এইমাত্র পাওয়া

x

‘গ্রন্থ প্রকাশনার’ নামে শিবিরের সাবেক ও বর্তমানদের মিলন মেলা

শনিবার, ১৩ জুলাই ২০১৯ | ৪:৫৪ অপরাহ্ণ | 370 বার

‘গ্রন্থ প্রকাশনার’ নামে শিবিরের সাবেক ও বর্তমানদের মিলন মেলা

মাঠের রাজনীতিতে কোনঠাসা জামায়াত ইসলামী প্রকাশ্যে আসার কৌশলের অংশ হিসেবে কক্সবাজারে নানা তৎপরতা শুরু করেছে। সংগঠনটি প্রকাশ্যে আসার তৎপরতায় ইতিমধ্যে আয়োজন করেছে একটি গ্রন্থের ‘প্রকাশনা অনুষ্ঠান’।

যে অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকী প্রদানকারি ২৭ টি নাশকতা মামলার আসামী ও শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার আমিনুল ইসলাম হাসান সহ জেলা জামায়াত ও ছাত্র শিবিরের প্রথম সারিতে নেতৃত্ব দেয়া অন্তত সাবেক ও বর্তমান ২৫ জনের বেশী নেতাকর্মি।

মূলত: ‘গ্রন্থ প্রকাশনা উৎসবের’ আড়ালে নানাভাবে সংগঠিত হয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে সরকার পতনের লক্ষ্যে নাশকতার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জামায়াতের নেতাকর্মিদের প্রকাশ্যে আসার অপচেষ্টা।

বৃহস্পতিবার বিকালে কক্সবাজার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘শীর্ষ স্থানীয় ওলামা-মাশায়েখ কক্সবাজার জেলা’ নামের একটি গ্রন্থের মোড়ক অনুষ্ঠান।

কক্সবাজার হাশেমিয়া কামিল (মাস্টার্স) মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ হাবিব উল্লাহ রচিত গ্রন্থটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি ছিল মূলত: মাঠের রাজনীতিতে কোনঠাসা জামায়াতের প্রকাশ্যে আসার কৌশলেরই অংশ। যাতে করে দীর্ঘদিন ধরে মাঠের রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা নেতাকর্মি মনোবল ফিরে পাবে।

এ নিয়ে কক্সবাজারের সচেতন মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে এটিকে জামায়াতের ধুরন্ধর কৌশলের অংশ হিসেবে মাঠের রাজনীতিতে প্রকাশ্যে আসার অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন।

‘আল্লামা হাফেজ আবদুল হাই (রহ:) স্মৃতি সংসদ, কক্সবাজার জেলার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জামায়াত সমর্থিত ও পৃষ্টপোষকতাকারি জেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ব্যক্তিত্ব ছাড়া সংগঠনটির প্রথম সারিতে নেতৃত্ব দেয়া দুর্ধর্ষ ক্যাডার এবং নেতাকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।

এমন কি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনুসও জামায়াত-বিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত। বিগত ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর জামায়াত-বিএনপির ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে ‘সাদা প্যানেলের’ (বিএনপি-জামায়ারত সমর্থিত) প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

এদিকে জামায়াত রাজনীতিতে বরাবরই ধুরন্ধর কৌশলের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত রেখেছিল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক কামাল হোসেন চৌধুরী এবং কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ফজলুল করিম চৌধুরী (মুক্তিযোদ্ধা)।

বিগত ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জনসর্মথন নিয়ে সরকার গঠনের পর থেকে রাজনৈতিকভাবে জামায়াত ইসলামী প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়ে। এতে এক পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্মান্তরকরণসহ যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনের অভিযোগে জড়িত জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচারের দাবি উঠে। জনতার দাবির মুখে গঠিত হয় ‘যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের আন্তর্জাতিক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’।

গণআন্দোলনের এক পর্যায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হলে ধংসাত্বক রাজনীতি শুরু করে জামায়াত ও ছাত্র শিবির। সংগঠনটির জ্বালাও পোড়াও রাজনীতির কারণে দেশব্যাপী চলতে থাকে আন্দোলনের নামে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে মানুষ হত্যা, গাড়ীতে অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি সম্পদসহ দেশের অর্থনীতি ধংস করে সরকার পতনের নানা অপচেষ্টা। এরই মধ্যে বিগত ২০১৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের শীর্ষ স্থানীয় কেন্দ্রিয় নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার বিচারে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় আরো বেশী ধংসাত্বক হয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মিরা। একটানা ধংসাত্বক রাজনৈতিক কর্মসূচীর কারণে দেশ অচলের মত অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে সরকার পতনের অপচেষ্টা চালায় জামায়াত-শিবির।

এদিকে সরকার ও জনতার প্রতিরোধের মুখে পড়ে রাজনীতির মাঠে কোনঠাসা হতে থাকে জামায়াত-শিবির। এতে মাঠের রাজনীতিতে জামায়াত নিষ্ক্রিয় হলেও গোপনে ধংসাত্বক ও নাশকতামূলক কর্মকান্ড অব্যাহত রাখে।

