এইমাত্র পাওয়া

x

অবৈধপন্থায় ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত

কক্সবাজারে ৬শ’ রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে মামলা

বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬:০১ অপরাহ্ণ | 154 বার

কক্সবাজারে ৬শ’ রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে মামলা

তথ্য গোপন করে জালিয়াতি ও অবৈধপন্থায় ভোটার তালিকায় নাম উঠানোর অভিযোগে ৬শ’ রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন কক্সবাজার নির্বাচন অফিস। গত ১৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শিমুল শর্মা বাদি হয়ে সদর মডেল থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নির্বাচন কমিশনের কাছে তথ্য গোপন করে নানা কৌশলে ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক্স জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এঘটনায় ৩জন রোহিঙ্গাকে আটক দেখানো হয়েছে।
মামলার এজারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘চট্টগ্রামে নির্বাচন অফিসে গিয়ে তথ্য গোপন করে অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় না উঠানোর অভিযোগ সম্প্রতি কক্সবাজার পৌরসভার পশ্চিম নতুন বাহারছড়ার বাসিন্দা (পুরনো রোহিঙ্গা) ইউসুফ আলীর ছেলে নুরুল ইসলাম নুরু (৪২), মৃত শহর মুল্লুকের ছেলে ইয়াছিন (৩৭), টেকনাফ নয়াপাড়া মুছনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকের আবুল হাশেমের ছেলে আব্দুল্লাহ (৫৩) কে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের সহায়তায় আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকৃতরা স্বীকার করেন যে কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ খোদাইবাড়ি এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মৃত ওলা মিয়ার ছেলে শামসুর রহমান (৫০) ও রোহিঙ্গা নাগরিক ওবায়দুল্লাকে সাথে নিয়ে চট্টগ্রামে গিয়ে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভোটার হয়েছেন।

মামলার বাদি শিমুল শর্মা জানান, অভিযুক্তরা চট্টগ্রাম শহরের অজ্ঞাতনামা লোকজনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গা নাগরিকদের অবৈধ পন্থায় নানা কৌশলে ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক্স জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন করে আসছে। ইতোমধ্যে নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুরু ও মোঃ ইয়াছিন টাকার বিনিময়ে ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। যা স্পষ্ট হওয়ার পর এই দুই রোহিঙ্গা সহ আব্দুল্লাহ নামের আরেক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। আটককৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, গত ১২ মে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে নুরু ও মোঃ ইয়াছিন শহরের নতুন বাহারছড়া জামে মসজিদের সামনে আব্দুল্লাহ, ওবায়দুল্লাহ ও শামসুর রহমানকে ভোটার নিবন্ধনের জন্য ১৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। অতঃপর তাদের ছবি তুলে ভোটার নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে একটি কক্ষে রাখে। যেখানে পূর্ব থেকেই আরো অনেক রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এসময় একই পন্থায় অন্তত ৫শ থেকে ৬শ জন রোহিঙ্গা একই পন্থায় ভোটার তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্ত করেছেন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছেন, গত ২০১৭ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে তথ্য গোপন করে ভোটার তালিকায় নাম উঠায়। একটি জালিয়াত চক্র কম্পিউটার, ডিজিটাল ইলেকট্রনিকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সিস্টেমে রোহিঙ্গাদের নাম ঠিকানা এন্ট্রি করে বায়োমেট্রিক ডাটা নিয়ে চক্রটি অনধিকারে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অনুমতি বিহীন কম্পিউটার প্রোগ্রামের মাধ্যমে ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার সিস্টেম, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন। ডিভাইসের ইনপুট-আউটপুট প্রস্তুত পূর্বক অন্তত ৬০০ রোহিঙ্গা নাগরিকের তথ্য অবৈধভাবে নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেসে সংযুক্ত ও কক্সবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিবন্ধনভূক্ত করে দেয়।

নির্বাচন অফিসের সার্ভারের অনলাইন ডাটাবেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আটক হওয়া রোহিঙ্গাদের নাম-ঠিকানা নির্বাচন কমিশনের ভোটার নিবন্ধন তথ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের ভোটার নিবন্ধন ল্যাপটপ আইডির সাথে মিল নাই। এতে নির্বাচন কমিশন ধারণা করছে, রোহিঙ্গারা চিহ্নিত ও সংঘবদ্ধ একটি চক্রের সাথে হাত করে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ভোটার তালিকাভুক্ত হচ্ছে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!