টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানকে পুঁজি করে চাঁদা আদায় : আটক ৩, মামলা ২

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২০ | ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ | 47 বার

টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানকে পুঁজি করে চাঁদা আদায় : আটক ৩, মামলা ২

মাদক ব্যবসার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে ম্যানেজ করার কথা বলে টেকনাফ জুড়ে চলছে ব্যাপক হারে চাঁদাবাজি। ইতিমধ্যে ওসির নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ১ গ্রাম পুলিশসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
একই সঙ্গে আইনজীবী পরিচয় দানকারি এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলাও রেকর্ড করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর অবস্থানকে পুঁজি করে একটি প্রতারক চক্র নানাভাবে চাঁদা আদায়ের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। পুলিশ এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছে। ইতিমধ্যে চাঁদা আদায়ের ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটকরা হল, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকার আবু বকরের ছেলে ফরিদ আলম (২৫) এবং একই এলাকার আলী হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ আলম (৩০) ও হামিদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ শুক্কুর (৪০)। এদের মোহাম্মদ আলম গ্রাম পুলিশের সদস্য।
এ ব্যাপারে টেকনাফ থানার এসআই অরুণ চাকমা বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করেছে।
অপরদিকে আইন-শৃংখলা বাহিনীর পরিচয়ে ক্রসফায়ারের হুমকী দিয়ে আড়াই লাখ টাকা আদায়ের ঘটনায় কথিত আইনজীবী হেলাল উদ্দিন (৫৮) নামের এক ব্যক্তিকে আসামী করে আরো একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব পানখালী এলাকার নুরুল আমিনের স্ত্রী সালেহা বেগম বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন একই ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী এলাকার মৃত গফুর মিয়ার ছেলে।
টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, পুলিশের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি চক্র নানাভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। যার অংশ হিসেবে ক্রসফায়ার ও গ্রেপ্তারের হুমকী দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যাপক হারে চাঁদাবাজি চালাচ্ছে। যেখানে পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ধরণের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফরিদ আলম, মোহাম্মদ আলম ও মোহাম্মদ শুক্কুর নামের ৩ জনকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানান ওসি।
প্রদীপ জানান, আটকরা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তার (ওসি) নামে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আদায়ের সত্যতাও স্বীকার করেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
তিনি আরো জানান, হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব পানখালী এলাকার মাইক্রোবাস চালক নুরুল আমিনের স্ত্রী সালেহা বেগম বাদী হয়ে আরো একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে হেলাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি আইনজীবী পরিচয় দিয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে ম্যানেজের কথা বলে আড়াই লক্ষ টাকা ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে আদায় করেছে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রমানপত্র পাওয়ায় ওই এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করা হয়েছে।
ওসি জানান, মাদক বিরোধী অভিযান নিয়ে প্রতারণার কোন ধরণের সুযোগ নেই। কেউ প্রতারণা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!