স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের গাফলতির কারণে পেঁয়াজ নষ্টের অভিযোগ

একদিনে খালাস ১২৭৭ মেট্রিক টন পেঁয়াজ

বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯ | ৭:০৬ অপরাহ্ণ | 80 বার

একদিনে খালাস ১২৭৭ মেট্রিক টন পেঁয়াজ

টেকনাফ স্থলবন্দরে শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি পর্যাপ্ত জেটি না থাকায় মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ খালাসে বিলম্ব হওয়াই দেড় হাজার বস্তার বেশি পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার ১ হাজার ২৭৬ দশমিক ৯০৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ খালাস করা হয়েছে।এ নিয়ে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের পর গত আট দিনে ৫ হাজার ৮৪৯ দশমিক ৮৮৬ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ স্থলবন্দরের কাস্টমস সুপার আবছার উদ্দিন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন,পঁচনশীল এ পণ্য ট্রলার থেকে খালাসে বিলম্ব হওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত জেটির অভাবে মিয়ানমার থেকে আনা পেঁয়াজ নষ্ট হতে চলছে। বন্দরে নোঙ্গর করার দুই-তিনদিন পেরিয়ে গেলেও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ পণ্য খালাসে ধীরগতির কারণে ট্রলার থেকে পেঁয়াজ খালাস করা যাচ্ছে না। এখন শ্রমিক সংকট ও দুইটি জেটি দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাসের কারনে শত শত বস্তা পেঁয়াজ ট্রলারেই পঁচে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এর ফলে যেকোনো সময় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

কাস্টমস সূত্র জানায়,পেঁয়াজের দাম বাড়ার পর গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করা হয়। এরমধ্যে সেপ্টেম্বর মাসের ৩ হাজার ৫৭৩ দশমিক ১৪১ মেট্রিক টন। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের পর মিয়ানমার থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ৬৫০ দশমিক ৯২৩; ১ অক্টোবর ৫৬৯ দশমিক ৭৩০; ২ অক্টোবর ৫৮৪ দশমিক ৭৩২; ৩ অক্টোবর ৮০৩ দশমিক ৭৯৮; ৫ অক্টোবর ৪৩৯ দশমিক ১৬০; ৬ অক্টোবর ৪০৭ দশমিক ৭১১; ৭ অক্টোবর ১ হাজার ১১৬ দশমিক ৯৩৫ ও ৯ অক্টোবর ১ হাজার ২৭৬ দশমিক ৯০৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ এসেছে।

আমদানিকারক এমএ হাশেম ও মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ট্রলার থেকে খালাসের বিলম্ব হওয়াই বস্তা বস্তা পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব পেঁয়াজ এখন বাচাই করতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এভাবে চললে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ আমদানি করবে না। তারা আরও বলেন,স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ অসৎ উদ্দেশ্যে ট্রাকে খালাস করা পণ্য বিকাল ৫টার পর স্কেলে তোলা হলে প্রতিট্রাকে নাইট চাজ হিসেবে অতিরিক্ত সাড়ে ৫ হাজার টাকা আদায় করছেন। এর সঙ্গে শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত চার্জ। এভাবে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, ট্রলার বন্দরে নোঙ্গর করার সঙ্গে সঙ্গে আইজিএম জমা দেওয়া হয়। কাঁচাপণ্য হিসেবে যত দ্রুত খালাস করার কথা থাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এরফলে গত দুই-তিনদিনে দেড় হাজার বস্তার বেশি পেঁয়াজের ট্রলারে পঁচে নষ্ট হয়েছে।এতে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট টেকনাফে মহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন বলেন, জেটি ও শ্রমিক সংকটের কথা তিনি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তাদের পযাপ্ত পরিমাণের শ্রমিক রয়েছে। বর্তমানে দুটি জেটি দিয়ে পেঁয়াজ খালাস করা হচ্ছে। মিয়ানমারের আকিয়াব বন্দর থেকে টেকনাফে ট্রলার আসতে দুই-তিনদিন সময় লাগে।এতে করে বস্তা র্ভতি কিছু পেঁয়াজ গরমে পঁচন ধরেছে।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!