এইমাত্র পাওয়া

x

টেকনাফের হুন্ডি সম্রাজ্যের নতুন সম্রাট ওসমান

রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৭:১০ অপরাহ্ণ | 136 বার

টেকনাফের হুন্ডি সম্রাজ্যের নতুন সম্রাট ওসমান

সীমান্ত উপজেলার টেকনাফ উপজেলা থেকে এখানো অব্যাহত রয়েছে অবৈধভাবে ইয়াবার টাকা পাচার। চিহ্নিত হুন্ডি গডফাদাররা আত্মগোপনে পালিয়ে গেলেও নতুন এক হুন্ডি সম্রাটের আর্বিভাব হয়েছে। প্রভাবশালী এক ব্যক্তির ছত্রছায়ায় টেকনাফের হুন্ডি সম্রাজ্যের একক নিয়ন্ত্রক এখন নতুন সম্রাট মোহাম্মদ ওসমান। একাধিক মামলার পলাতক আসামী হলেও প্রকাশ্যে ঘুরে হুন্ডি সম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন এ ব্যক্তি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টেকনাফ পৌরসভার মধ্যম জালিয়াপাড়ার মৃত মোহাম্মদ আলীর পুত্র মোহাম্মদ ওসমান পুলিশের তালিকাভূক্ত একজন চিহ্নিত হুন্ডি কারবারি। দীর্ঘদিন থেকে টেকনাফের বহুল আলোচিত টিটি জাফরের অধিনে এক দশক ধরে হুন্ডি ব্যবসা চালিয়ে আসছে এ ওসমান।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চিহ্নিত ১০২ ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পনের পর আলোচনায় আসে বহুল আলোচিত এই টিটি জাফর। একই সঙ্গে আলোচনায় আসে আরো ২১ হুন্ডি ব্যবসায়ীর নাম। এসব হুন্ডি কারবারিরা পুলিশের অভিযানে আত্মগোপনে গেলেও এলাকায় প্রকাশ্যে রয়েছে হুন্ডি ওসমান। এর পর থেকে পুরো হুন্ডি সম্রাজ্যের একক নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ উঠেছে, সাবেক জনপ্রতিনিধি প্রভাবশালী এক ব্যক্তির ছত্রছায়ায় এ ওসমান হুন্ডি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কথিত রয়েছে ওই সাবেক জনপ্রতিনিধি ওসমানের হুন্ডি ব্যবসার অংশিদার। অথচ টেকনাফ থানা পুলিশের দায়ের হওয়া জুলাই মাসের তিনটি মামলার আসামী এই ওসমান। এছাড়া রয়েছে আরো ৫ টির বেশি মামলা। এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে হুন্ডি ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে রয়েছে নানা কথাও।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দেয়া তথ্য মতে, টেকনাফে ১০২ জন ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করার পরপরই হুন্ডি কারবারিদের নাম ব্যাপকহারে আলোচনায় আসেন। আত্মসমর্পনকারি ইয়াবা কারবারিরা জানিয়েছেন ‘ইয়াবা পাচার, অর্থ লেনদেনসহ নানা বিষয়ে অনেক বড় বড় গডফাদার রয়েছে। মূলত এরাই ইয়াবা পাচারের নেপথ্যে কাজ করছে। আত্মসমর্পণকারীরা জানায়, তাদের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি বলা হলেও নেপথ্যে একটি শক্তিশালী চক্র রয়েছে। যে চক্রের সদস্যদের কারও নাম এখনও প্রশাসন বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনও তালিকায় আসেনি। তারা নেপথ্যে অবস্থান করে এদের (আত্মসমর্পণকারী) দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে ছিল। আত্মসমর্পণে আসা ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তিতে এমন ৩০ জন এজেন্টের নাম পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আর এ টাকা বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার করা হয় দুবাই ও সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত ইয়াবার মূল মালিকদের কাছে। আর দুবাই সিঙ্গাপুর ঘুরে এ অর্থ পৌঁছানো হয় মিয়ানমারে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মনে করছেন, ইয়াবা গডফাদারদের নেপথ্যে রয়েছে টাকা সংগ্রহকারী হুন্ডি ব্যবসায়ীরা। আর এসব হুন্ডি ব্যবসায়ীর নেপথ্যের ব্যক্তিরা রয়েছে দুবাই এবং সিঙ্গাপুরে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, টেকনাফের ইয়াবা কারবারিদের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছেন টিটি জাফর। এই টিটি জাফরের সিন্ডিকেটের ১০ সদস্য টেকনাফে অবস্থান করে নানাভাবে ইয়াবা অর্থ সংগ্রহ করে থাকেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন জালিয়াপাড়ার তাহের, আবদুল আলী, লেঙ্গা কামাল, সাইফুল, খোরশিদ। এছাড়া এই হুন্ডি চক্রের সদস্য জালিয়াপাড়ার ওসমান, ইসহাক, ইয়াছিন, গোদার বিলের টিক্কা কাদের, সাতকানিয়ার ওসমানের নামও এসেছে স্বীকারোক্তিতে। এর বাইরে টেকনাফের লামারবাজারের একটি বেকারি, একটি কাপড়ের দোকান, কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকার বিকাশ এজেন্সির নামও পাওয়া গেছে। এরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের বাইরে থাকলেও পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের সহ আইনী প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ। এতে একে একে মামলার আসামী হয়েছে চিহ্নিত হুন্ডি কারবারিরা। এর জের ধরে সকলেই পালিয়ে আত্মগোপনে গেলে কেবল প্রকাশ্যে অবস্থান করছেন মোহাম্মদ ওসমান।

টেকনাফের স্থানীয় লোকজন জানান, এই ওসমানই বর্তমানে হুন্ডি সম্রাজ্যের একমাত্র সম্রাট।

এব্যাপারে অভিযুক্ত মোহাম্মদ ওসমানের মুঠোফোনে যোগোযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি হুন্ডি ব্যবসা করে থাকলে প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নেবে। হুন্ডি ব্যবসা না করেও অনেকেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। যেসব মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে তিনি আইনগত উদ্যোগ গ্রহণ করছেন বলেও জানান।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, মোহাম্মদ ওসমান একজন চিহ্নিত হুন্ডি সম্রাট। পুলিশের তালিকাভূক্ত এ সম্ররাটের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলাও। পুলিশ তাকে ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছে। কৌশলে পালিয়ে হুন্ডি ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। তাকে ধরে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!