এইমাত্র পাওয়া

x

ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলার থেকে ছিটকে পড়ে ১৪ জেলে

ট্রলার ডুবিতে নিহত বেড়ে ৯ : ৭ জনের পরিচয় মিলেছে

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯ | ১২:৩০ অপরাহ্ণ | 110 বার

ট্রলার ডুবিতে নিহত বেড়ে ৯ : ৭ জনের পরিচয় মিলেছে

সরকারের দেয়া ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপকুলীয় জেলা ভোলার চরফ্যাশন থেকে মাছ আহরণে যায় মনির আহমদ মাঝির নেতৃত্বে ১৪ জেলে। তার ২৪ ঘন্টা পরই বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলার থেকে ছিটকে সাগরে পড়ে যায় ১৪ জেলে। এরপর অনেকে ট্রলারে উঠলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সীগাল, সমিতিপাড়া, হিমছড়ি ও মহেশখালী থেকে ৯ জেলের মরদেহ ও মনির আহমদ মাঝি ও জুয়েল নামে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ট্রলারে থাকা আরও তিনজন এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে।

লাশ উদ্ধারের ৩৬ ঘন্টা পর নিহত ৭ জেলের পরিচয় নিশ্চিত করেছে ডুবে যাওয়া ট্রলারের মালিক ওয়াজ উদ্দিন ওরফে পিটার। নিহত ৬ জেলেরা হচ্ছে, ভোলার চরফ্যাশনের পুর্ব মাদ্রাস এলাকার তরিফ মাঝির ছেলে কামাল হোসেন (৩৫), চরফ্যাশনের উত্তর মাদ্রাস এলাকার নুরু মাঝির ছেলে অলি উল্লাহ (৪০), একই এলাকার ফজু হাওলাদারের ছেলে অজি উল্লাহ (৩৫), মৃত আব্দুল হকের ছেলে মো. মাসুদ (৩৮), শহিদুল ইসলামের ছেলে বাবুল মিয়া (৩০) ও নজিব ইসলামের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম। নিহত একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে পুলিশের পক্ষে দাবি করা হলেও তার নাম ঠিকানা জানা যায়নি। অপর একজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি।

জীবিত উদ্ধার হওয়া মনির আহমদ মাঝি জানান, গত ৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ভোলা চরফেশনের শামরাজ ঘাট থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে পাড়ি দেয়। তারা মোট ১৪ জন এই ট্রলারে ছিলেন। গত ৬ জুলাই (শনিবার) ভোরে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি থেকে ছিটকে পড়ে জেলেরা। পরে ট্রলারটিও উল্টে যায়।

এরপর কে কোথায় হারিয়ে গেছে তা জানা যায়নি। কিন্তু ট্রলার ধরে রাখেন অনেকে। ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলারটি বার বার উল্টে যায়। তবুও আমরা ট্রলার ধরে রাখার চেষ্টা করি। সাগরের ঢেউয়ের ধাক্কায় একবার ট্রলার থেকে ছিটকে পড়ে, আবার ধরে। তবে এই সময় প্লাস্টিকের বেশ কয়েকটি পানির বোতল ড্রামের সাথে বেঁধে ফেলি। দুয়েকটি বোতলের পানি রেখে অন্য সব বোতলের পানি ফেলে দেয়। এরপর এগুলো খেতে খেতে এতদিন ছিলাম।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত বুধবার থেকে এ পর্যন্ত ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সীগাল পয়েন্ট থেকে ৬ জন, মহেশখালী ধলঘাটা থেকে ১ জন, হিমছড়ি সৈকত ও সমিতিপাড়া থেকে আরও একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

তবে এবিষয়ে ট্রলারটির মালিক ওয়াজ উদ্দিন ওরফে পিটারকে ‘নিষেধাজ্ঞা সত্যেও কেন সাগরে ট্রলার পাঠিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছু না বলে কল কেটে দেন।
কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন দৈনন্দিনকে বলেন, ট্রলারটির মালিক ওয়াজ উদ্দিনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ৮ জনের মধ্যে ৭ জনের লাশ শনাক্ত হয়েছে। তাদের পরিবার আসছে, পরবর্তী ব্যবস্থা শেষে লাশ হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!