কক্সবাজার সদর মডেল থানা ২৮ দালালের নিয়ন্ত্রণে!

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯ | ১:১০ অপরাহ্ণ | 1991 বার

কক্সবাজার সদর মডেল থানা ২৮ দালালের নিয়ন্ত্রণে!

কক্সবাজার সদর মডেল থানায় দালালদের উৎপাত বেড়েছে। সকাল-বিকাল, সন্ধ্যা এবং রাতে এসব দালালরা থানায় গিজগিজ করে। থানার কম্পাউন্ড, বারান্দা, ওসি, এসআইদের কক্ষে এদের বিচরণ বেশী। রাত যত গভীর হয়, ততই এদের চলাফেরা বেড়ে যায়। এদের ইশারায় অনেকে কর্মকর্তা উঠে-বসে। ভূক্তভোগীদের দেয়া তথ্যমতে এসব দালালদের সংখ্যা শতাধিক। কিন্তু, দৈনন্দিন পত্রিকার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ২৮ দালালের নাম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে ২৮ জন পুলিশের র্সোস নামধারী দালাল নিয়ন্ত্রণ করছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা। এসব দালালরা হচ্ছেন যথাক্রমে কক্সবাজার সদর উপজেলা পোকখালীর জাহাঙ্গীর ওরফে বাইট্রা জাহাঙ্গীর, পিএমখালী এলাকার রাশেদ, মহেশখালী উপজেলার খোকা ও বাবু বর্তমানে তারা দু’জনেই বালিকা মাদ্রাসা এলাকায় বসবাস করে, সমিতি পাড়ার জামাল ওরফে লম্বা জামাল, সমিতি পাড়া এলাকার সাইদুল ওরফে ছৈয়দ্দ্যা, লাইট হাউজ পাড়ার ইয়াবা ব্যবসায়ী লাইজু, ফাতের ঘোনায় অবস্থানরত সুমন, লাইট হাউজ পাড়ার মনছুর, বাজার ঘাটার সোহাগ ওরফে তালাচাবি সোহাগ, পিএমখালীর আবছার ওরফে দালাল আবছার, ডিককুলের আবছার ওরফে কসাই আবছার, কলাতলী চন্দ্রিমা মাঠের বাইট্রা সুমন, কলাতলীর চন্দ্রিমাঘোনা এলাকার রুপা, আদর্শগ্রামের আবুল কালাম ওরফে বাঢিং, পিএমখালীর আলম ওরফে বাইট্রা আলম, একই এলাকার মাহমুদুল করিম, খালেদা আক্তার ওরফে পানখোর নানি, আনজুনি, মুহুরীপাড়া বিসিকের সরওয়ার, জেলগেইট এলাকার ইউনুছ ওরফে ডাকাত ইউনুছ, ঘোনারপাড়া এলাকার জাহেদ, খরুলিয়ার বাবুল, মোহাজেরপাড়ার রমজান ওরফে বাইট্রা রমজান, খুরুশকুলে নাজু প্রকাশ লম্বা নাজু, চট্রগ্রামের বোরহান, লারপাড়ার কালাম।

এসব দালালরা থানা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টরদের অধীনে কাজ করেন। সাব-ইন্সপেক্টররাই মূলত: দালালদের নিয়ন্ত্রণ করেন। নিরীহ লোকজনকে ধরে এনে দালালদের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয়। এভাবে সম্প্রতি কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে প্রতীক জিনিয়ার পাশে একটি হোটেল থেকে ৬ জনকে ধরে আনা হয়। দালাল সোহাগের মাধ্যমে তাদের ধরে এনে এসআই সাইফুল। এরমধ্যে রহিম নামের একজনের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা কেড়ে নেয়া হয়। পূর্ব লাইট হাউজ পাড়ার ফাতেরঘোনায় শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী খোরশেদ আলম ওরফে কালা খোরশেদ এবং সেলিমকে আশ্রয় দেন সুমন নামের এক দালাল। ওই সুমনের আশ্রয়ে থেকে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে ইয়াবা ব্যবসা চালাচ্ছে কালা খোরশেদ ও সেলিম। দালাল সুমনের মাধ্যমেই থানা পুলিশের সাথে তাদের সখ্যতা। বাসটার্মিনালের লারপাড়া এবং ইসলামাবাদে অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসায়ী কালামও পুলিশের দালাল হিসেবে কাজ করে। পলাতক আসামী হলেও পুলিশের আশ্রয়ে থেকেই কালাম অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসা চালাচ্ছে।

থানায় সবচেয়ে প্রভাব বিস্তার করেন পিএমখালীর মাহমুদুল করিম ও আব্বাস নামের দুই দালাল। ক্ষেত্র বিশেষে তারা থানার ওসিকেও হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পিএমখালী এলাকায় আসামী ধরা ও ছাড়ার ক্ষেত্রে এই দুই দালালের রয়েছে একচ্ছত্র আধিপত্য। উপজেলা গেইটের ডিককুলের আরেক দালাল আবছার ওরফে কসাই আবছার পুলিশের সহায়তায় ইয়াবার কারবার করছে। দালালির টাকায় বনিবনা না হওয়ায় পুলিশ কয়েক বছর আগে তাকে ইয়াবাসহ ধৃত করে চালান দিয়েছিল। এখন সে রাজনৈতিক চত্রছায়ায় মাংস ব্যবসার আড়ালে দালালি ও ইয়াবা ব্যবসা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতার পরিচয়ে দেদারছে দালালি করছে পোকখালীর জাহাঙ্গীর। বাইট্ট্রা জাহাঙ্গীর নামে পরিচিত ওই দালাল সারাক্ষণ থানায় অফিস করেন। দালালি করে সে এখন কোটি টাকার মালিক।

এসব দালালদের ব্যাপারে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে নেই। যদি তথ্য প্রমান সহ নামের তালিকা পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

জানতে চাইলে কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘ কক্সবাজার সদর মডেল থানার দালালদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কোন ভূক্তভোগী সঠিক প্রমান সহ আমাদের অবহিত করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!