এইমাত্র পাওয়া

x

জেলায় কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া কাল থেকে শুরু

তদবির-বাণিজ্য ঠেকাতে হার্ড লাইনে এসপি

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯ | ৭:৪৪ অপরাহ্ণ | 256 বার

তদবির-বাণিজ্য ঠেকাতে হার্ড লাইনে এসপি

জেলায় কাল থেকে শুরু হচ্ছে পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া। এই পদের প্রার্থীদের কাল (২৬ জুন) বুধবার কক্সবাজার পুলিশ লাইনস মাঠে প্রার্থীদের বাছাই করা হবে। প্রার্থীকে সকাল ৮টার মধ্যে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আগামী ২৭ জুন বিকেল ৩টায় কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। ১ জুলাই সোমবার সকাল ১০ টায় পুলিশ লাইনে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে। ২ জুলাই মঙ্গলবার বিকেল ৫ টায় পুলিশ লাইনে মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর প্রার্থীদের চুড়ান্ত করা হবে।

আলোচিত পুলিশের এই কনস্টেবল নিয়োগে কোন ধরণের তদবির ও বানিজ্য যাতে কেউ করতে না পারে সেজন্য জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন হার্ড লাইনে রয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি সকলের অবগতির জন্য সতর্কমুলক নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কনস্টেবল নিয়োগে কোন ধরণের তদবির এবং বানিজ্য সহ্য করা হবে না। বেশ কিছুদিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং থেকে শুরু করে নানা ধরণের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে। সব কিছু টিক থাকলে যথানিয়মে কনস্টেবল পরিক্ষা শুরু এবং শেষ করা হবে।

এদিকে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন ঘোষণা দিয়েছেন, “মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে। বিনা ঘুষে কনস্টেবল পদে সরকার নির্ধারিত ১০৩ টাকায় চাকরি পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যে তদবিরবাজ, দালাল ও প্রতারক চক্র এড়াতে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদেরকে আগামীকাল সকাল ৮টার মধ্যে কক্সবাজার পুলিশ লাইনস মাঠে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদিসহ উপস্থিত থাকার জন্য আহবান জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। পুলিশের পক্ষ থেকে এও বলা হয়েছে, “কেউ যদি টাকার বিনিময়ে চাকরি দিবে বলে, তাহলে ধরে নিন আপনি নিশ্চিত প্রতারিত হচ্ছেন। এছাড়া কোন ধরণের প্রতারণা বা আর্থিক লেনদেনের তথ্য থাকলে নিম্নের নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার-০১৭১৩৩৭৩৬৫৭, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)- ০১৭১৩৩৬৩৭৫৯, সহকারী পুলিশ সুপার (ডিএসবি)- ০১৭৬৯৬৯০৮৮৩।

জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, ‘আমরা আমাদের মত করে সর্বশেষ প্রচারণা চালিয়েছি। এখন চুড়ান্ত সময়। এবার কনস্টেবল পদে যেসব প্রার্থী অংশ নিতে আসবে আমি তাদের স্পষ্ট বলব কোন টাউট, দালাল বা ব্যক্তির সাথে চুক্তি করে থাক, তাহলে তোমরা এখনি বাদ দাও। কারণ, এখানে টাকা দিয়ে কারও কোন চাকরি হবে না’।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘উক্ত নিয়োগ পরিক্ষায় প্রক্রিয়া কোন প্রকার টাকা দিয়েছে যদি এমন কোন তথ্য প্রমাণ পায়, তাহলে কেউ চুড়ান্ত পর্যায়ে গেলেও তাকে অযোগ্য হিসাবে বিবেচিত করা হবে এবং নিয়োগ বাতিল করা হবে। কারণ, এমন কিছু দালাল এবং তদবিরবাজ সমাজে রয়েছে পরিক্ষায় অংশ নেয়া কেউ যদি টিকে যায় তাহলে চাকুরির ব্যবস্থা তিনি করে দিয়েছেন বলে কৌশলে ওই প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে চাই। কিন্তু এর দায়-দায়িত্ব আমরা নিতে না পারলেও পরবর্তীতে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব। এসব বিষয়েও আমরা সতর্ক রয়েছি। ইতিমধ্যে এই রকম দুয়েকটি ঘটনা শুনা গেলেও পুলিশের অনুসন্ধানে এর কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। আমি স্পষ্ট বলে দিয়েছি কোন অনিয়ম, দুর্নীতি সহ্য করা হবে না’।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী উত্তীর্ণ হওয়ার আগে রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে তদবির করালে তার প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে। তবে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নেতাদের তদবির এলে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এমপির ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) যাচাই-বাছাই করতে বলা হয়েছে।

যা যা সঙ্গে নিতে হবে :

এসএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণের মূল সনদ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক প্রত্যয়নপত্র অথবা সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক চারিত্রিক সনদপত্রের মুলকপি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক স্থায়ী নাগরিক/জাতীয়তা সনদপত্রের মুলকপি। প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের মুলকপি অথবা প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে পিতা/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের মুলকপি। জন্ম নিবন্ধন সনদেরর মুলকপি। সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত ৩ কপি সদ্যতোলা পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি। প্রার্থীর অবিবাহিতের প্রত্যয়নপত্র। অভিভাবকের অনাপত্তি পত্র। সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি: বাবদ ১-২২১১-০০০০-২০৩১ বা ১২২০২০১১০৫৯২৪১৪২২২২৬২৬ নম্বরে ১০০/- টাকা ট্রেজারি চালানের মূলকপি। মুক্তিযোদ্ধা, আনসার সদস্য, উপজাতি কিংবা অন্যান্য কোটার প্রার্থী হলে কোটার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মুলকপি সঙ্গে আনতে হবে।

যা নিতে পারবেন না:

পরীক্ষার্থীগণ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি ছাড়া কোন ধরনের ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, প্যাকেট, মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীদের অভিভাবক এবং আত্মীয়-স্বজনকে পরীক্ষা কেন্দ্রের কমপক্ষে ২০০ গজ দূরে অবস্থান করার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ৯ হাজার ৬৮০ জন ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ৬ হাজার ৮০০ জন পুরুষ ও ২ হাজার ৮৮০ জন নারী। এই নিয়োগে কক্সবাজার জেলায় বিশেষ কোটায় ২৯৫ পুরুষ ও ৫৪ নারী, নতুন পদে ৩১ পুরুষ ও ৬ নারীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পরিক্ষায় অনিয়ম ঠেকাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জেলায় একটি টিম গঠন করে দেয়া হয়েছে। ওই টিমের প্রধান হচ্ছেন জেলা পুলিশ সুপার। তা ছাড়া অনিয়ম এড়াতে প্রতিটি জেলায় আইজিপির নিজস্ব গোয়েন্দা টিমও কাজ করছে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!