‘টেকনাফের সেই পোকা পঙ্গপাল নয়, ঘাসফড়িং প্রজাতি ’

শনিবার, ০২ মে ২০২০ | ৩:২৪ অপরাহ্ণ | 107 বার

‘টেকনাফের সেই পোকা পঙ্গপাল নয়, ঘাসফড়িং প্রজাতি ’

টেকনাফের লম্বরী পাড়ায় দেখা যাওয়া সেই পোকা পঙ্গপাল নয়, এটা ঘাসফড়িং প্রজাতির।

শনিবার দুপুরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের লম্বরী এলাকায় ঢাকা থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ববিদদের নিয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের একটিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এ কথা জানিয়েছেন।

এসময় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড: নির্মল কুমার দত্ত বলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কীটতত্ত্ববিদ সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা এখানে এসেছি। ইতিমধ্যে কিছু জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে যে টেকনাফের যে অঞ্চলটাতে পঙ্গপালের উপস্থিতি পেয়েছে। আসলে আমরা সরেজমিনে দেখলাম যে পোকাটা আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি এটি বিধ্বংস পোকা পঙ্গপাল নয়, যেটা আমরা ইতিমধ্যে জাতীয়ভাবে সনাক্ত করতে পেরেছি এটি একটি ঘাস ফড়িং। ইংরেজিতে (aularches miliaris) এটি বিভিন্ন বনজঙ্গলে এবং ক্ষেত্রবিশেষে কিছু ফসলের ক্ষতিকর পোকা। এটা তেমন ক্ষতি করে না এটা নিয়ে আতঙ্ক হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটা অতি আগে থেকে বাংলাদেশে রেকর্ডে ছিলো পোকা। এটা আমরা স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জেনেছি এটা আগে থেকেই পরিচিত একটি পোকা। স্থানীয় একজন কৃষক আমাদেরকে বলছেন এটা বর্মাচান্ডালী নামে পরিচিত? কেনও এটা বর্মা বর্মাচান্ডালী নামে পরিচিত জানতে চাইলে সেই বলেন এটা যেহেতু বার্মা থেকে এসেছে সেই জন্য এই নাম বলা হয় ।আসলে আমাদেরও ধারণা এটি বার্মা থেকে আসতে পারে। এটা শুধু বাংলাদেশের রেকর্ডের না ভারত, শ্রীলংকা, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ইত্যাদি দেশে উপস্থিতি আছে। সব দেশে ক্ষতিকারক পোকা হিসেবে চিহ্নিত আছে। কিন্তু আবার এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি একটি ঘাসফড়িং পোকা।

ঢাকা খামারবাড়ি উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং,উপ পরিচালক,আই পি এম, মোঃ রেজাউল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে এই পোকাটা নিয়ে চিন্তাভাবনা এবং দুশ্চিন্তা আমাদের কৃষি ডিপারমেন্ট সহ সারা বাংলাদেশে সবার মাঝে এটা নজরে আচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা কৃষি প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের আলোচনা থেকে বুঝলাম আসলে এটা পঙ্গপাল না এটা ঘাসফড়িং এর প্রজাতি। এটা একটা অপদান পোকা। যেহেতু এখানে এ পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজার এবং স্থানীয় কৃষি অফিস এটা ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করছেন। তারা সাইফার মেট্রিন জাতীয় কীটনাশক স্প্রে ব্যবহার করে এটি দমন করতে পেরেছে। বেশ কয়েকবার স্প্রে করার পর এখানে জীবন্ত একটি পোকা ও দেখা যায়নি। সর্বোপরি এখানে আশে পাশেও এই পোকার আক্রমণের কোনকিছু দেখা যায় নাই। এখানে কয়েকটা ব্লগ আছে তাদের নিদের্শনা দেওয়া   ব্লগে যেন মনিটরিং করে দেখা গাছে,সবজি বা ধান খেতে এই পোকা পাওয়া যায় কিনা। যদি এই পোকা পাওয়া যায়, তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিবে। যেহেতু দমন ব্যবস্থা খুব সহজ,সাইফার মেট্রিন জাতীয় বালাইনাশক স্প্রে করলে এটা দমন হয়ে যায়। চিন্তার কোন কারণ নেই, যদি বেশি পরিমাণ পোকা দেখা যায়। তখনই আমরা এই সাইফার মেট্রিন জাতীয় কীটনাশক স্প্রে করলে দমন করা সম্ভব। এটা পঙ্গপাল নয়,এটা ঘাসফড়িং এটা নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই। এরপরও পোকার নমুনা সংগ্রহ ঢাকা গবেষণাগারে নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা ও মনিটরিং রেখেছি যাতে এটা ব্যাপক ভাবে অন্য কোথাও আর্বিভাব না হয়।

যেখানে ধান গবেষণা ইস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নাজমুল বারী, ধান গবেষণা ইস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকতা ড. পান্না আলী সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!