এইমাত্র পাওয়া

x

কক্সবাজার পৌরসভার শিক্ষাখাত সেই তিমিরে

বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১২:০৬ অপরাহ্ণ | 205 বার

কক্সবাজার পৌরসভার শিক্ষাখাত সেই তিমিরে

দেড়শ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী কক্সবাজার পৌরসভায় অর্ধশত বছরেরও বেশী আগে প্রতিষ্ঠিত ‘কক্সবাজার পৌর প্রিপ্যারেটরী উচ্চ বিদ্যালয়’ দিয়ে শুরু হয় শিক্ষাখাতে পৃষ্টপোষকতার। কিন্তু সেই সময়ে জনসংখ্যার পরিমানের সঙ্গে এখনকারটার হিসাবের অনুপাতে অন্তত ১০০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার কথা।

অথচ দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশী সময়ে শুধুমাত্র বেশ কয়েকটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিমাসে দুই লক্ষাধিক টাকার অনুদান প্রদান ছাড়া আর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তো উঠেনি। এতে শিক্ষাখাতে কক্সবাজার পৌরসভার পৃষ্টপোষকতা অর্ধশত বছর আগের সেই তিমিরেই রয়ে গেছে।

কিন্তু খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা শিক্ষাখাতে পৌরসভার পৃষ্টপোষকতায় পরিচালিত বিদ্যালয়টির প্রায় অর্ধশত শিক্ষক কর্মচারীর বেতন ভাতা গত ৩/৪ মাস ধরে বকেয়া রয়েছে। তবে আরো কয়েকটি বিদ্যালয়কে অধিভূক্ত করে কক্সবাজার পৌরসভা কর্তৃক পৃষ্টপোষকতা প্রদানের সুপারিশসহ মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে জানিয়েছে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট সূত্র।

স্বাধীনতার আগে ১৯৬৫ সালে পৌরসভার মাত্র ৫ হাজার বাসিন্দার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘কক্সবাজার পৌর প্রিপ্যারেটরী উচ্চ বিদ্যালয়’। যা পরবর্তীতে কক্সবাজার পৌরসভার ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় অধিভূক্ত করা হয়। অথচ পৌরসভায় এখনকার জনসংখ্যার পরিমান ৫ লাখেরও বেশী। এতে সংখ্যানুপাতে এখনকার সময়ে পৌরসভার পৃষ্টপোষকতায় আরো ১০০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ঊঠারই কথা।

কিন্তু দীর্ঘ এত বছর পর বেশ কয়েকটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা এবং ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাসিক ২ লক্ষাধিক টাকা অনুদান প্রদান অব্যাহত থাকলেও পৌরসভা কর্তৃক আর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এতে নামে মাত্র চলছে শিক্ষাখাতে কক্সবাজার পৌরসভার পৃষ্টপোষকতা।

ফলে সুদীর্ঘ দেড় শতাধিক বছরের পুরনো এ পৌরসভার শিক্ষাখাত চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।কক্সবাজার পৌরসভার সচিব রাসেল চৌধুরী বলেন, বিগত ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কক্সবাজার পৌর প্রিপ্যারেটরী উচ্চ বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণভাবে পৌরসভার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। বেতন ভাতাসহ সবধরণের আনুষঙ্গিক অন্য সুবিধাদিও বিদ্যালয়টিতে প্রদান করা হয়।

এছাড়া শতাধিক ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা, মন্দির ও প্যাগোডা ভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিমাসে ২ লক্ষাধিক টাকা অনুদান প্রদান করা হয় বলে জানান রাসেল।

কক্সবাজার পৌর প্রিপ্যারেটরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৪১ জন শিক্ষক, ৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ১ হাজার ৫৬৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষকদের মধ্যে ৩০ জনসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতাসহ অন্য আনুষঙ্গিক খাতে পৌরসভা থেকে প্রদান করা হয়। এছাড়া অপর ১১ জন শিক্ষকের বেতন ভাতা সরকারিভাবে প্রদান করা হয়।
পৌর প্রিপ্যারেটরী উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়টির সার্বিক ব্যয়ভার পৌর কর্তৃপক্ষ নির্বাহ করলেও সব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ভাতা গত ৩/৪ মাস ধরে বকেয়া রয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বারা তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও এখনো প্রদান করেননি।

এ ব্যাপারে গত কয়েক মাসের বেতন ভাতা বকেয়া থাকার তথ্য স্বীকার করে কক্সবাজার পৌরসভার সচিব রাসেল চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ভাতা ৪ মাসের বকেয়া রয়েছে। এসব বকেয়া পরিশোধে পৌর কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা দিয়েছে।

এ নিয়ে আগামী ২ মাসের মধ্যে বিদ্যালয়টির শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া থাকা সবধরণের বেতন ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান সচিব রাসেল চৌধুরী।

সচিব বলেন, দেড়শ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী এ পৌরসভায় একটি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় সম্পূর্ণরূপে এবং কিছুসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে প্রতিমাসে আর্থিক অনুদান প্রদানের মধ্যেই শিক্ষাখাতে পৃষ্টপোষকতা সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমান পৌর পরিষদ গঠনের পর থেকে আরো ৩ টি মাধ্যিমিক বিদ্যালয়কে সার্বিকভাবে পৃষ্টপোষকতা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

“ এগুলো হল কলাতলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, টেকপাড়াস্থ আমেনা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও এয়ারপোর্ট পাবলিক হাই স্কুল। এ তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণরূপে পৃষ্টপোষকতা প্রদানের প্রস্তাবনাসহ সবধরণের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পৌর পরিষদের কাছে অপর্ণের জন্য গত ২০১৮ সালে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ”চলতি বছরের মধ্যে এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাসেল চৌধুরী।
এদিকে শিক্ষাখাতে পৃষ্টপোষকতা বৃদ্ধির ব্যাপারে বর্তমান পৌর পরিষদ খুবই আন্তরিক বলে মন্তব্য করেন মেয়র মুজিবুর রহমান।

মুজিবুর বলেন, স্বাধীনতার আগে প্রতিষ্ঠিত ‘কক্সবাজার পৌর প্রিপ্যারেটরী উচ্চ বিদ্যালয়’ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি কিছুসংখ্যক ফোরকানিয়া মাদ্রাসা এবং মন্দির ও প্যাগোডা ভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিমাসে আর্থিক অনুদান প্রদানের মধ্যেই এতোদিন ধরে শিক্ষাখাতে পৃষ্টপোষকতাদান সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমান পৌর পরিষদ গঠনের পরপরই শিক্ষাখাতে পৃষ্টপোষকতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

“ এ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পৌর এলাকার ৩ টি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়কে পৃষ্টপোষকতা প্রদানের জন্য অনুমতি চেয়ে প্রস্তাবনা আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো। আশা করা যাচ্ছে, চলতি বছরের শেষের দিকের মধ্যেই মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে সেই অনুমতি পাওয়া যাবে। ”

অনুমতির পাওয়ার পরপরই পৃষ্টপোষকতা প্রদানের জন্য প্রস্তাবিত বিদ্যালয় ৩ টিকে পৌর পরিষদের ব্যবস্থাপনার অধিভূক্ত করা হবে জানিয়ে পৌর মেয়র মুজিবুর বলেন, মানসম্মত শিক্ষা বিস্তার ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে বর্তমান পৌর পরিষদ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে আলাদা একটি ‘এডুকেশন সেল’ গঠন করা হবে।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!