্গোপসাগরের তীরে কুহেলিয়ার পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠা জনপদ ‘কালারমারছড়া’। সময়ের পরিক্রমায় এ ইউনিয়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন অনেক জনপ্রতিনিধি।

কিন্তু এই ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম ওসমান গণির পুত্র, বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফের মতো স্বল্প সময়ে এতো উন্নয়ন অন্য কেউ করতে পারেনি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ জন্য এই তরুণ চেয়ারম্যানকে সবশ্রেণির মানুষ আখ্যায়িত করেন ‘উন্নয়নের কারিগর’ কিংবা ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৩ মে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী এই ইউনিয়নের গ্রামেগঞ্জে এখন উন্নয়নের ঝিলিক উঠেছে। গ্রামকে শহরে পরিণত করার ঘোষণা বাস্তবে রূপান্তর করতে তারেক শরীফ নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত ৩ বছরে এই ইউপির প্রায় সড়ক-উপসড়কের উন্নয়ন করেছেন। এখন কাঁচা রাস্তা নেই এ ইউনিয়নে। শুধু রাস্তাঘাটের উন্নয়ন নয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ-মন্দির, বিহার, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। সন্ত্রাসীদের দু’দফা আত্মসমর্পণে সহযোগিতার মাধ্যমে অবসান ঘটেছে সন্ত্রাসবাদের। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গেও নেই দাঙ্গা-ফ্যাসাদ, হানাহানি! অতীতের কলঙ্ক ঘুঁচিয়ে অনেকটা শান্তিময় ইউনিয়ন এক সময়ের আলোচিত মহেশখালীর এই ‘ক্রাইমজোন’।

কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, উন্নয়ন কর্মকান্ডের মধ্যে কয়েকটি প্রকল্প হলো-ফকিরজুম পাড়া রাস্তা পাকাকরণ ও ব্রিক সলিন, কালারমারছড়া বাজার হতে ধলঘাটা যাওয়ার রাস্তা পাকাকরণ ও গাইডওয়াল নির্মাণ, কালারমারছড়া দরবার সড়ক সংস্কার ও ব্রিকসলিন, উত্তর ঝাপুয়া পাহাড়তলী এলাকায় ব্রিজ নির্মাণ, সর্দারঘোনা এলাকায় ব্রিজ নির্মাণ, নাপিতপাড়া রাস্তার সংস্কার, ইউনুছখালী এলাকায় রাস্তা সংস্কার, বড়–য়াপাড়া এলাকায় রাস্তা সংস্কার, অফিসপাড়া রাস্তায় ব্রিকসলিন ও গাইডওয়াল নির্মাণ, নয়াপাড়া রাস্তায় ব্রিজসহ ব্রিকসলিন ও দুই পাশে ড্রেন নির্মাণ, পূর্ব নয়াপাড়া রাস্তায় কালভার্টসহ গাইডওয়াল নির্মাণ, ঘোনাপাড়ায় মাটি ভরাট করে রাস্তাসহ গাইডওয়াল নির্মাণ, চিকনীপাড়ায় রাস্তা পাকাকরণসহ গাইডওয়াল নির্মাণ, ঘোনাপাড়া রাস্তায় গাইডওয়াল নির্মাণ, পশ্চিম মারাক্কাঘোনা এলাকায় রাস্তাসহ গাইডওয়াল নির্মাণ, মাইজপাড়া এলাকায় রাস্তাসহ গাইডওয়াল নির্মাণ, আঁধার ঘোনা পশ্চিমপাড়া সড়ক সংস্কার, আনন্দ মার্কেট হতে পানেরছড়া পর্যন্ত সড়ক প্রশ্বস্তকরণ ও গাইওয়াল নির্মাণ, মিজ্জিরপাড়া বাজারের পশ্চিম পাশে সড়ক প্রশ্বস্তকরণ, পূর্ব মিজ্জিরপাড়ার সড়ক সংস্কার ও গাইডওয়াল নির্মাণ দক্ষিণ মিজ্জিরপাড়া সড়ক সংস্কার ইত্যাদি। আরো বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং চলমান রয়েছে।

এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও জনগণের ন্যায় বিচারে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। গ্রাম আদালতে ন্যায় বিচার পাওয়াসহ কালারমারছড়া সবক্ষেত্রে অনেকদূর এগিয়ে গেছে বলে সাধারণ মানুষ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া মহেশখালী উপজেলার প্রতিটি জনগণের কাছে তিনি সমাদৃত ও জননন্দিত।

এত স্বল্প সময়ে কালারমারছড়ার আমুল পরিবর্তন প্রসঙ্গে তারেক বিন ওসমান শরীফ বলেন, “নির্বাচনের সময় এলাকার জনগণ তাঁদের সবচেয়ে মহামূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। তাদের এ ঋণ কোন দিন শোধ করার মতো নয়, তারপরও চেষ্টা করে যাচ্ছি কালারমারছড়ার মানুষের ভাগ্য বদলাতে। জনগণের কাছে দেয়া ওয়াদা পালনে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।”

তিনি আরো বলেন, “কালারমারছড়া ইউনিয়নকে উন্নয়নের মাধ্যমে আধুনিক এবং মডেল ইউনিয়ন হিসেবে রূপান্তরিত করতে চাই। প্রতিটি গ্রামকে আধুনিকায়ন করে শহরে পরিণত করতে চাই। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন তাড়াতাড়ি হলেও শিক্ষার মানোন্নয়নেও অধিক গুরুত্ব দিচ্ছি। কালারমারছড়ায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গের সাথে ইতিমধ্যে আলোচনাও হয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। আশা করি আমার ক্ষমতা থাকাকালীন আগামি দুই বছরে সকলের সযোগিতায় কালারমারছড়াকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে উপহার দিতে পারবো ইনশাল্লাহ্।”

দরিদ্রতা থামাতে পারেনি মহেশখালীর সাজ্জাদ হোসেনকে
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!