চকরিয়ায় দিনদুপুরে কাউন্সিলরকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা: হামলাকারী গ্রেপ্তার

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২০ | ১:২৩ অপরাহ্ণ | 55 বার

চকরিয়ায় দিনদুপুরে কাউন্সিলরকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা: হামলাকারী গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর রেজাউল করিমের উপর দিনে দুপুরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পৌরসভার স্থানীয় একটি সড়ক নির্মাণ কাজে বাঁধা দিয়ে ব্যর্থ হয়ে বিএনপির সহযোগি সংগঠন শ্রমিকদলের ক্যাডার কফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সস্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। হামলায় রেজাউল করিমের একটি হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এসময় রেজাউল করিমকে বাঁচাতে গেলে কিরিচের আঘাতে তার ভাইপো সাঈদী সাহেদ মিঠুর দুটি আঙ্গল কেটে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত কাউন্সিলর রেজাউল করিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ১৭ জুলাই বেলা ৩টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডস্থ জনতা মার্কেট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত কাউন্সিলর রেজাউল করিম চকরিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সম্পাদক এবং সাঈদী সাহেদ মিঠু একই এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় লোকজন সন্ত্রাসী কফিল উদ্দিনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। সন্ত্রাসী কফিল উদ্দিন ওই এলাকার বাদশার ছেলে। সে বিএনপি’র রাজনীতির সাথেও জড়িত বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘটনার পরপরই গুরুতর আহত কাউন্সিলর রেজাউল করিমকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র মো.আলমগীর চৌধুরী, চকরিয়া থানার ওসি মো.হাবিবুর রহমনাসহ রাজনৈতিক নেতারা।
আহত পৌর কাউন্সিলর রেজাউল করিমের বরাত দিয়ে চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কছির বলেন, পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে কয়েকদিন ধরে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছিলো। এই সড়ক নির্মাণ কাজে বাঁধা প্রদান করে আসছে স্থানীয় বাসিন্দা বিএনপির সহযোগি সংগঠন শ্রমিকদলের ক্যাডার কফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী।
এক পর্যায়ে গত কয়েকদিন আগে কাউন্সিলর রেজাউল করিমের সাথে কফিল উদ্দিনের কথা কাটাকাটি হয়। এতে কফিল উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিকাল ৩টার দিকে কাউন্সিলর রেজাউল করিমের বাসায় ফেরার পথে ধারালো কিরিচ ও দা দিয়ে হামলা চালায় কফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী। এতে কাউন্সিলর রেজাউল করিমের একটি হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থা। এসময় রেজাউল করিমকে বাঁচাতে গিয়ে তার ভাইপো সাঈদী সাহেদ মিঠুর হাতের দুটি আঙ্গুলও কেটে যায়।
চকরিয়া পৌরসভার মেয়র মো.আলমগীর চৌধুরী বলেন, এ ধরনের হামলা খুবই ন্যাক্কারজনক। একজন জনপ্রতিনিধির উপর হামলা কোন অবস্থাতেই মানা যায় না। কারা এ হামলার সাথে জড়িত তাদের দ্রæত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব জাফর আলম বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। এ ধরনের হামলা কোন অবস্থাতেই মেনে নেয়া যায়না। যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকুক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি। কাউন্সিলর রেজাউল করিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.হাবিবুর রহমান বলেন, এমপি ও মেয়রসহ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। গুরুতর আহত কাউন্সিলর রেজাউল করিমকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এঘটনার সাথে জড়িত কফিল উদ্দিনকে জনতার সহায়তায় আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে কাউন্সিলর রেজাউল করিমের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত হামলাকারী সবাইকে অবিলম্বে গ্রেফতার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চকরিয়া পৌরসভার সকল কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। শুক্রবার বিকাল পাঁচটার দিকে পৌরসভা ভবনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন প্যানেল মেয়র বশিরুল আইয়ুব। উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার কাউন্সিলর মছুদুল হক মধু, কাউন্সিলর জিয়াবুল হক, কাউন্সিলর জাফর আলম কালু, কাউন্সিলর ফোরকানুল ইসলাম তিতু, কাউন্সিলর জামাল উদ্দিন, কাউন্সিলর মুজিবুল হক মুজিব, কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, এবং পৌরসভার সকল সকল নারী কাউন্সিলরবৃন্দ।
অপরদিকে কাউন্সিলর রেজাউল করিমের উপর হামলায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের গ্রেফতার দাবি করেছেন চকরিয়া পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারী এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ। বিবৃতি দিয়েছেন পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারী এসোসিয়েশন চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির উপদেষ্টা পৌরসচিব মাস-উদ মোর্শেদ, কক্সবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক চকরিয়া পৌরসভার নকশাকার আবু রাশেদ মোহাম্মদ জাহেদ উদ্দিন, সহকারী প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মৃনাল কান্তি ধর, মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার মো.লোকমান, হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা সফায়াত হোসেন, পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারী এসোসিয়েশন বিভাগীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পৌরসভার কর আদায়কারী জহুরুল মওলা, বিভাগীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক বিল্ডিং পরির্দশক রাজিফ চৌধুরী, চকরিয়া পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারী এসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাক আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল মোস্তফা, বাজার পরিদর্শক বশির আহমদ, কর নির্ধারক ফরিদ আহমদ, উচ্চমান সহকারী ওসমান গনী, অফিস সহকারী আবদুল হামিদ, সহকারী কর আদায়কারী নুরুল আবছার, মোহাম্মদ এমরান, ছলিম উল্লাহ, আদায়কারী রাশেদ কামাল, জানে আলম, মৌলানা রিদুয়ানুল হক, পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক আবুল কালাম, স্যানিটারী পরির্দশক হায়দার আলী, ঠিকাদানকারী সুপার ভাইজার নাজেম উদ্দিন, সহকারী ঠিকাদানকারী চম্পক দত্ত, আবদুল লতিফ, মিনহাজ উদ্দিন, রফিক আহমদ, বিদ্যুৎ লাইনম্যান ফরিদুল আলম, সহকারি রফিকুল আলম, অফিস সহায়ক আলী আকবর, খোকন চৌধুরী, নুরুল আমিন, আব্বাস আহমদ, আবছার, আক্তার, সেলিম, মোহাম্মদ সফি এছাড়াও সকল কর্মচারীবৃন্দ।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!