কক্সবাজারে পৃথক গোলাগুলিতে ৪ ইয়াবা কারবারি নিহত

শনিবার, ২৯ জুন ২০১৯ | ১২:৪৮ অপরাহ্ণ | 397 বার

কক্সবাজারে পৃথক গোলাগুলিতে ৪ ইয়াবা কারবারি নিহত

কক্সবাজারে পৃথক গোলাগুলির ঘটনায় ৪ ইয়াবা কারবারির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ঘটনায় মারা গেছেন ২ ভাই। উখিয়া উপজেলার বালুখালীর রহমত বিল এলাকায় বিজিবি সাথে গোলাগুলিতে একজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে, কক্সবাজার শহরের ডায়বেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট থেকে গুলিবিদ্ধ এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরিক বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ড।
শুক্রবার ভোর রাতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ‘হ্নীলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের’ পিছন এলাকায় ‘মাদক মামলার আসামী’ গ্রেপ্তার করতে গিয়ে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় দুই সহোদর নিহত এবং পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র ও গুলি।
নিহতরা হল, হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব সিকদার পাড়ার মোহাম্মদ হোসেন ওরফে মাহদু’র ছেলে আব্দুস সালাম (২৬) ও আব্দুর রহমান (৩০)।
আহত পুলিশ সদস্যরা হল, এসআই মো. কামরুজ্জামান এবং কনস্টেবল মোহাম্মদ হেলাল ও মোহাম্মদ রাসেল।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ভোর রাতে হ্নীলায় মাদক মামলার আসামী গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র মাদক মামলার আসামীরাসহ তাদের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে গোলাগুলি থেমে গেলে ঘটনাস্থলে ২ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এতে পুলিশের ৩ সদস্য আহত হয়। ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে পাওয়া যায় দেশিয় তৈরী ২ টি বন্দুক, ২ টি ছোরা, ২ টি কিরিচ, ৭ টি গুলি ও ১২ টি খালি গুলির খোসা। ”

ওসি বলেন, ” গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। তাদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে সেখানে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ”

প্রদীপ বলেন, আব্দুস সালাম ও আব্দুর রহমান দুইজনই সহোদর। তারা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ি। তাদের প্রত্যেকের নামে ৬ টির অধিক করে মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তারা দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

নিহতদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান ওসি প্রদীপ।
অপরদিকে, শুক্রবার ভোরে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীর রহমতের বিল নামক স্থানে বিজিবির সাথে বন্দুক যুদ্ধে মারা গেছেন মোঃ নূর কবীর নামের এক রোহিঙ্গা

নিহত নুর কবীর মিয়ানমারের মংডু এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে থ্যাইংখালী বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের শিবির-১১, ব্লক সি-৯ এর বাসিন্দা।

বিজিবির কক্সবাজারস্থ ৩৪ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পরিচালক মেজর আশরাফ উল্লাহ রনি জানান, ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ এর নেতৃত্বে পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল নামক স্থানে চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনাকালে কিছু লোকজন মিয়ানমার সীমান্ত হতে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখা যায়। পরবর্তীতে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে অজ্ঞাত লোকজন তাদের হাতে থাকা অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বিজিবি টহল দলের দিকে এগিয়ে আসে এবং বিজিবি টহল দলকে লক্ষ্য করে এলোপাথারি গুলি বর্ষণ করতে থাকে। এ সময় বিজিবি সদস্যগণ কৌশল গত অবস্থান নিয়ে তাদের জান-মাল, অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং সরকারী সম্পদ রক্ষার্থে পাল্টা গুলি শুরু করে। অতঃপর স্থানীয় লোকজন

গোলাগুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলের দিকে আসতে শুরু করলে স্থানীয় লোকজনের জান-মালের ক্ষতি সাধন রোধ কল্পে বিজিবি’র টহল দল গুলিবর্ষণ বন্ধ করে। এক পর্যায়ে অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা গুলি করতে করতে রাতের অন্ধকারে পালংখালী আঞ্জুমান পাড়ার দিকে পালিয়ে যায়। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে বিজিব’র ০২ জন সদস্য আঘাত প্রাপ্ত হয়। বিজিবি টহল দল উখিয়া থানায় ঘটনাটি দ্রুত অবগত করলে উখিয়া থানার পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় জনসাধারণকে সংগে নিয়ে বিজিবি টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা ১ জন ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আহত অচেতন ব্যক্তির নিকট হতে উদ্ধারকৃত গুধহসধৎ ঘধঃরড়হধষ জবমরংঃৎধঃরড়হ ঈধৎফ অনুযায়ী তার নাম মোঃ নূর কবীর সে থ্যাইংখালী বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের শিবির-১১, ব্লক সি-৯ এর বাসিন্দা বলে জানা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আহত অচেতন ব্যক্তিকে উদ্ধার পূর্বক চিকিৎসার জন্য উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ১ টি দেশীয় তৈরী একনলা বন্দুক, ১৫ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে।

এব্যাপারে উখিয়া থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে শুক্রবার সকালে কক্সবাজার সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে রমজান আলী (৪০) নামের এক ইয়াবা ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তি কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ইসলামাবাদ লারপাড়া এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দাকার জানান, নিহত রমজান চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদকের ৬ টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইয়াবা বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও ইয়াবা পাওয়া গেছে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!