এরই মধ্যে আদালতের রায়ে জামায়াতের শীর্ষ স্থানীয় অধিকাংশ নেতাদের ফাঁসির হওয়ার পর মনোবল ভেঙ্গে পড়তে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মিদের। এতে সংগঠনটির মাঠপর্যায়ে কোন ধরণের কর্মসূচী না থাকায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে তৃণমূলের নেতাকর্মিরাও। এমন কি আদালতের মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উঠে সংগঠনটির বিরুদ্ধে।

এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে নিষ্ক্রিয় থাকা জামাায়াতের নেতাকর্মিরা নতুন করে সংগঠিত হবার জন্য নানা কৌশল নিয়েছে। সংগঠনটি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য গোপনে নানা অপৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। মূলত: মাঠ পর্যায়ে নিষ্ক্রিয় থাকা নেতাকর্মিদের মনোবল চাঙ্গা করে রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে নতুন করে নাশকতার পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে সরকার পতন জামায়াতের উদ্দ্যেশ। এ মাঠের রাজনীতিতে প্রকাশ্য হতে জামায়াত শিবির নানা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।

প্রকাশ্যে আসার কৌশলের অংশ হিসেবে কেউ কেউ নতুন করে যুক্ত হয়েছে সাংবাদিকতায়, কেউ কেউ শিল্প-সাহিত্য চর্চায়, কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসায়; আবার কেউ কেউ শ্রমিক সংগঠনে অথবা নতুন নতুন সংগঠন গড়ে তুলে নানা কাজে লিপ্ত দেখানোতে। তবে উচ্চ শিক্ষিতদের ক্ষেত্রে কৌশলও কিন্তু ভিন্নতর কেউ শিক্ষা ব্যবসায়, কেউবা নিজেদের গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে যুক্ত হবার।

গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবের মত প্রতিষ্ঠানে ‘গ্রন্থ প্রকাশনা উৎসবের’ আড়ালে জেলা জামায়াত-শিবিরের প্রথম সারির অন্তত ২৫ জনের বেশী নেতা ও দুর্ধর্ষ ক্যাডারদের প্রকাশ্যে আসার মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

যেটিকে কক্সবাজারের সচেতন মহল জামায়াতের মাঠ পর্যায়ে প্রকাশ্যে আসার ‘ড্রেস রিহার্সেল’ হিসেবেই দেখছেন। যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকী প্রদানকারি, ২৭ টি নাশকতা মামলার আসামী এবং ছাত্র শিবিরের সাবে দৃর্ধর্ষ ক্যাডার আমিনুল ইসলাম হাসানসহ জেলা পর্যায়ের প্রভাবশীশালী সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মিরা।
এদর মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, শহর শিবির সভাপতি কামরুল হাসান, জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি আল আমিন মো. সিরাজুল ইসলাম, বর্তমান জেলা সভাপতি রবিউল হাসান, জামায়াতের পৃষ্টপোষক ও সাবেক শিবির নেতা ওমর ফারুক, সাবেক শিবির নেতা ও জামায়াতের রুকন মমতাজুল, স্বাধীনত্তোর সময়ের প্রথমদিককার শিবির নেতা ও জামায়াতের রুকন কামাল হোসেন আজাদ সহ অন্তত ২৫ জনের বেশী প্রথম সারির সাবেক-বর্তমান নেতাকর্মি ও দুর্ধর্ষ ক্যাডাররা।

এদিকে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের মত প্রতিষ্ঠানে ‘গ্রন্থ প্রকাশনা উৎসবের’ আড়ালে ছাত্র শিবিরের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মিসহ দুর্ধর্ষ ক্যাডারদের মিলন মেলার আদলে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে দেয়ায় প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বরত সংশ্লিষ্টদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি সমালোচনার সৃষ্টি সর্বস্তরে।

গ্রন্থ প্রকাশনা উৎসবের নামের কক্সবাজারের জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মি এবং দুর্ধর্ষ ক্যাডারদের সম্মিলিত হবার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসেনি সংগঠনটির ধুরন্ধর কৌশলের কারণে বলে মন্তব্য করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন।

ইকবাল বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত বরাবরই ধুরন্ধর কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিল। তার অংশ হিসেবে প্রেসক্লাবে গ্রন্থ প্রকাশনা উৎসব করে থাকতে পারে।

দীর্ঘদিন মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় না থাকলেও সংগঠনটির নেতাকর্মিরা নতুন করে প্রকাশ্যে আসতে নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে মন্তব্য করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বর্তমানের স্থিতিশীল পরিবেশকে নষ্ট করতে কোন অপশক্তি যদি তৎপতা চালায় পুলিশ কঠোর হস্তে দমন করবে। দেশ ও স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিকে কোন ধরণের ছাড় দেয়া হবে না।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!