মৃত ব্যাক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জমি আত্মসাত

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পরিচালক সহ দুইজন কারাগারে

বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ | 1721 বার

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পরিচালক সহ দুইজন কারাগারে

মৃত ব্যাক্তিকে দাতা দেখিয়ে জমির দলিল সৃজন করেছে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। যে জমিতে গড়ে উঠেছে স্কুলটির বহুতল ভবন। চলছে পাঠদানও। ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী তিনজন ব্যাক্তিকে দাতা দেখিয়ে সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে দলিল সৃজন করা হয়। কিন্তু ১৮ বছর আগে মৃত্যু বরণ করেন তিন দাতাদের একজন মাহবুবুল ইসলাম চৌধুরী। জমিটি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এ পন্থা বেঁচে নেয় স্কুলটির সভাপতি ডা: মোহাম্মদ সরওয়ার হাসান।

এঘটনায় ২০১৪ সালে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় গত সোমবার কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবু তাহের উত্তর তারাবনিয়ারছড়া এলাকার মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে ও স্কুলটির পরিচালক ফরিদুল আলম এবং অফিস সহকারী মো. আমিন উদ্দিনকে কারাগারে প্রেরণ করেছে।

আদালত সুত্রে জানা যায়, কক্সবাজার সদর মৌজার বি. এস ৯৮০ নং খতিয়ানভুক্ত ২৫৮৯-২৬৪৭, ও ২৫৯২ নং দাগের .০৫২৮ একর জমি দায়েরকৃত মামলার বাদী মকবুল আজিজ চৌধুরীর পিতা মৃত মকবুল আলী চৌধুরী কর্তৃক ১২/০২/১৯৩৬ ইং সনে ২৭২ নং কবলা মুলে খরিদ করা হয়েছিল। কিন্তু মামলার প্রধান আসামী ডা: মো. সরওয়ার হাসান সহ ২৯ জন উক্ত সম্পতি আত্মসাতের লক্ষ্যে ওয়ারিশ সুত্রে জমির মালিক মৃত মাহবুবুল ইসলাম চৌধুরীকে জীবিত ও মামলার বাদী মকবুল আজিজ চৌধুরীসহ তাদের তিনজনকে দাতা দেখিয়ে এবং ভিন্ন তিনজন লোকের ছবি ব্যবহার করে দলিল নং-৬৭০ তারিখ-১৯/০২/২০১৪ সৃজন করেন। মূলত উক্ত দলিলের দাতা মাহবুবুল ইসলাম চৌধুরী গত ২৪/১০/১৯৯৬ ইং তারিখে মৃত্যু বরণ করেন। অথাৎ দলিল সৃজনের ১৮ বছর আগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনজন দাতার বাড়ি চকরিয়ার ইলিশিয়ায় হলেও উক্ত ভুয়া খতিয়ানে তাদের বাড়ির ঠিকানা লেখা হয় চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়নে। এরপর ২০১৪ সালে তিনজন দাতাদের মধ্যে মকবুল আজিজ চৌধুরী বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন (যার নং ১৯/২০১৪)।

আদালত সুত্রে আরও জানাযায়, কয়েক দফা পুলিশি তদন্তের পর মামলাটি তদন্ত শুরু করে দুদক। তদন্তের শুরুতেই দুদক উক্ত জমির বিভিন্ন তথ্যাধি জব্দ করে। এক পর্যায়ে মামলার প্রধান আসামী ও কক্সবাজার ইন্টান্যাশনাল স্কুলের সভাপতি ডা: মোহাম্মদ সরওয়ার হাসান বিতর্কিত দলিলটি সৃজন করার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা যায়। ডা: মোহাম্মদ সরওয়ার হাসান হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। অন্য আসামীরা সবাই পলাতক রয়েছেন।
সর্বশেষ গত ২০১৮ সালের ২৬ জুন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. হুমায়ন কবীর বিজ্ঞ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ওই তদন্ত প্রতিবেদনেও কক্সবাজার ইন্টান্যাশনাল স্কুলের সভাপতি ডা: মোহাম্মদ সরওয়ার হাসানসহ ২৯ আসামীর এই প্রতারণার কথা উঠে এসেছে।

উল্লেখ্য যে, উক্ত খতিয়ানে যে তিনজনকে দাতা দেখানো হয়েছে তাদের মধ্যে মাহবুবুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেছেন। জীবিত রয়েছেন মামলার বাদী মকবুল আজিজ মো. ইবনে নুর (৬২)।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!