চরম দুর্ভোগ

চকরিয়া পৌরশহরে গণ-শৌচাগার নেই

শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০১৯ | ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ | 615 বার

চকরিয়া পৌরশহরে গণ-শৌচাগার নেই

১ম শ্রেণীর কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভা। ১ম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়ার পর শহরের মুল প্রধান কেন্দ্রে কোন গণ-শৌচাগার নেই। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দুর থেকে শহরে আসা লোকজন। এতে শহরে বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েকটি জায়গায় মলমূত্র ত্যাগের স্থান পরিণত হয়েছে। অনেকে আবার বাধ্য হয়ে শহরের গলি ও সড়কের পাশে মলমূত্র ত্যাগ করছে।
পৌরবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে চকরিয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সালে ‘খ’ শ্রেণী থেকে ‘ক’ শ্রেণী উন্নীত হয়। এরপর ২৫বছর গেলেও সেবার মান দেখার মত উন্নতি হয়নি। তবে ২০১৬সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পৌরশহরে চোখে পড়ার মত উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। পৌরবাসী বলছেন, এর আগে কোন মেয়রের আমলে এত উন্নয়ন হয়নি। শহরে গণ-শৌচাগার না থাকলেও কোন মেয়রের মাথা ব্যাথা ছিল না। তবে আলমগীর চৌধুরী মেয়র হওয়ার পর গণ-শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
মুলত উপজেলার প্রাণকেন্দ্র পৌরশহরের চিরিংগা শহরে কোনো গণ-শৌচাগাার না থাকার ফলে বিপাকে পড়তে হয় সাধারণ লোকজনকে। গত বছর পৌর এলাকার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পাশে একটি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়। তবে শহরের শতাধিক ছোট-বড় মার্কেটে কোন শৌচাগার না থাকার ফলে লোকজনকে অসুবিধায় পড়তে হয়। যে সব মার্কেটে শৌচাগার আছে সেইগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। এখন চিরিংগা শহরে তিনটি গণ-শৌচাগার নির্মাণ প্রাণের দাবি হয়ে পড়েছে।
পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া পৌরসভার মোট জনসংখ্যা প্রায় দেড় লাগেরও কাছাকাছি। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে আশপাশের চারটি উপজেলার আরো কয়েক লক্ষ মানুষ এই শহরে যাতাযাত করে থাকে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ছাড়া পাশ্ববর্তী উপজেলার মানুষ প্রতিদিন দাপ্তরিক, কেনাকাটা, লেখাপড়াসহ নানা প্রয়োজনে শহরে আসে। মলমূত্র ত্যাগের প্রয়োজন হলে তাদের অনেকটা বিপাকে পড়তে হয়। তাই শহরে চিরিংগা এলাকায় অন্তত তিনটি গণশৌচাগাার নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
চকরিয়া পৌরসভার নকশাকার (ভারপ্রাপ্ত) আবু রাশেদ মোহাম্মদ জাহেদ উদ্দিন বলেন, ‘চকরিয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটা জায়গা, পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় ও পৌরসভার আশপাশে একটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো মুল শহরের প্রাণ কেন্দ্রে হওয়ায় গণশৌচাগারের জন্য উপযোগী হবে।’
চকরিয়া উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জেসমিন হক চৌধুরী জেসি বেগম বলেন, ‘শহরের মধ্যে একটাও গণ-শৌচাগার নেই। প্রয়োজন দেখা দিলে বেশির ভাগ মানুষই মসজিদের শৌচাগার বা আশপাশের খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করে। এটা আমাদের পৌরবাসীর জন্য দুঃখজনক। দ্রুত পৌরশহরে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আধুনিক মানের একটি গণ-শৌচাগার নিমার্ণ করার জন্য পৌর মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পৌরশহরে গণ-শৌচাগার না থাকার ফলে নারীদের জন্য সমস্যা আরো বেশি। মলমূত্র ত্যাগের জন্য অনেকে কাজ ফেলে বাড়িতে ফিরে যেতে হয়।’
চকরিয়া পৌরসভার সচিব মাসউদ মোরশেদ বলেন, ‘পৌরশহরে চিরিংগা এলাকায় গণ-শৌচাগার জরুরি সেটা ঠিক। পৌরবাসী ও দূর থেকে আসা লোকজনের কথা বিবেচনা করে শহরের কয়েকটি মসজিদ ও টার্মিনালের গণশৌচাগার ব্যবহার করে আসছে। এছাড়াও মেয়র মহোদয় শহরের তিনটি পয়েন্টে জায়গা নির্ধারণ করেছেন অতি দ্রুত সেটা কাজ শুরু করা হবে।’
চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘আসলে শহরের প্রাণকেন্দ্রে গণ-শৌচাগার অত্যন্ত জরুরি বলে আমি মনে করি। ইতিমধ্যে শহরের তিন পয়েন্টে গণ-শৌচাগার করার পরিকল্পনা করেছি। শহরের পুরাতন বাস টার্মিনাল, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পৌর ভবনের পাশে জায়গা নির্ধারণ করে প্রস্তাবও পাঠিয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে আমি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ব্যাপক হারে উন্নয়ন কাজ চলছে। পৌরবাসীকে শতভাগ সেবা দিয়ে যাচ্ছি। গুরুত্ব বিবেচনা করে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অফিসের পাশে একটা শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। নির্ধারিত জায়গায় তিনটি পয়েন্টে শিগগির শৌচাগারের নির্মাণ কাজ শুরু হবে।’

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!