চকরিয়ায় বিপনি-বিতানে ১ লাখ ৩৮ হাজার জরিমানা আদায়

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০ | ২:৩৫ অপরাহ্ণ | 119 বার

চকরিয়ায় বিপনি-বিতানে ১ লাখ ৩৮ হাজার জরিমানা আদায়

চকরিয়া পৌরশহরের বিভিন্ন বিপনী বিতান প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রতিদিন সেহেরির পরে ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত দোকান খুলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে তাৎক্ষণিক শুদ্ধি অভিযানে নামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সামসুল তাবরীজ।

এ সময় ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্বর্ণের দোকান, শাড়ির দোকান, রড-সিমেন্টের দোকানসহ বিভিন্ন দোকানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলায় অসাধু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫’শ টাকা জরিমানা আদায় করেন। এছাড়াও তিনজন ব্যক্তিকে আটক করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৪মে) ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চকরিয়া পৌরশহরের বিভিন্ন বিপনী বিতানে এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সামসুল তাবরীজ।

জানা গেছে, গত ৮ মে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়। উক্ত সভায় ব্যবসায়ীরা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এরই প্রেক্ষিতে দোকান মালিকরা দুই মাসের দোকান ভাড়া মওকুফ এবং দোকান কর্মচারীদের পৌরসভার মেয়র ঈদ উপলক্ষে উপহার সামগ্রী দেয়ার আশ্বাস দেন। পরে ওই সভায় উভয়পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে ঈদ পর্যন্ত দোকান না খোলার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। কিন্তু তারপরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রশাসনের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন সেহেরির পর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত দোকান খুলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলা টেকনেশিয়ান এরশাদুল হক বলেন, ইতিমধ্যে চকরিয়ায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমন রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। দেশের মানুষকে এ মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমন রোধে উপজেলা ও পৌর শহরের বিপনি-বিতানসহ বিভিন্ন ধরনের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সামসুল তাবরীজ বলেন, কোথায় কি হচ্ছে, কারা কি করেন সবধরনের খবর আমাদের নজরে রয়েছে। এ লকডাউনে ব্যবসায়ীরা মনে করেছিলো প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে তারা ব্যবসা চালিয়ে যাবে। কিন্ত সেটা আমরা হতে দেবনা। কোন অবস্থাতেই দোকান খোলা চলবেনা। যারা এই নির্দেশ অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরো কঠোর হবে প্রশাসন। এখন জরিমানা করা হলেও পরে জেল দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, চকরিয়া বর্তমানে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা বিস্তার রোধ করতে গিয়ে আমার এসিল্যান্ড করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এরই মাঝে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লোভে পড়ে ব্যবসা করে যাচ্ছিল। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলায় অসাধু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫’শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত প্রশাসনের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!