এইমাত্র পাওয়া

x

কক্সবাজারে ‘এডিস মশার জরিপে’ উদ্যোগহীনতা

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯ | ৩:৫১ পূর্বাহ্ণ | 97 বার

কক্সবাজারে ‘এডিস মশার জরিপে’ উদ্যোগহীনতা

সারাদেশে মহামারি আকারের মতো ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাস বহনকারি ‘এডিস মশার’ জরিপের সংশ্লিষ্টদের কক্সবাজারে কোন ধরণের কার্যক্রম নেই ।

অথচ দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশী নাগরিকরা অবস্থায় করায় জনগুরুত্বপূর্ণতার দিক দিয়ে এখন বিশ্বব্যাপী পরিচিত কক্সবাজার।

তাই প্রশাসনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগহীনতার কারণে যদি এডিস মশার উপদ্রবে ডেঙ্গুর ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তাহলে কক্সবাজারের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পাড়ে অভিমত সচেতন মহলের।

তাদের ভাষ্য, কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনসহ অধিকাংশ এলাকার নালা-নর্দমা ময়লা আবর্জনায় ভরে আছে। এতে জমে থাকা পানি এডিস মশা প্রজননের উত্তম স্থান। এটি ডেঙ্গু ভাইরাস বিস্তারের ক্ষেত্রে ঝুকিপূর্ণ। তাই দ্রুততার সঙ্গে এসব নালা-নর্দমা পরিস্কার এবং পানি চলাচলের ব্যবস্থা নেয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

তবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কক্সবাজারে এডিস মশার উপদ্রব, প্রজনন ও বংশ বিস্তার যাতে না হয়; এ নিয়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ নানা কার্যক্রমের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তাই ডেঙ্গুর ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে দু:শ্চিন্তার কোন কারণ নেই।

এ দিকে কীটতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, ময়লা আবর্জনাপূর্ণ নোংরা পানির জলাবদ্ধ স্থানগুলো এডিস মশার প্রজনন ও বংশ বিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। এ জন্যই এডিস মশার উপদ্রব রোধে জলাধারসহ নালা-নর্দমা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং পানি চলাচলের পথগুলো গতিশীল করাই প্রাথমিক শর্ত।

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক ছৈয়দ আলম বলেন, হোটেল-মোটেল জোনসহ কক্সবাজার শহরের অধিকাংশ এলাকার নালা-নর্দমা ও জলাধারগুলো ময়লা আবর্জনায় ভরপুর। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় নিত্যদিনের গৃহস্থালির ময়লা আবর্জনা নিয়মিত জমে থাকায় পর্চা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। যেগুলো মশার প্রজনন ও বংশ বিস্তারের জন্য সহায়ক পরিবেশের সৃষ্টি করে।

সামাজিক আন্দোলনের এ নেতা বলেন, একে তো দেশের প্রধান পর্যটন নগরী অন্যদিকে রোহিঙ্গা সংকটের কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশী নাগরিক কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে কক্সবাজারে প্রতিদিন আগমন ঘটছে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ কোন না কোন সংস্থার প্রতিনিধি দল। এ নিয়ে কক্সবাজার এখন বিশ্বব্যাপী পরিচিত একটি শহর।
কিন্তু কক্সবাজারের এডিস মশার জরিপে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন ধরণের উদ্যোগ বা তৎপরতা না থাকার বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন ছৈয়দ আলম।

তিনি বলেন, এডিস মশার উপদ্রবে যদি কোন কারণে জীবনঘাতি ডেঙ্গুর ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তাহলে কক্সবাজার নিয়ে সারাদেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প তো বটেই; অর্থনীতিও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ জন্য দ্রুততার সঙ্গে এডিস মশার জরিপে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান নাগরিক আন্দোলনের নেতা ছৈয়দ আলম।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়াদের কয়েকজন ছাড়া প্রায় সবাই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে আসা। চিকিৎসা নেয়াদের মাত্র ৪/৫ জন কক্সবাজারের। তাই কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রকোপ নেই বললেই চলে।

তারপরও পর্যটন শহর এবং রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বিদেশী নাগরিকদের অবস্থান আর আনাগোনার কারণে এডিস মশার জরিপ চালানো জরুরী বলে করেন নাগরিক সমাজের এ নেতা।

চট্টগ্রাম ভেটিনারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কীটতত্ত্ববিদ ড. প্রশান্ত কুমার দাশ বলেন, এডিস মশার প্রজনন ও বংশ বিস্তারের জন্য বর্ষা মৌসুম খুবই উপযুক্ত কাল। তাই এ মৌসুমে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজনন স্থানগুলোতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে উপদ্রব হওয়াটা স্বাভাবিক।

এ কীটতত্ত্ববিদ বলেন, মূলত বদ্ধ জলাধারের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা আবর্জনা পূর্ণ নালা নর্দমা এডিস মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। এছাড়া পরিত্যক্ত কৌটা, বোতল, বালতি, জগ, কার্নিশ, প্লাস্টিকের ড্রাম, ট্রায়ার ও নারিকেলে খোসায় দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকলেও এডিস মশা প্রজননের লার্ভা ছড়াতে পারে। এগুলো ছাড়াও বর্ষা মৌসুমে পরিত্যক্ত ও নির্মানাধীন ভবন বা অন্য অবকাঠামোও মশা বৃদ্ধিতে সহায়ক। কারণ এসব স্থানে পানি জমে থাকে।
ড. প্রশান্ত বলেন, কোন এলাকার ২০ শতাংশের বেশী জায়গায় লার্ভা পাওয়া গেলে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই মশার যাতে বংশ বিস্তার না ঘটে এ ব্যাপারে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরী।

তবে এক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রজনন স্থানগুলো বর্ষা মৌসুমের আগে ও পরে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখলে এডিস মশার প্রকোপ থেকে অনেকখানি সুফল পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন এ কীটতত্ত্ববিদ।

কক্সবাজার পৌরসভার নালা নর্দমাগুলো নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা রাখা হচ্ছে বলে দাবি করে মেয়র মুজিবুর রহমান।
মুজিবুর বলেন, ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশংকা পৌর কর্তৃপক্ষ ১২ টি ওয়ার্ডে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে। এছাড়া ওষুধ ছিটানো হয়েছে সম্ভাব্য প্রজনন স্থানগুলোতে যাতে মশার প্রজনন ও বংশ বিস্তার ধংস হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণের উদ্বৃতি দিয়ে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা: মো. আব্দুল মতিন বলেন, কক্সবাজার শহরের নালা-নর্দমা ও জলাধারগুলো ময়লা আবর্জনায় ভরপুর। জমে থাকা নোংরা পানির এসব নালা নর্দমাগুলো এডিস মশার প্রজনন ও বংশ বিস্তারের জন্য উত্তম স্থান।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত যারা ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তাদের অধিকাংশই কক্সবাজারের বাইরে ঢাকা থেকে জীবানু বহন করে এনেছে। কয়েকজন স্থানীয় হলেও তারা ঢাকায় দীর্ঘদিন অবস্থানকালীন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

সিভিল সার্জন বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ না থাকায় এখন পর্যন্ত কক্সবাজারে এডিস মশার জরিপ করা হয়নি। এছাড়া এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কোন ধরণের নির্দেশনাও আসেনি।

প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ এডিস মশার প্রজনন ও বংশ বিস্তার রোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ মশার সম্ভাব্য প্রজনন স্থান ধংস করতে ওষুধ ছিটিয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

স্থানীয়ভাবে যেহেতু ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যায়নি, তাই এডিস মশার জরিপের কার্যক্রম চালানো হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!