উখিয়া ও টেকনাফে মাদকের বিরুদ্ধে শপথ পাঠ করালেন জেলা প্রশাসক

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯ | ৭:৪১ অপরাহ্ণ | 337 বার

উখিয়া ও টেকনাফে মাদকের বিরুদ্ধে শপথ পাঠ করালেন জেলা প্রশাসক

সু-স্বাস্থ্যই সুবিচার, মাদক মুক্তির অঙ্গিকার”এই প্রতিপাদ্যে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালন করেছে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন। বুধবার দুপুরে উপজেলা সদরে র‌্যালী, মানববন্ধন এবং বিকেলে উখিয়া উচ্চ বিদ্যালরের মাঠে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে, শিক্ষক মেধু বড়ুয়ার সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ত্রিপিটক পাঠ ও গীতা পাঠের মাধ্যমে শুরু হওয়া সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন।

তিনি বক্তব্যে বলেছেন, প্রশাসনকে সমাজের যে যার অবস্থান থেকে মাদক কারবারি, পাচারকারী, ব্যবহারকারী সকলের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। নিরপেক্ষতা বজায় রেখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নেতৃত্বশীল সচেতন ব্যক্তিদের তালিকা প্রনয়ন করতে হবে। মসজিদ-মাদ্রাসা,স্কুল কলেজ, গীর্জা, মন্দিরে মাদক বিরোধী সভা সমাবেশ করতে হবে। ক্লাসের সময় অন্তত আধঘন্টা মাদকের কুফল সম্পর্কে বক্তব্য দিতে হবে শিক্ষকদের। বাড়িতে মায়েদের খোঁজ খবর নিতে হবে ছেলেদের। মাদক বা ইয়াবা কারবারিরা যতই শক্তিশালী হউক অবশ্যই আইনের আওতায় আসবে। কোন জনপ্রতিনিধি, নেতারা মাদক কারবারিদের আশ্রয়-প্রশয় দিলে বা জনপ্রতিনিধিরা মাদক কারবারে জড়িত থাকলে জনপ্রতিনিধিতো থাকবেনা, আইনের হাত থেকে বাঁচতেও পারবেনা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহজাহান আলী স্বাগত বক্তব্যে বলেছেন মাদকের কুফল থেকে উখিয়া-টেকনাফের আগামীর প্রজন্মকে বাঁচাতে সকল শ্রেনীপেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে। প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজারস্থ ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক, লেঃ কর্ণেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ বলছেন, দেশের ৫ শতাধিক উপজেলার মধ্যে উখিয়া-টেকনাফ আলোচিত-সমালোচিত ইয়াবার কারণে। ইয়াবা নির্মুলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জিরো টলারেন্স নিয়ে সীমান্ত এলাকায় জীবনবাজি রেখে কাজ করছে বিজিবি। ইয়াবা -মাদকের কলংক মুছতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি পরিবার থেকে বাবা-মায়েদের সন্তানের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড মহল্লায় মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করে সামাজিক ভাবে মাদক কারবারিদের বয়কট করতে হবে।
বিশেষ অতিথি কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আদিবুল ইসলাম বলেছেন, উখিয়া-টেকনাফ এখন মাদক বিস্তারের ঘাটি। ইয়াবা ব্যবসা এবং রোহিঙ্গা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসন আগের চেয়ে আরো বেশী সতর্ক রয়েছে। জেলায় কোন না কোন দিন ইয়াবা কারবারিদের শায়েস্তা করতে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সারাদেশের ন্যায় উখিয়ায় পুলিশ প্রশাসনের অভিযান আরো বেশী পরিচালিত হবে। ইয়াবা বিস্তার প্রতিরোধ, মাদকে জড়িতদের বিষয়ে সুখবর পাবেন অচিরেই। এটি আমাদের সকলের প্রত্যয় এবং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্য আশরাফ জাহান কাজল, উখিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন নেছা বেবী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, হলদিয়া পালং ইউপির চেয়ারম্যান শাহ আলম, পালংখালী ইউপির চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী, জালিয়া পালং ইউপির চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী, রত্নাপালং ইউপির চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সৌমেন মন্ডল, উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের, উখিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসাইন সিরাজী প্রমুখ। এসময় উখিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভুমি) ফখরুল ইসলাম, উখিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রাইহানুল ইসলাম মিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান,উখিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি সরওয়ার আলম শাহীন সহ সাংবাদিক, বিভিন্ন শ্রেনীপেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বক্তব্য শেষে উপস্থিত সকলকে মাদক বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান।

