এইচএসসি পাস করে ওকালতি,ধরা খেয়ে কারাগারে নারী

সোমবার, ০৬ মে ২০১৯ | ৮:১০ অপরাহ্ণ | 316 বার

এইচএসসি পাস করে ওকালতি,ধরা খেয়ে কারাগারে নারী

পাঁচ বছর শিক্ষানবিশ আইনজীবী এবং দুই বছর আইনজীবী হিসেবে কাজ করা উচ্চ মাধ্যমিক পাস এক নারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী ওই নারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করেন কোতোয়ালি থানার এসআই মোহাম্মাদ মোবারক হুসেন ভূঞা।

জানা যায়, সাত বছর আগে এলএলবি পাস করে বার কাউন্সিলে সদস্যভুক্তির জন্য আবেদন করেছেন জানিয়ে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন ওই নারী। ২০১৮ সালে বার কাউন্সিল থেকে আইনজীবী হিসেবে সনদ পেয়েছেন মর্মে প্রচার করে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে আইনজীবী হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। পাসের খুশির সংবাদে মহিলা আইনজীবী কমন রুমে ৫ কেজি মিষ্টিও খাওয়ান। এইচএসসি পাশ ওই নারী এভাবেই নারী-পুরুষ সকল আইনজীবীকে ফাঁকি দিয়ে আইন পেশা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

রোববার তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির টাউট উচ্ছেদ কমিটির কাছে ধরা পড়েন। আইনজীবী হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দান এবং জাল জালিয়াতির অভিযোগে সমিতির পক্ষ থেকে সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান জুয়েল কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি থানাধীন ১২/এ, ধানমন্ডি ৩২ এর বাসিন্দা জহিরুল হকের মেয়ে রিমি জাহান (২৯)। তিনি সুফিয়া খানম রিমি (মৌ) নাম ধারণ করে অন্য আইনজীবীর সদস্য নম্বর ব্যবহার করে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আইনজীবীর পরিচয়পত্র তৈরি করেন। ওই পরিচয়ে তিনি দীর্ঘদিন বিচারপ্রার্থী নিরীহ জনগণের নিকট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন।

জানা গেছে, প্রতারক রিমি গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। এ ছাড়া, তিনি কয়েক বছর ধরে প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণাও করে আসছিলেন। তিনি আইনজীবী হিসেবে কোর্ট-গাউন পরে মামলার শুনানিও করতেন।

এ সম্পর্কে মামলার বাদি মেহেদী হাসান জুয়েল জানান, এইচএসসি পাস করেই ওই নারী নিজেকে এলএলবি পাস বলে বেশ কয়েক বছর আগে আইন অঙ্গনে আসেন। ২০১৮ সালে বার কাউন্সিল থেকে পাস করেছেন মর্মে প্রচার করে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে পরিচয়পত্র তৈরি করেন। তিনি পরিচয়পত্রে ঢাকা বারের আইনজীবী সদস্য সোফিয়া খামনের সদস্য নম্বর ২২৭৯০ ব্যবহার করে পরিচয়পত্র তৈরি করেন।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!