উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি কক্সবাজার পৌরসভায়

মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ | ৭:৫৭ অপরাহ্ণ | 599 বার

উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি কক্সবাজার পৌরসভায়

১৮৬৯ সালের স্থাপিত হওয়ার দেড় শতাব্দী পার হলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি কক্সবাজার পৌরসভায়। ৩২.৯০ বর্গকিলোমিটারের পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত কক্সবাজার পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকান্ড অত্যন্ত ধীরগতি। পৌরসভার জনসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব মতে প্রায় ২ লাখ বসবাসকারী বাসিন্দারা পিছিয়ে আছে পৌরসভার মৌলিক অধিকার থেকে।

জানা যায়, মোট ৯৭টি মহল্লাার সরকারি-বেসরকারিভাবে চিহ্নিত প্রায় ১৬ হাজার হোল্ডিংয়ের বসবাসকারীরা পিছিয়ে আছে শিক্ষা, যাতায়াত, পায়ঃনিষ্কাশনে। সঠিক তদারকি নেই হাট-বাজারে। বঞ্চিত হচ্ছে পানির সংযোগ থেকে, নাজুক হয়ে পড়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থাও।

পৌরসভার জরিপের তথ্য মতে, কক্সবাজার পৌরসভায় আয়ের উৎস হিসেবে মোট ৭টি হাট-বাজারের মধ্যে বড় বাজার, মাছ বাজার, কসাইখানা, বাঁশ বাজার, পান বাজার, অস্থায়ী কোরবানী পশুর হাট, শুঁটকি মহাল, ১টি পৌর বাসটার্মিনাল, পৌরসভার মোট ৯টি মার্কেটে রয়েছে ২৮১টি দোকান। যার মধ্যে এন্ডারসন রোড হকার্স মার্কেটে ৩১টি, পুরাতন পান বাজার হকার্স মার্কেটে ৭১টি, পৌর সুপার মার্কেটে ৪০টি, বড় বাজার সুপার মার্কেট সংলগ্ন মার্কেটে ৭টি, নবনির্মিত পৌর সুপার মার্কেটে ৫৪টি, পুরাতন মাছ বাজার ও তরকারী শেডে ৩১টি, পুরাতন শুটকি মাছ বাজার শেডে ২৬টি দোকান রয়েছে। পৌরসভার জলমহাল রয়েছে ৩টি, মাল উঠানামার ঘাট (কস্তুরা ঘাট) রয়েছে ১টি, পাবলিক টয়লেট রয়েছে ৩টি। যেখান থেকে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। এছাড়াও রিক্সা, টমটমসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলের রোড পারমিট থেকে আয় হচ্ছে প্রচুর রাজস্ব। সরকারিভাবেও আসছে বিভিন্ন প্রকল্পের বাজেট। আবার পৌর হোল্ডিং ট্যাক্স ও পৌর কর থেকেও আসছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

পৌর এলাকার জায়গা-জমি ক্রয়-বিক্রয়ে প্রতি লাখে ২% করে কর আদায় হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিষ্ট্রার কার্যালয় হতে। বিভিন্ন প্রকার আবেদন ফরম, ইমারতের নকশা অনুমোদন, অনাপত্তির সনদ, রোড রোলার ও বুল ডোজার ভাড়া প্রদান, ভূমির সীমানা নির্ধারণ সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, উত্তরাধিকার সনদ বিক্রয়েও প্রচুর অর্থ আয় হচ্ছে পৌর পরিষদে।

সচেতন মহলের অভিযোগ, পৌরসভার এতসব আয়ের উৎস থাকার পরও পৌর এলাকা উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে পড়েছে। কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত অবস্থানে পর্যটন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হলেও অপরিচ্ছন্নতা, জলাবদ্ধতা, পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত পৌর শহর। নাগরিক মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পৌরবাসী। কুকুর ও মশক নিধনের মত ছোট-খাটো কার্যক্রমও থেমে রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে।

সরজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার শহরে আলিরজাঁহাল, গোলদিঘীর পাড় এলাকা, ঘোনার পাড়া, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক, ঝাউতলা, বীচ এলাকার হোটেল কল্লোলের সম্মুখস্থ সড়কসহ পৌর এলাকার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রোড খানা-খন্দকে ভরপুর। নাজুক হয়ে পড়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। সামান্য বৃষ্টি পড়লেই হাঁটার অনুপযোগী হয়ে পড়ে এসব সড়ক। বড় বাজারের মাছ বাজারসহ হাটবাজারসমূহ অপরিচ্ছন্ন থাকে প্রতিনিয়ত।
এদিকে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও অত্যন্ত খারাপ অবস্থার রূপ নিয়েছে। পুরো পৌর শহরজুড়ে রয়েছে মাত্র ৩টি পাবলিক টয়লেট। এগুলো হলো: বাসটার্মিনাল পাবলিক টয়লেট, আইবিপি মাঠস্থ পাবলিক টয়লেট ও সী-বীচ সংলগ্ন পাবলিক টয়লেট। যা পরিমাণের তুলনায় অত্যন্ত কম। তাছাড়া এসব পাবলিক টয়লেটের পয়ঃনিষ্কাশনের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। আধুনিক পয়ঃ নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় আইবিপি মাঠস্থ পাবলিক টয়লেটের ভেতরের অবস্থার চেয়ে নাজুক হয়ে পড়েছে বাহিরের অবস্থা। দূর্গন্ধে জনসাধারণ চলাচল করতেও পারে না।

অন্যদিকে পুরো শহর জুড়ে প্রায় ১০৫৩টির মতো পানির সংযোগ থাকলেও পানি সরবরাহে ব্যর্থ হচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ। সময় মতো পানি সরবরাহ করতে না পারা এবং পানির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রতিনিয়ত। পৌর কর্তৃপক্ষের সর্বরাহকৃত এসব পানি গোসল করাতো দূরের কথা অনেক সময় থালা-বাসন ধোঁয়ার অনুপযোগী। আর কোন কারণে যদি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে তাহলে ঐ লাইন যুগোপযোগী করে তুলতে সময় লাগে দীর্ঘদিন। এসব সমস্যা পৌর এলাকার কোন না কোন মহল্লায় ঘটে প্রতিনিয়ত।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পুরো শহর জুড়ে দূর্গন্ধে ছেয়ে গেছে শুটকি মাছের গন্ধে। শহরের যেখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে শুটকি মাছের বাজার। শহরের বার্মিজ মার্কেট, মাছ বাজার, বড় বাজার, ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন বাজার, ৬নং রাস্তার মোড় সংলগ্ন, কলাতলীর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সড়ক ও পুরো বীচজুড়ে শুটকি মাছের বাজার লক্ষ্যনীয়। নির্দিষ্ট কোন জায়গা ব্যতীত এসব শুটকি মাছের বাজার অবস্থান করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ও বেড়াতে আসা পর্যটকরা।
শিক্ষার দিকেও পিছিয়ে রয়েছে শহরটি। পৌর এলাকা হওয়ার পরও শিক্ষার হার মাত্র ৫৫.৭%। পৌরসভা পরিচালিত মাত্র একটি উচ্চ বিদ্যালয় পৌর প্রিপ্যার‌্যাটরি উচ্চ বিদ্যালয়। তাও আবার নানা সমস্যায় জর্জরিত।

অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, কক্সবাজার পৌরবাসীর ভাগ্যটাই খারাপ। দীর্ঘকাল সময় ধরে এমন নাজুক অবস্থায় রয়েছে এই প্রথম শ্রেণীর পৌরসভাটি। আবার অনেক সময় মিষ্টি কথায় পৌরবাসীর মন জয় করার মাধ্যমে কাজের অবমূল্যায়ন হয়েছে দীর্ঘদিন।

এ ব্যপারে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি দায়িত্ব দেয়ার পর থেকে অনেক প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ সড়কের কাজ, শহরের বাইরে ময়লা ফেলার ডাম্পিং স্টেশনসহ উল্লেখ আরো অনেক প্রকল্পের কাজ চলমান।’

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!