কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে দুর্নীতি : সাবেক অধ্যক্ষ সহ ৪ জনের জামিন

মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ | ৮:০৭ অপরাহ্ণ | 312 বার

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে দুর্নীতি : সাবেক অধ্যক্ষ সহ ৪ জনের জামিন

যন্ত্রপাতি কেনার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সহ ৪ জনকে জামিন দিয়েছে আদালত। ১৭ জুন সোমবার কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবু তাহের তাদের পুলিশ প্রতিবেদন পর্যন্ত জামিন দেন। হাই কোর্ট থেকে নেয়া অন্তর্বতীকালীনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সোমবার তারা কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। যাদেরকে জামিন দেয়া হয় তারা হলেন- কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডাক্তার মোঃ রেজাউল করিম, কক্সবাজার জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা সুকুমল বড়–য়া, জেলা হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ের সাবেক এসএএস সুরজিত রায় দাস, ও অডিটর পঙ্কজ কুমার বৈদ্য। এর আগে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাক্তার সুভাষ চন্দ্র সাহাকে জামিন দেয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত পিপি এডভোকেট আব্দুর রহিম জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরও এভাবে জামিন দেয়ায় আমরা অত্যন্ত মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। কারণ দুর্নীতিবাজদের এভাবে জামিন দেয়া হলে একদিকে যেমন সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- ব্যাহত হবে অন্যদিকে দুর্নীতিবাজরা আরো বেশি উৎসাহিত হইয়া দুর্নীতি করবে।
জানা যায়, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতি কেনার নামে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ২৬ এপ্রিল কক্সবাজার সদর মডেল থানায় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের বর্তমান ও সাবেক অধ্যক্ষ সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদক-এ মামলা দায়ের করেন।
দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক সাহিদুর রহমান বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন।

মামলার আসামি হলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আফজাল হোসেন, তার স্ত্রী রুবিনা হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর আবদুর রশীদ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ সুবাস চন্দ্র সাহা, সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেজাউল করিম, কলেজের হিসাবরক্ষক হুররমা আক্তার খুকী, কক্সবাজার জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা সুকোমল বড়ুয়া, একই দপ্তরের সাবেক এসএএস সুপার সুরজিত রায় দাশ, পংকজ কুমার বৈদ্য এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক উচ্চমান সহকারী খায়রুল আলম।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে আবজাল দম্পতির দুর্নীতির এই অভিযোগটি অনুসন্ধান করেছে দুদকের উপপরিচালক সামছুল আলমের নেতৃত্বে একটি দল। তাঁদের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন মামলার অনুমোদন দেয়। পরে মামলা করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে যন্ত্রপাতির প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই সাবেক অধ্যক্ষ রেজাউল করিম যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ নেন। এ জন্য তিনি ক্রয়সংক্রান্ত কাজ করার জন্য কমিটি গঠনের অনুমতি চেয়ে চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর আবদুর রশীদ বরাবর চিঠি দেন। সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়ার আগেই অধ্যক্ষ বিভিন্ন কমিটি গঠন করেন। চিঠি দিয়ে বিভাগীয় প্রধানদের কাছ থেকে চাহিদাপত্র চান। পরে বিভাগীয় প্রধানদের কাছ থেকে চাহিদাপত্র না পেয়েও তিনি পছন্দের ঠিকাদার রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে কার্যাদেশ দেন।
রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক আবজাল হোসেনের স্ত্রী রুবিনা খানম। রুবিনা খানম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঁচটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন প্রকল্পে স্টেনোগ্রাফার হিসেবে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে যোগ দেন ১৯৯৮ সালে। ২০০০ সালে স্বেচ্ছায় অবসরে গিয়ে রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে ব্যবসা শুরু করেন। আবজালের সঙ্গে বিয়ের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একচেটিয়া ব্যবসা করার জন্য তাঁরা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন।

এজাহারে বলা হয়, রুবিনা খানম কার্যাদেশ অনুসারে যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করে ভুয়া ও ব্যবহার অনুপযোগী যন্ত্রপাতি বিভিন্ন দেশের লেবেল লাগিয়ে কক্সবাজার মেডিকেলে সরবরাহ করেন। পরে ৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিল জমা দিয়ে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেন। ওই সব যন্ত্রপাতি এখনো ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে।

দুদক বলছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর আবদুর রশীদ অবৈধ ওই কর্মকা- বন্ধ করেননি। বরং চাহিদাপত্র না পাওয়া সত্ত্বেও আর্থিক ক্ষমতার বাইরে ভেঙে ভেঙে প্রথমে ৩০ কোটি, পরে সাড়ে সাত কোটি টাকা রহমান ট্রেডকে দিয়ে দেন। এর মাধ্যমে তিনি রুবিনাকে ওই টাকা আত্মসাতে সহায়তা করেন।
অন্যান্য কর্মকর্তারাও অবৈধ এই কর্মকান্ডে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে এজাহারে বলা হয়। তাই তাঁদের আসামি করা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, আবজালের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা হলো। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে, তাতে মামলার সংখ্যা হবে অনেক। ওই সব অভিযোগের অনুসন্ধান প্রতিবেদন পেলে মামলা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!