কক্সবাজার রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড

ঘুরে আসুন সাগরের তলদেশ থেকে

শনিবার, ২৯ জুন ২০১৯ | ১:২৯ অপরাহ্ণ | 412 বার

ঘুরে আসুন সাগরের তলদেশ থেকে

সাগরে পাহাড়, গুহা, তলদেশ উঁচু নিচু আর এলোমেলো পথ অনেকটা সাগর পাড়ি দেয়ার মতো। এমন এ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণ বিনোদনের জন্য দেশে প্রথমবারের মতো গড়ে উঠেছে রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড। যা কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে সংযোজন করেছে বিনোদনের নতুন ধাপ।

মালেশিয়ার টেকনিক্যাল প্রকৌশলির সহায়তায় নির্মিত আন্তর্জাতিক মানের এই এ্যাকুরিয়াম নির্মাণে সময় লেগেছে দুই বছর। এটি শুধু কক্সবাজারের জন্য নয়- বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

এই এ্যাকুরিয়ামে বঙ্গোপসাগরের থাকা বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মৎস্য সংরক্ষণসহ অচেনা এবং বিলুপ্ত প্রায় অনেক মাছও রয়েছে। সাগরের বিলুপ্ত মাছ বিভিন্ন প্রাণী সংরক্ষণে একটি জাদুঘরও করা হচ্ছে। এটা শুধু বিনোদনের জন্য নয়, এটি সাগরের জীববৈচিত্র ও প্রাণী সম্পর্কে জানার একটি শিক্ষা কেন্দ্র বলে মনে করেন আগত পর্যটকরা।

সিলেট থেকে আসা আরিফুল ইসলাম বলেন, আগে অনেকের মুখে শুনেছি এ এ্যাকুরিয়ামের কথা। কিন্তু আজ বাস্তবে নিজে দেখলাম। সত্তি খুবই আনন্দিত আমি। পাশাপাশি এখান থেকে অনেক কিছু শেখার রয়েছে যা আমরা আগে জানতাম না।

নড়াইলের মুরাদ হোসেন বলেন, প্রথমে প্রবেশের সময় মনে কোন এক গুহায় প্রবেশ করছি। কিন্তু বেতরে ঢুকার পর সেটা অনেকটা সাগরের মতো। উপরে নিচে পানি আর পানি। আর সেই পানিতে খেলা করছে নানান প্রজাতির মাছ। সত্তি হতবাক হওয়ার মতো।

ঢাকা থেকে আসা আরিফা ইসলাম রাখি বলেন, এত মাছ এক সাথে কখনো দেখিনি। এখানে অনেক মাছ আছে যা আমরা আগে দেখিনি। আসলে খুবই সুন্দর এ্যাকুরিয়ামটা। কারণ একেবারে সাগরের আদলে করা হয়েছে এটি। পাহাড় উচু নিচু পথ আর পানি।

এ্যাকুরিয়ামে রাখা হয়েছে সামুদ্রিক শৈল মাছ, হাঙ্গর, পিতম্বরী, আউস, শাপলা, পাতা, সাগর কুচিয়া, বোল, পানপাতা, পাংগাস, চেওয়া, কাছিম, কাঁকড়া, জেলি ফিসসহ অর্ধশতাধিক প্রজাতির মাছ। কিছু বিরল প্রজাতির মাছও এখানে রয়েছে।

তবে বেসরকারীভাবে গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের দাবি, দেশে-বিদেশে এ ফিস এ্যাকুরিয়ামের বার্তা পৌছে দিতে পারলে দেশের পর্যটন শিল্পে এটি বড় ধরণের ভুমিকা রাখবে।

কক্সবাজার রেডিয়েন্ট ফিস ওয়াল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, আস্তে আস্তে পরিচিতি লাভ করছে রেডিয়েন্ট ফিস ওয়াল্ড। পর্যটকদের জন্য এ এ্যাকুরিয়াম অনেক কিছু। মাছ যে একটা বিনোদন হতে পারে সেটা আমাদের আগে জানা ছিল না। কিন্তু এখন যেভাবে মানুষের সাড়া পাচ্ছি আশা করছি সামনে দেশের পর্যটন শিল্প একটা বড় অবদান রাখতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারে প্রতি বছর লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটছে। সে সুবাধে যারায় রেডিয়েন্ট ফিস ওয়াল্ডের কথা জানেন তারা আসছেন। নিরাপত্তাসহ গাড়ী পার্কিয়ের সু-ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!