এইমাত্র পাওয়া

x

চকরিয়ায় সরকারি বনভুমি দখলে নিয়ে বিএনপি নেতার প্লট বাণিজ্য

মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫:৩৯ অপরাহ্ণ | 88 বার

চকরিয়ায় সরকারি বনভুমি দখলে নিয়ে বিএনপি নেতার প্লট বাণিজ্য

চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট এলাকায় বনবিভাগের বেসুমার জমি দখলে নিয়ে জমিদারী প্রথা চালু করেছেন বিএনপি নেতা বাহাদুর মিয়া। গত ৮-১০বছরের ব্যবধানে দখলে নেয়া বেশিরভাগ জমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছেন তিনি। বর্তমানে এসব স্থাপনা প্লট আকারে তৈরী করে রীতিমত দলিলপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বাহাদুর মিয়া।
অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি-জোট সরকার আমলে প্রভাবশালীরা রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট ও ডুলাহাজারা এলাকায় দাপুটে নেতা ছিলেন বাহাদুর মিয়া। সেই থেকে তিনি ক্ষমতা ব্যবহার করে মালুমঘাট বাজারস্থ বনবিভাগের মুল্যবান বেসুমার জমি দখলে নিতে শুরু করেন।
পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করে ফের রাতারাতি ভোল্ড পাল্টিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা বনে যান বাহাদুর মিয়া। তারপর আবারও শুরু করেন বনবিভাগের জমি দখলের মহোৎসব। বর্তমানে মালুমঘাট বাজারের ভেতরে ও আশপাশ এলাকায় অন্তত দুই থেকে তিন কোটি টাকা সরকারি জমি দখলে রয়েছেন বিএনপি নেতা বাহাদুর মিয়া।
অবশ্য বনবিভাগের বেসুমার জমি দখলে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার ফলে দিনদিন বনভুমি বেহাত হচ্ছে দেখে তিনবছর আগে তৎকালীন চকরিয়া উপজেলা বনায়ন কমিটির সভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম বনবিভাগ, বিজিপি ও পুলিশের সমন্বয়ে একটি বড়ধরণের উচ্ছেদ অভিযানের উদ্যোগ নেন। ওইসময় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলকে ম্যানেজ করে বিএনপি নেতা বাহাদুর মিয়া সেইদিনের উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখতে সক্ষম হন।
স্থানীয় লোকজন ও এলাকার জনপ্রতিনিধিদের দাবি, প্রশাসনের ওই উচ্ছেদ অভিযানটি বন্ধ করতে সফল হবার পর থেকে বিএনপি নেতা বাহাদুর মিয়া বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বর্তমান সরকারের আমলেও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের আস্কারায় বনভুমি দখলে মেতে উঠেছে।
এলাকাবাসির দাবি, ইতোমধ্যে বাজারের ভেতর আইডিয়েল স্কুলের পিছনে বনবিভাগের জমিতে স্থায়ী অবৈধ পাঁকা দালান গড়ে তুলেছে মালুমঘাটার বাহাদুর মিয়া। পাশাপাশি দখলে রেখেছেন বনবিভাগের বেসুমার রির্জাভ জায়গা। বর্তমানে এসব জায়গা প্লট আকারে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। সরকারি এসব জায়গার দখল বিক্রিতে রীতিমত লিখিত স্ট্যাম্প ও দলিল সম্পাদনও করছেন বাহাদুর মিয়া। বাহাদুর মিয়া কতৃক সরকারি বনভুমির জায়গা বিক্রির এ ধরণের অনেক দলিল-দস্তাবেজ এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, বাহাদুর মিয়া বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও বর্তমানে ভোল্ট পাল্টিয়ে খাঁটি আওয়ামীলীগ নেতা বনে গেছেন। তাঁর দেখাদেখিতে অপর ভাই আওয়ামীলীগ নেতা রফিক মিয়ারও কয়েকবছর আগে মালুমঘাট স্টেশনের উত্তরে বনবিভাগের বিশাল এলাকা দখলে নিয়েছেন। সেখানে তিনি চারতলা বিশিষ্ট পাকাভবন তৈরী করে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে তাঁরা দাপটশালী হবার কারণে এলাকার পরিবেশ সচেতন মহল লোকজন তাদের এসব অপকর্মে বাঁধা দিতে সাহস করছেনা।
অবশ্য লোভ-লালসা উপেক্ষা করে সম্প্রতি সময়ে বাহাদুর মিয়ার কবল থেকে সরকারি সম্পদ দখলে নেয়া বনবিভাগের এসব জায়গা উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বনবিভাগের ফাসিয়াখালী রেঞ্জে ছয়মাস আগে যোগদান করা রেঞ্জ মাজহারুল ইসলাম। তিনি এলাকা ঘুরেফিরে বাহাদুর মিয়া দখল বাণিজ্য দেখার পর সম্প্রতি বদলী হওয়া কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা হক মাহাবুব মোর্শেদকে অবহিত করেন। তার নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযানে নামার শুরুতে কৌশলী দখলবাজ বাহাদুর মিয়া কুটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে গণমাধ্যমে রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহাজারুল ইসলামকে জড়িয়ে মিথ্যাচার শুরু করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সচেতন মহলের দাবি, রেঞ্জ কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে বনভুমি দখল ঠেকাতে এবং অবৈধভাবে দখলে নেয়া বনবিভাগের জায়গা উদ্ধারে চেষ্ঠা করছেন। তিনি কোন ধরণের জায়গা বিক্রি বা বনজসম্পদ উজাড়ে জড়িত নেই। পক্ষান্তরে রেঞ্জ কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম যখনই বিএনপি নেতা বাহাদুর মিয়া ও তাঁর ভাই রফিক মিয়ার অবৈধ দখলে থাকা সরকারি সম্পদ উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন তখনই নিজের অপর্কম ঢাকতে গিয়ে বিএনপি নেতা বাহাদুর মিয়া চক্রান্ত করে ওই বনকর্মকর্তাকে ফাঁসাতে নতুন নাটক তৈরী করেছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সচেতন মহলের দাবি, বর্তমানে এসব স্থাপনা প্লট আকারে তৈরী করে রীতিমত দলিলপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তদন্ত করলে বিএনপি নেতা বাহাদুর মিয়া দখলে নেয়া বনবিভাগের জায়গা অবৈধভাবে বিক্রি করার ঘটনা বেড়িয়ে আসবে।
জানতে চাইলে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, খোঁজ-খবর নিয়ে জেনেছি, আমি এখানে যোগদানের কয়েকবছর আগে ডুলাহাজারা বনবিটের বিপুল বনভুমি বিএনপি নেতা বাহাদুর মিয়া দখলে নিয়েছেন। সেখানে তিনি অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছেন।
তিনি বলেন, আমি কোন ধরণের দখল-বেদখলকে পশ্রয় দেবেনা। বেহাত হওয়া এসব সরকারি সম্পদ উদ্ধারে অবশ্যই প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেবো। তাঁর আগে বিষয়টি কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের নতুন বিভাগীয় কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে। তাঁর নির্দেশক্রমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!