কুতুবদিয়ায় খাদ্য গুদাম নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ

শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০১৯ | ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ | 150 বার

কুতুবদিয়ায় খাদ্য গুদাম নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ

কুতুবদিয়ায় কোটি টাকার খাদ্য গুদাম নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী। নির্মাণাধীন অবস্থায় মূল ফটকের ছাদ দেবে যাওয়ায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এলাকাবাসীর সন্দেহ! গুরুত্বপূর্ণ এই গুদামের বেজ ঢালাইতেও যথেষ্ট পরিমাণে গাফেলতি থাকতে পারে। যার ফলে কোটি টাকা ব্যয় করে নির্মিত গুদামের সুফল বেশী দিন ভোগ করা যাবে না বলে ধারণা তাদের।

সরেজমিনে কুতুবিদয়া এলএসডি পরিদর্শন করে দেখা গেছে, দায়সারাভাবে তড়িগড়ি করে অযত্নে অবহেলায় নিমার্ণ করা একটি গুদামের রড়-সিমেন্টের পিলারগুলো ঠাই দাঁড়িয়ে আছে। আশে পাশে দেখা যায়নি খাদ্য গুদাম নির্মান কাজের বরাদ্দকৃত প্রাক্কলনের কোন ধরনের সাইনবোর্ড।

সামনের দিকে ঝুকে আছে পশ্চিম দিকের ফটকের ছাদ। এ যেন বিছমিল্লায় গলদ। সেটিকে আবার ঠেস দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করছে কয়েকটি বড়সড় রড়। পাশের অন্য তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ গুদাম যে কোন মুহুর্তে ধ্বসে পড়া অপেক্ষায় রয়েছে।

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর দেখা হয় চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারীর সাথে, কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কোটি টাকার কাজটি করছে। মালপত্র না থাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে কয়েকদিন। মালামাল আসলে কাজ পুনরায় শুরু হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের নেতৃবৃন্দ’র অভিযোগ, উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকার্তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং নিরব ভূমিকার কারনে কাজে অবহেলার সুযোগ পাচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এই এই নিরব ভূমিকার পেছনে অন্যকিছু থাকতে পারে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ ব্যাপারে জানতে কুতুবদিয়া এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাশ পাল চৌধুরীর সাথে মঠুফোনে যোগাযোগ করা হলে, প্রথমে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে লাইন কেটে দেন। পরে ৩ মার্চ রাত সাড়ে আটটার দিকে বক্তব্যের জন্য আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখন অফিসে অডিট আছে। পরে কথা বলবে জানিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজার জেলা খাদ্য কর্মকর্তা এস.এম তাহসিনুল হকের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ওই ছাদ ভেঙে নতুনভাবে নির্মানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে খাদ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মাহাবুবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে, তিনি গুদাম নির্মান কাজে অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

জানা যায়, এক কোটি দশ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে খাদ্য গুদামের এই ভবনটি। গুদামটি নির্মাণের প্রাথমিক অবস্থায় বিভিন্ন ত্রুটি দেখা দেয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলেন, এটি শুধু সরকারি সম্পদ নয়, এটি কুতুবদিয়া বাসীর সম্পদ। এই ভবন নিমার্ণে কোন অনিয়ম দ্বীপবাসী মেনে নিবে না। সুষ্ঠু তদারকির মাধ্যমে গুদাম নির্মাণ সামগ্রীসহ সার্বিক বিষয়ের গুনগত মান ঠিক রাখতে সংশ্লীষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!