জেলার জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান প্রায় ৩ বছর পর শুরু

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ | ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ | 70 বার

জেলার জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান প্রায় ৩ বছর পর শুরু

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বন্ধ থাকা জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান প্রায় তিন বছর পর চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। রোববার দুপুরে জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদানের প্রক্রিয়া চালুর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।
গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানামারের রাখাইন রাজ্যে জাতিগত সংহিসতার পর দেশটির সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেয় প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে বিভিন্ন সময়ের সহিংসতার ঘটনায় আশ্রয় নিয়েছিল অন্তত ৫ লাখ রোহিঙ্গা।
আশ্রয় নেয়া এসব রোহিঙ্গাদের অনেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের নাগরিক সনদ সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছিল। এর প্রেক্ষিতে গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর উদ্ভুদ পরিস্থিতিতে প্রশাসন কক্সবাজার জেলায় জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়।
এ নিয়ে রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির এক সভা ভার্চুয়াল প্লাটফরমে (অনলাইন মিটিং) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, বন্ধ থাকা জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই পূর্বক সীমিত আকারে চালু করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে; কোন প্রক্রিয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান চালু করা যায়।
“ এখন থেকে কোন ব্যক্তি যদি জন্ম নিবন্ধন পেতে আগ্রহ প্রকাশ করে তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে আবেদন করতে হবে। জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত উপজেলা টাস্কফোর্স তা যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ নিবন্ধন করবে। ”
এতে করে রোহিঙ্গা বা অন্য কোন জনগোষ্টি যাতে অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে নিবন্ধন করতে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “ পাসপোর্ট অধিদপ্তরকেও যাচাই-বাছাই করে প্রক্রিয়া সম্পনের জন্যও বলা হয়েছে। এছাড়াও রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়া ও টেকনাফসহ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ আর পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের অনলাইনে প্রশিক্ষণ প্রদান দেয়া হয়েছে। ”
এর মধ্য দিয়ে কক্সবাজারের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের জন্ম নিবন্ধন সংশ্লিষ্ট সেবা বঞ্চিত হবার বাধা কেটে গেছে বলে মন্তব্য করেন কামাল হোসেন।
তিনি বলেন, “ সভায় লকডাউন পরবর্তী সময়ে সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনপূর্বক পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ে দোকানপাট, শপিংমল খোলা রাখা, গণপরিবহন চলাচল মনিটরিং, স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা মাঠে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, অনলাইন পশুর হাট জনপ্রিয়করণ, পর্যটন স্পটসমূহ খুলে না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নিশ্চিতকরণ, ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার লক্ষ্যে আইনজীবিদের প্রশিক্ষণ প্রদান, গ্রাম আদালতে পেন্ডিং মামলা সমূহ নিষ্পত্তিকরণ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় সমন্বিত টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ”
তাছাড়া ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে গরু-মহিষ চুরি-ডাকাতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, মহাসড়কে পরিবহনের চাঁদাবাজি নিবৃত্তকরণ এবং কক্সবাজার-টেকনাফ সংযোগকারি সড়কসহ ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সমূহ মেরামতকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ জেলার সার্বিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে নানান সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের ফেইসবুক পেইজে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন।
সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ ছাড়াও জনপ্রতিনিধিগণ, পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!