বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট

চকরিয়া-পেকুয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

রবিবার, ১৪ জুলাই ২০১৯ | ৩:৩৬ অপরাহ্ণ | 227 বার

চকরিয়া-পেকুয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

টানা বৃষ্টি ও মাতামুহুরী নদী বেয়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ৬দিন ধরে নিমজ্জিত রয়েছে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ। বানের পানিতে তলিয়ে গেছে নলক‚প, কৃষিক্ষেত ও আউশ চাষের বীজতলা। তবে কিছু কিছু এলাকার বাসিন্দারা ইতিমধ্যে উচুঁস্থানে অবস্থান নিয়েছেন।

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী এলাকায় দেখা যায়, মাতামুহুরি নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি। মানুষ নৌকা নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। অধিকাংশ বসতঘরে পানি ঢুকে আসবাবপত্র ভিজে গেছে। দুই উপজেলায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে প্রায় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার বরইতলী, কাকারা, সুরাজপুর মানিকপুর, ডুলাহাজারা, হারবাং, পহরচাঁদা, বিএমচর, লক্ষ্যারচর ও শাহারবিল ইউনিয়ন, পেকুয়া উপজেলার সদর, শীলখালী, বারবাকিয়া, টইটং, মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অতিবৃষ্টিতে পানি জমে ও ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে মাতামুহুরী নদীর পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকে লোকালয় তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে দুই উপজেলায় তিন লক্ষাধিক মানুষ। প্লাবিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট।

কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত ওসমান বলেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বন্যার পানি কমেনি। প্লাবিত পরিবারে রান্নার কাজ বন্ধ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পানিবন্দী মানুষের মাঝে খিচুড়ি ও শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়।

চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, বন্যা কবলিত বেতুয়া বাজার ও ঝুঁকিপ‚র্ণ কুইরল্যারকুমের বেড়িবাঁধ দেখে এসেছি। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতনদের জানানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বন্যার পানি কমে না যাওয়া পর্যন্ত দুর্গতদের শুকনো খাবারের পাশাপাশি চাল ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেয়া হবে।

পেকুয়া ইউএনও মাহাবুবউল করিম বলেন, পেকুয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি আরো বাড়বে। মেহেরনামার ঢলের পানিতে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধটি সংস্কার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ মেট্রিক টন চাল ও ৫শ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

চকরিয়া ইউএনও ন‚রুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, অতিবর্ষণের ফলে বন্যার পানি নামতে পারেনি। পানিবন্দী রয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। বন্যার্তদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪০ মেট্রিক টন চাল ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা এখন বিতরণ করা হচ্ছে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!