এইমাত্র পাওয়া

x

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল

এখনো অরক্ষিত উপকূল: নেই পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার

সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৯ | ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ | 277 বার

এখনো অরক্ষিত উপকূল: নেই পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার

আজ সে ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সনের এই দিনে কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় জনপদে নেমে আসে মহা প্রলয়ংকারী ঘুর্ণিঝড়। সেই ঝড়ে লন্ড ভন্ড হয়ে যায় উপকূলের কাছাকাছি শত শত বছরের গড়ে উঠা সভ্যতা। শুধু তাই নয় ওইদিন হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে নিমিষেই। সেই সাথে গৃহ পালিত পশু, মৎস্য সহায় সম্পদ সহ মাথা গুজানোর ঠাই ঠুকুও হারায় হাজার হাজার পরিবার। রাস্তাঘাট, বনজ সম্পদ সহ নানা সেক্টরে ঘটে ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়-ক্ষতি। যা ঘুর্ণিঝড়ের পর আজ ২৮ বছর সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও ক্ষতিগ্রস্থরা পুষিয়ে উঠতে পারেনি। সেই দিনের স্মৃতিতে আজো উপকূলীয় এলাকার লোকজনের মাঝে নেমে আসে স্বজন কারা বেদনার শোক। চোখের পর্দায় ভেসে উঠে ওই দিনের স্মৃতি। কিন্তু সেই স্মৃতির বেদনায় উপকূলবাসী শুধু শুধুই দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে আর সেই দিনের পূর্বকার স্মৃতি আর স্বজন ও সহায় সম্পত্তি হারানোর কথা।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার পাউবোর ২৮টি পোল্ডারের অধীন জেলার আট উপজেলায় ৫৯৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। ১৯৯১সালের প্রলয়ংকারী ঘুর্ণিঝড়ে উপকুলীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অনেক এলাকায় উচুঁ বেড়িবাঁধ মিশে গেছে মাটির সাথে। তবে পাউবো প্রতিবছর অধিক ঝুকিঁপুর্ণ এলাকা চিহিৃত করে প্রাপ্ত অর্থ বরাদ্দের বিপরীতে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ সংস্কারে কাজ করছেন।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা জানিয়েছেন, কক্সবাজার জেলার উপকুলীয় অঞ্চলের বেশীরভাগ বেড়িবাঁধ কমবেশী ক্ষতিগ্রস্ত। কুতুবদিয়ায় ৫০০ মিটার ও মহেশখালী ধলঘাটা ইউনিয়নে ১ কিলোমিটার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বেড়িবাঁধ। পুরো জেলায় ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ রয়েছে। ইতিমধ্যে টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় অবস্থানরত বেড়িবাঁধের নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। এখন শাহপরীরদ্বীপ আশংকামুক্ত। এছাড়াও যে সব এলাকায় বেশী ঝুঁকিতে রয়েছে সেসব এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তবে সঠিক ও সময় মত অর্থবরাদ্দ পেলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্যান্য ঝঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ গুলো সংস্কার করা হবে।

কক্সবাজার জেলা রেড ক্রিসেন্ট সূত্র জানায়, ১৯৯১ সালের পর সরকার ও বেসরকারী সাহায্য সংস্থার অনুদানে কক্সবাজার জেলায় দুই শতাধিক সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করা হয়। কিন্তু, উপকুলের সবকটি সাইক্লোন সেল্টার এখন ব্যবহারের অনুপযোগি। এগুলোর বেশির ভাগ বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টার হিসেবে। বিগত ২৮ বছরে এসব সাইক্লোন সেন্টারের মধ্যে সবকটি ঝুকির্পুন অবস্থায় রয়েছে।

এগুলোর কোনটি অবকাঠামো ও কোনটির দরজা-জানালা নষ্ট হয়ে পড়েছে। এসব সাইক্লোন সেল্টার রক্ষণাবেক্ষণ কোন সংস্থা করবে তা ২৮ বছর পরও নির্ধারণ করা হয়নি। একইভাবে উপকূলবাসীকে রক্ষার জন্য সরকার ও এনজিও সংস্থার বেড়িবাধের পাশে প্যারাবন (সবুজ বেষ্টনী) গড়ে তুললেও এখন বেশিরভাগ উজাড় হয়ে গেছে। কিছু অসাধু প্রভাবশালী চিংড়ি চাষি উপকূলীয় এলাকার সবুজ বেষ্টনী (প্যারাবন) উজাড় করে চিংড়ি ঘের করে যাচ্ছে।

আবরারের মৃত্যু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল – ইশতিয়াক আহমেদ
দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!