কক্সবাজারের রেড জোনের ৭ এলাকায় আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত সাধারণ ছুটি

বুধবার, ২৪ জুন ২০২০ | ১২:৩৪ অপরাহ্ণ | 98 বার

কক্সবাজারের রেড জোনের ৭ এলাকায় আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত সাধারণ ছুটি

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রবণ এলাকা হিসেবে কক্সবাজারের সদর, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার রেড জোন ঘোষিত ‘সাতটি এলাকায়’ বুধবার থেকে আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এতে রেড জোনের সাধারণ ছুটি ঘোষিত এসব এলাকায় জীবনযাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অফিস-কলকারখানা বন্ধ থাকবে এবং যানবাহনসহ সাধারণের চলাচলে থাকবে কড়াকড়ি।
মঙ্গলবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।
সাধারণ ছুটি ঘোষিত এসব এলাকা হল, কক্সবাজার সদরের পৌর এলাকা, টেকনাফ পৌর এলাকা, উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের কোটবাজার স্টেশন, পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী বাজার ও থাইংখালী বাজার এবং রাজাপালং ইউনিয়নের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন কুতুপালং স্টেশন (২ নম্বর ওয়ার্ড) ও উখিয়া সদর স্টেশন (৫, ৬ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড)।
এদের মধ্যে রেড জোন ঘোষণা করে গত ৬ জুন থেকে কক্সবাজার পৌর এলাকা এবং গত ৭ জুন থেকে টেকনাফ পৌর এলাকাসহ উখিয়ার এসব এলাকাকে লকডাউন করা হয়।
এছাড়া গত ৭ জুন থেকে চকরিয়া পৌর এলাকা ও ডুলহাজারা ইউনিয়নের ডুলহাজার স্টেশনকে রেড জোন ঘোষণা দিয়ে লকাডাউন করা হলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে সাধারণ ছুটির আওতায় এসব এলাকার নাম উল্লেখ নেই।
তাছাড়া সাধারণ ছুটির আওতায় পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন মঙ্গলবার (২৩ জুন) থেকে সবক’টি ইউনিয়নকে রেড জোন ঘোষণা করে লকডাউন করলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এটিরও উল্লেখ করা হয়নি।
জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, জেলা বিভিন্ন উপজেলার রেড জোন ঘোষিত ৭ টি এলাকায় বুধবার থেকে আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত ‘সাধারণ ছুটি’ ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা একটি চিঠি জেলা প্রশাসন অফিসে পৌঁছেছে।
” সাধারণ ছুটি ঘোষিত এসব এলাকায় অবস্থিত সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত এবং অন্য এলাকায় বসবাসরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এ ছুটি প্রযোজ্য হবে। “
তবে জরুরি পরিষেবা এ সাধারণ ছুটির আওতা বহির্ভূত থাকবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
এদিকে পেকুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈকা সাহাদত বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার থেকে আগামী ৮ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনের জন্য পেকুয়ার সবক’টি ইউনিয়নকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা দিয়ে লকডাউন করা হয়েছে।
” শুধুমাত্র সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার হাটবাজারের কাঁচা বাজার ও মুূদির দোকানসহ খাদ্য ও নিত্যপন্যের দোকান খোলা থাকবে। এছাড়া সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সবধরণের গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে। “
তবে চিকিৎসা ও খাদ্য পরিবহনসহ জরুরি পরিষেবা প্রদানে নিয়োজিত যানবাহন চলাচল করতে পারবে বলে জানান পেকুয়ার ইউএনও।
অন্যদিকে মঙ্গলবার বিকালে অনুষ্ঠিত রামু উপজেলা প্রশাসনের এক জরুরি সভায় আগামী ২৮ জুন থেকে ১২ জুন পর্যন্ত রামু উপজেলা সদর স্টেশনকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা দিয়ে লকডাউন করা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রামুর ইউএনও প্রণয় চাকমা।
প্রণয় বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে রামু উপজেলা সদর স্টেশনকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা লকডাউন করার জন্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি নিতে নানা ব্যবস্থা নিয়েছে।
সার্বিক প্রস্তুতি চুড়ান্ত হওয়ার পর লকডাউন কার্যকরের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান রামুর ইউএনও।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!