এগুচ্ছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, সাগরে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত

রবিবার, ১৭ মে ২০২০ | ২:৪৭ অপরাহ্ণ | 134 বার

এগুচ্ছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, সাগরে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত

ধীরে ধীরে এগুচ্ছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের দুই বন্দরের দিকে ১০ কিলোমিটার আর দুই বন্দরের দিকে ১৫ কিলোমিটার করে এগিয়ে এসেছে ঘূর্ণিঝড়টি। এগিয়ে এসে এখন স্থির অবস্থায় আছে। এখনও বাতাসের গতি একই রকম আছে। ফলে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানবে কিনা অথবা কত গতিতে আঘাত হানতে পারে তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় সমুদ্র বন্দরগুলোতে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

জৈষ্ঠ্য আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি খুব সামান্য এগিয়েছে। এখনও গতি কম। তবে যত উত্তর দিকে এগুবে এর গতি স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে থাকবে। বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানবে কিনা এটা এখনই বলা যাবে না। কারণ আসার পথে ঝড়ের গতি বেড়ে যেতে পারে। আবার কমেও যেতে পারে। আবার আরও শক্তিশালী হতে পারে, দূ্র্বলও হয়ে পড়তে পারে। আমরা এখন পর্যবেক্ষণ করছি।’

এদিকে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় আম্ফান সামান্য উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ রবিবরা (১৭ মে) সকালে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে একহাজার ৩৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল, যা গত মধ্যরাতে ছিল একহাজার ৩৫৫ কিলোমিটার দূরে।, একইভাবে কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে একহাজার ২৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে আছে, মধ্যরাতে ছিল একহাজার ২৯০ কিলোমিটার দূরে। তবে মোংলা ও পায়রার দিকে এগিয়েছে ১৫ কিলোমিটার করে। মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে এখন আছে  একহাজার ২৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, ছিল একহাজার ২৯০ এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে এখন আছে একহাজার ২৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মধ্যরাতে ছিল একহাজার ২৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদফতর।

বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা এখনও আগের মতোই আছে। এটি যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৪  নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি  উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সক মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে এবং সেইসঙ্গে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপে সূত্রে জানা যায়, থাইল্যান্ডের দেওয়া নামেই এর ঝড়ের নামকরণ করা হয়েছে। এর আগে গত বছর নভেম্বরে দেশের উপকূলে আঘাত হানে ঘুর্ণিঝড় বুলবুল। এই নামটি পাকিস্তানের দেওয়া ছিল।

আবহাওয়া পূর্বাভাসে  বলা হয়, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে রংপুর,  ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ এবং বিজলি চমকানো সহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্য এলাকার আকাশ মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

দরিদ্রতা থামাতে পারেনি মহেশখালীর সাজ্জাদ হোসেনকে
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!