‘কাঁকড়া, ডলফিন-কাছিম রক্ষায় উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার’

রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২০ | ৫:৫০ অপরাহ্ণ | 197 বার

‘কাঁকড়া, ডলফিন-কাছিম রক্ষায় উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার’
চলমান করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশের মতো লকডাউনে অন্যতম পর্যটন নগরী কক্সবাজার। সমুদ্র সৈকতের চারদিকে এখন শুধুই নিরবতা। এমন নিরবতা বিরাজ করছে দেশের একমাত্র মেরিনড্রাইভ সড়কেও।
এ সুযোগে প্রকৃতি যেমন তার রূপ ফিরে পেয়েছে। তেমনি সমুদ্র তীরে এসেছে ডলফিন, কাছিম ও লাল কাঁকড়াসহ নানান জলযপ্রাণী। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছে স্বপ্নের ডলফিন। একই সঙ্গে ভেসে আসতে থাকে কাছিমের মৃতদেহও। যা ভাবিয়ে তুলে পরিবেশ বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদীদের।
দেশের কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে টনক নড়েছে সরকারের উচ্চ মহলের। এবার সৈকতের লাল কাকড়া, কচ্ছপ, ডলফিন, সাগর লতাসহ জীব- বৈচিত্র্য রক্ষার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় যা বাস্তবায়ন করবে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)।
কউক সুত্রে জানাযায়, ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার সমুদ্র সৈকতের জীবন বৈচিত্র্য রক্ষায় জরুরী সন্বয় সভা ডেকেছিলেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব:) ফোরকান আহমেদ। সে সভায় জীব বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য সী-বীচে ওয়াটার বাইক বন্ধ, লাল কাকড়া সংরক্ষনের জন্য কবিতা চত্বর হতে ডায়াবেটিক পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়া দেয়া, মাদারবনিয়া, উত্তর সোনারপাড়া এবং দরিয়ানগর এলাকায় কচ্ছপ প্রজনন জোন, ইনানী ও শুটকি পল্লীতে লাল কাকড়া উৎপাদন করে বীচে ছেড়ে দেয়ার প্রকল্প গ্রহণসহ নানা প্রস্তাবনা দেয়া হয়। এছাড়াও ৭০ হেক্টর জমিতে ৬০ হাজার ঝাউগাছ লাগানোর পরিকল্পনা ও বিজিবি রেস্ট হাউজ হতে কলাতলী বীচ পর্যন্ত সাগর লতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব দেয়া হয়।
সভায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, কক্সবাজার পৌরসভা, পরিবেশ অধিদপ্তর, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বন বিভাগ, পর্যটন কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট্য দপ্তর/সংস্থার কর্মকর্তারা এ প্রস্তাবনা দেন।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে: কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের লাল কাকড়া, কচ্ছপ, ডলফিন, সাগরলতা রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় হতে বিশেষ নির্দেশনা এসেছে। উক্ত নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা সন্বয় করে কাজ করবো।

তিনি আরও বলেন, বিজিবি রেস্ট হাউজ হতে কলাতলী বীচ পর্যন্ত সাগর লতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া জীব বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য দরিয়ানগর ও পেচারদ্বীপ এলাকায় বৃহৎ আকারে আলাদা জোন করার পরিকল্পনা কাজ শুরু করবো শীঘ্রই।
ডলফিন হত্যার তদন্ত চলছে জানিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ডলফিন হত্যায় কারা জড়িতে সে বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে এ রহস্য বেরিয়ে আসবে। এছাড়াও কয়েকটি এলাকাকে বিশেষ জোন ঘোষণা করে সমুদ্র সৈকতের জীব-বৈচিত্র্য রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
তবে, পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপলের প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, উদ্যোগের কথা যদি কথাতেই রয়ে যায় তাহলে বিষয়টি ভিন্নদিকে মোড় নিবে। সরকারের পক্ষ থেকে যে নির্দেশনা এসেছে তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন চাই। প্রাণ প্রকৃতির উপর এমন আঘাত মেনে নেয়া যায় না।
উল্লেখ্য যে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বিভিন্ন পয়েন্টে ২৩ মার্চ (সোমবার) সকাল থেকে এক দল ডলফিন খেলা করতে করতে দেখা যাচ্ছিলো। কয়েকদিন ধরে দেখা গেলেও হঠাৎ ক্সবাজার উপকুল ভেসে এসেছে ১২ ডলফিনের মৃতদেহ। পাশাপাশি পাওয়া গেছে ৪ কাছিমের মরদেহও। তার মধ্যে, টেকনাফের শাপলাপুর সৈকতে ২ টি, দরিয়া নগর পয়েন্টে দুইটি, সান প্যারাস্যুট পয়েন্টে দুইটি ডলফিন ও দুইটি কাছিমসহ বিভিন্ন পয়েন্টে মোট ছোট-বড় ১২ টি ডলফিনের মৃতদেহ দেখেছে স্থানীয়রা। এসব মৃত ডলফিনের শরীরে দায়েকুপ ও লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এসব ডলফিন হত্যার নিতে চাইনা জেলেরা।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!