॥ টেকনাফে মাদকের বিরুদ্ধে শপথ পাঠ করালেন জেলা প্রশাসক ॥

আমরা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে। কেননা, এ দেশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। এই সোনার বাংলায় ইয়াবার ঠাঁই হবে না। ফলে যে কোনো মূল্যে এই ইয়াবা বন্ধ করতেই হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে আন্তজার্তিক মাদকদ্রব্য অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন এসব কথা বলেছেন। সভায় সভাপত্বিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হাসান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজারো মানুষকে দাঁড়িয়ে হাত তুলে তিনি মাদক বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাহাম্মদ শাজাহান আলী। অনুষ্টানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ আদিবুল ইসলাম, সাবেক সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল আলম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর কক্সবাজার সহকারী পরিচালক সোমেন মন্ডল, পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম, টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ। শুরুতে জাতীয় সংগিতের মাধ্যমে সভা পরিচালনা করে টেকনাফ ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক সন্তোষ কুমার শীল।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বলেন, গুটা দেশে কক্সবাজারের ইয়াবা একটি দূর্নাম রয়েছে। এখনই সময় ইয়াবার বিরোদ্ধে প্রতিবাদ ও ইয়াবাকারবারিদের সঙ্গে সকল সর্ম্পক ছিন্ন করার। শুধু অভিযান চালিয়ে মাদক বন্ধ করা যাবে না। আর যেন কেউ ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত না হয়, সে বিষয়ে সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইয়াবায় জড়িত থাকায় যেসব জনপ্রতিনিধি এখনো পলাতক রয়েছে, তাদের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। তাদের যাচাই-বাচাই করে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এখন থেকে প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে একদিন আধাঘন্টা করে মাদকের কুফল সর্ম্পকে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে নির্দেশ দেন। কারো একার পক্ষে ইয়াবা বন্ধ করা সম্ভব নয়। সকলরে সহযোগিতায় এই ইয়াবা বন্ধ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের নীতিতে অভিযান চলছে উল্লেখ করে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, আমার খুব খারাপ লাগে, যখন দেশের প্রশিক্ষিত বাহিনীর গুলিতে দেশের মানুষের উপর ব্যবহার হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, গুলি করে মানুষ মেরে ইয়াবা বন্ধ করা যাবে না। ইয়াবা বন্ধ করতে, সবারই সহযোগিতার দরকার।
তিনি আরো বলেন, মাদক নির্মুল করতে গিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অনেক কারবারি মারা গেছেন। এটা আমাদের কাম্য নয়। মাদকের অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে সকলকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। এছাড়া সীমান্তে মাদক জব্দ করে আমি আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চাইনা, বরং মাদকের সীমান্তে পাচার বন্ধ করতে পারাই আমাদের জন্য ভালো।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, মাদক আমাদের পরিবার, সমাজ, দেশ ও জাতিকে গ্রাস করেছে। মাদকের কারনে অনেক নারী বিধবা হয়েছে, ছেলে হারিয়েছে তার প্রিয় বাবা, বাবা হারিয়েছে তার সন্তানকে, ভাই হারিয়েছে তার প্রিয় ভাইকে। টেকনাফে এক সময় সুগন্ধি বাতাস বইত, আর এখন ইয়াবার গন্ধ বইছে। স্কুল ছাত্র থেকে শুরু করে এখানকার কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ ও জনপ্রতিনিধি সবাই ইয়াবা নিয়ে ব্যস্ত।
তিনি বলেন, কামার, কুমার, কুলি-মজুররা যখন মাদকের টাকায় কোটিপতি হতে শুরু করল তখন এখানকার সৎ, সহজ- সরল মানুষগুলো নিগৃহিত হতে লাগল। যারা এই টেকনাফ শহরকে ঘৃণার শহরে পরিণত করেছে, আমার জেল হোক আর ফাঁসি হোক আমি এই সীমান্তে মাদক নির্মূল করেই ছাড়বো

॥ লামা ॥

‘সু-স্বাস্থ্যেই সুবিচার, মাদক মুক্তির অঙ্গীকার’ এ শ্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে লামায় পালিত হয়েছে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০১৯। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষ্যে বুধবার সকালে র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল। এসময় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাহেদ উদ্দিন ও মিল্কী রানি দাশ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয় বণিক।

উপজেলা চেয়ারম্যানের একান্ত সহকারী কামরুল হাসান পলাশের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হোসেন, সরকারি মাতামুহুরী কলেজের ছাত্র আলী আশ্রাফ সহ প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, মাদক জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। এছাড়া চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের পেছনে মাদকের অবৈধ ব্যবসা ও অপব্যবহারই অন্যতম কারণ। তাই মাদক সেবন থেকে বেরিয়ে এসে সকলকে সোচ্চার হয়ে মাদক নির্মূলে এগিয়ে আসতে হবে। পারিবারিক সু-শিক্ষাই পারে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সু-নাগরিক করতে।

ভাশেষে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2020

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!