এইমাত্র পাওয়া

x

বানিয়ারছড়া-বরইতলী-পেকুয়া সড়কে যান চলাচল বন্ধ

চকরিয়ায় পানি বন্দী লক্ষাধিক মানুষ

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০১৯ | ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ | 164 বার

চকরিয়ায় পানি বন্দী লক্ষাধিক মানুষ

চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীতে বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি। এতে উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বানের পানি। গত শনিবার থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত টানা ৫ দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার রাত আটটায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভারী বর্ষণ অব্যাহত ছিল। একদিকে ভারী বৃষ্টিপাত অপরদিকে মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা ঢলের পানি দুই কূল উপচে সরাসরি লোকালয়ে প্রবেশ করায় উপজেলার অন্তত লক্ষাধিক মানুষ এখনো পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে বানিয়ারছড়া-বরইতলী-পেকুয়া সড়কে।

এ কারণে জরুরি প্রয়োজনে মানুষ নৌকায় চেপে পারাপার করছে। অপরদিকে উপজেলা ও পৌরসভার প্রায় ২০ হাজার একর জমির মৌসুমী ফসল দুইদিন ধরে পানির নিচে তলিয়ে থাকায় কৃষিখাতে বড় ধরণের আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হবেন কৃষকেরা। পাহাড়ে অতিবর্ষণের ফলে মাতামুহুরী নদীতে আশঙ্কাজনক ভাবে প্রবাহিত হচ্ছে ঢলের পানি। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে উপজেলার মিঠাপানির মৎস্য প্রকল্পগুলো তলিয়ে যেতে পারে। বেড়িবাঁধ অরক্ষিত থাকায় উপজেলার চিংড়িজোনের শতকোটি টাকার উৎপাদিত চিংড়িও ভেসে যেতে পারে। এই আশঙ্কা ভর করছে ঘের মালিক ও মৎস্য প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মাঝে।

ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় উপজেলার হারবাং, বরইতলী, বানিয়ারছড়া, কৈয়ারবিল, ইসলাম নগর, কাকারা, ছাইরাখালী, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা ও খুঠাখালী ইউনিয়নের একাধিক এলাকায় পাহাড় ধসের আশংকায় রয়েছে এলাকাবাসী।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার জানান, দুইদিন ধরে বানের পানিতে ভাসছে তার ইউনিয়নের ৬টি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ।
চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন জানান, বানের পানিতে একাকার হয়ে পড়েছে চরণদ্বীপসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম দিদারুল হক সিকদার জানান বানের পানিতে তার ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে ডুবে গেছে । এসব গ্রামের প্রায় ৭ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।

তিনি বলেন মাতামহুরী নদীর প্রবল ¯্রােতে তার ইউনিয়নের উপর দিয়ে যাওয়া বাঘগুজারা- কোনাখালী- বাংলাবাজার-বদরখালী সড়কটি নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামো। এতে চরম দুর্ভোগে নিপতিত হয়েছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, এখনো পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহতায় রূপ নেয়নি। সার্বক্ষণিক চারদিকে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তরে বন্যা তদারক সেল খোলা হয়েছে।

পাশাপাশি সরেজমিন বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করা হয়েছে। এসব বিষয় লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!