এইমাত্র পাওয়া

x

তিন মাসেও অভিযুক্ত পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি

চকরিয়া গ্রামার স্কুলে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩:১০ পূর্বাহ্ণ | 94 বার

চকরিয়া গ্রামার স্কুলে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ

চকরিয়া পৌর সদরে অবস্থিত বাণিজ্যিক শিক্ষা প্রতিষ্টান চকরিয়া গ্রামর স্কুলে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র দিয়ে অষ্টম শ্রেণীর ইংরেজী পরীক্ষা গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার তিন মাস পার হলেও স্কুল কতৃপক্ষ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় শিক্ষার্থী ও অবিভাবক মহলে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। আর অভিজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্টান প্রশ্নপত্রে ভুল করায় সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয় ভুল প্রশ্ন পত্র দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা ভুল সংশোধনের জন্য স্কুল কমিটি ও প্রধান শিক্ষককে পরামর্শ দেন। কিন্তু পরামর্শ গ্রহনতো দূরের কথা বরং স্কুলের পরিচালক, বন্দর কলেজের প্রিন্সিপাল আবদুল হালিম উল্টো এ স্কুলের প্রাক্তন কিছু বাখাটে শিক্ষার্থী দিয়ে ওই সংবাদ কর্মীদেরকে নাজেহাল করার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে হতাশার জন্ম দিয়েছে। অভিবাবক মহল রীতিমত উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, গত ২৮ জুন ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ইংরেজী পরিক্ষার দিন ছিল। নিয়ম অনুযায়ী পরিক্ষা আরম্ভের শুরুতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মাঝে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন। বিষয়টি শিক্ষার্থীরা টের পেয়ে তাৎক্ষনিক শিক্ষকদের জানান । পরে হলে কর্মরত শিক্ষকরা ভুল অংশটি কেটে দেন। প্রশ্নপত্রের উপরে চকরিয়া গ্রামার স্কুল লেখাটি পুরাটাই ভুল ছিল। এমনকি প্রশ্নপত্রের ভেতরে সিন একটি শব্দ সহ অনেক ভুলে ভরা ছিল। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষে বিষয়টি তাদের অবিভাবকদের জানালে তাদের মাঝে ক্রোদের সৃষ্টি হয়। তারা স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের স্মরনাপন্ন হন। সংবাদ কর্মীরা স্কুল কতৃপক্ষকে বিষয়টি সংশোধনের পরামর্শ দিলে এতে স্কুলের পরিচালক আবদুল হালিম ও প্রধান শিক্ষক রফিকুল হক ক্ষেপে গিয়ে স্কুলের প্রাক্তন কিছু বখাটে শিক্ষার্থী দিয়ে সংবাদ কর্মীদের নাজেহাল করার চেষ্টা করেন। আদনান চৌধুরী, আজিজুল হক, সিরাজুল মোস্তাকিম, কায়েস আজম, মো. আসিফ নেয়াজ, মো. ফয়েজ, সাজেদুল হাসান, এমডি রিয়াজুল ইসলাম রিয়াদ, এমডি আরফাত, জুনাইদ উদ্দিন নামে ফেইসবুক আইডি থেকে সংবাদ কর্মীদের বিরুদ্ধে অশালীন বাক্য লিখে ও হুমকি প্রদান করেন। বর্তমানে এঘটনায় সংবাদ কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তাছাড়া পরিচালক আবদুল হালিম ও প্রধান শিক্ষক রফিকুল হকের বিরুদ্ধে স্কুলের অরো নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। প্রধান শিক্ষক লামা বালিকা বিদ্যালয়ে থাকতে শিক্ষার্থী কে নিয়ে অনৈতিক কাজে ধরা পড়ায় অবিভাবকেরা গনধোলাই দেন। প্রধান শিক্ষক কোন না কোন কারণ দেখিয়ে নিজেই শিক্ষার্থীদের অমানুষিক ভাবে নির্যাতন ও মারধর করে থাকেন। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন এমন অভিযোগ এনে একজন ছাত্রকে কয়েকদিন পূর্বে বেত দিয়ে পিঠিয়ে জখম করেন।

স্কুলের শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহ নানা বিষয়ে বেশি অত্যাচার হয় এই গ্রামার স্কুলে। শুধু তা নয় স্কুলের ভেতর ক্লাস কালিন চলে কোচিং বাণিজ্য চলে। শ্রেণি শিক্ষক থেকে প্রাইভেট না পড়লে সেসব ছাত্র-ছাত্রী ফেল করে দেয়া হয়। এ কারণে সমাজের শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক থেকে কর্মচারীরা আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হতে থাকে আর শিক্ষিত বেকার যারা আছে আঙ্গুল চুসে চুসে দিন কাটাচ্ছে।

এছাড়া স্কুল কমিটির বিরুদ্ধে রয়েছে জমি দখরের অভিযোগ। অন্যের জমি জবর দখর করে নির্মান করেছে স্কুল ভবন। দখল বেদখল নিয়ে মাললার জালে জর্জরিত স্কুলটি। স্কুল কতৃপক্ষ ভর্তির ক্ষেত্রে কোন নিয়মেয় তুয়াক্ষা না করা। শিক্ষা স্বীকৃতি পাওয়া স্কুলে কি করে মালিকেরা ২৫০০০ টাকার ডিপিএস করে তা জাতি জানতে চায়। বিনামুল্যে বিতরণের সরকারী বই থেকে সেট প্রতি টাকা নেওয়ার ও অভিযোগ আছে স্কুলের বিরুদ্ধে। স্কুলের একাউন্টের টাকা নিয়ে হোষ্টেল ভবন নির্মানে নানা অনিয়মের অভিযোগ ও নতুন নয়। নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের কাছ থেকে জন প্রতি ৫শত করে নেওয়ার পরে নিয়োগ পত্র হাতে না দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। সরকারী বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয় বেতন। শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য ২০০০ থেকে শুরু। অথচ ভর্তি আয় প্রায় ৪৫ লক্ষের উপরে। মাসিক আয় প্রায় ৯ লক্ষ, মাসিক বেতন প্রায় ৪ লক্ষ। বাৎসরিক ৬ টি পরিক্ষার আয় পকেটে ভরে প্রদান শিক্ষক। এখানে শিক্ষার্থীদের জঙ্গী বানানো হয়। এ প্রতিস্টানে কর্মরত মাস্টার্স পাস শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। পরিচালকদের পকেটে যায় স্কুলের আয়ের টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের জনৈক শিক্ষক বলেন, ভুলে ভরা প্রশ্নপত্র গুলি বাজার থেকে কিনে এনেছেন স্কুলের পরিচালক আবদুল হালিম। আর সেগুলি সংশোধন না করেই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। যারকারণে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ওবাইদুল হাকিম বলেন গ্রামার স্কুলটির অধিকাংশ জায়গা জবরদখল করা। এভাবে জমি দখল করে শিক্ষা প্রতিষ্টান খুলে শিক্ষা দেয়া যায়না। গ্রামার স্কুলের দখল করা বেশিরভাগ জায়গা আমাদের পরিবারের ।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রুহুল আমীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্রে সামান্য ভুল ছিল। পরে তা সংশোধন করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য অভিযোগ গুলো সত্য নয়।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভুল প্রশ্ন পত্রের বিষয়টি আমি জেনেছি। এ রকম ভুলে ভরা প্রশ্নপত্র দিয়ে শিক্ষার্থীদের থেকে পরীক্ষা নেওয়াটা দুঃখ জনক। তবে এটির কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!