দেশে ফিরেছেন রোকেন : মৃতদেহ সমাহিত : অতিরিক্ত ডিআইজির ঘটনাস্থল পরিদর্শন

উখিয়ায় ৪ খুন : অজ্ঞাত আসামীর বিরুদ্ধে মামলা

শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬:৪০ অপরাহ্ণ | 109 বার

উখিয়ায় ৪ খুন : অজ্ঞাত আসামীর বিরুদ্ধে মামলা

উখিয়ার রত্নাপালংয়ে কুয়েত প্রবাসী একই পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১২ টায় কুয়েত প্রবাসী রোকেন বড়ুয়ার শ্বশুড় এবং নিহত মিলা বড়ুয়ার বাবা শশাংক বড়ুয়া বাদী হয়ে দায়ের এ মামলাটি নথিবদ্ধ করা হয় বলে জানান উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নুরুল ইসলাম মজুমদার।
তবে মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করা হলেও সংখ্যা উল্লেখ করেননি বলে জানান তিনি।

রোকেন বড়ুয়া উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের পূর্ব রত্নাপালং গ্রামের প্রবীন বড়ুয়ার ছেলে।
মা, স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানসহ স্বজনদের মৃত্যুর খবরে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টায় বিমান যোগে তিনি কুয়েত থেকে কক্সবাজার পৌঁছান। এরপর তিনি সেখান থেকে সরাসরি কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে আসেন।
এদিকে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে কোটবাজার বৌদ্ধ মহাশ্মশানে নিহতদের সমাহিত করা হয়েছে। এর আগে নিহতদের বাড়ীতে অনুষ্ঠিত হয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ধর্মীয় অনিত্য সভা। এতে ধর্মীয় পুরোহিতরা ছাড়াও হাজার বৌদ্ধ নরনারী অংশগ্রহণ করে।
এর আগে শুক্রবার বিকালে রত্নাপালং ইউনিয়নের পূর্ব রত্নাপালং গ্রামে তাদের লাশ এলাকায় পৌঁছলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। পরিবারটির একমাত্র বেঁচে থাকা সদস্য প্রবাসী গৃহকর্তা রোকেন বড়ুয়ার কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে আকাশ-বাতাস। এসময় সেখানে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের চোখ ভেসে যায় বেদনার জলে। তারা কেউ মেনে নিতে পারছে না পরিবারটির সদস্যদের এমন নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা।
বুধবার রাতের যে কোন সময় উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের পূর্ব রত্নাপালং গ্রামের বাসিন্দা প্রবীন বড়ুয়ার কুয়েত প্রবাসী ছেলে রোকেন বড়ুয়ার মা সুখী বালা বড়ুয়া (৬৫), স্ত্রী মিলা বড়ুয়া (২৬), ছেলে রবীন বড়ুয়া (২) ও ভাই শিপু বড়ুয়ার মেয়ে সনি বড়ুয়াকে (৬) গলা কেটে হত্যা করা হয়।
তবে কে বা কারা, কি কারণে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে পুলিশ তা নিশ্চিত করতে না পারলেও বৃহস্পতিবার বিকালে পিআইবির পাশাপাশি সিআইডির ৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিহত মিলা বড়ুয়ার বাবা শশাংক বড়ুয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে এজাহার দায়ের করেন। পুলিশ মামলাটি নথিবদ্ধ করেছে। তবে মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আসামী করা হলেও সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

এজাহার পাওয়ার পর তদন্ত অব্যাহত রেখেছে বলে জানান পরিদর্শক (তদন্ত)।
পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেন, পুলিশের পাশাপাশি পিআইবি ও সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হত্যা ঘটনার বেশকিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কি ধরণের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে তা জানানো সম্ভব হচ্ছে না।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণার কথা জানিয়ে এসপি জানান, এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। হত্যা ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি অংশ নিয়ে থাকতে পারে।

নৃশংস এ হত্যার ঘটনায় পরিবারটির ঘনিষ্ট কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন মাসুদ।
তবে কে বা কারা, কি কারণে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে সেটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে জানান তিনি।

অপরদিকে, বিকাল সাড়ে চারটার দিকে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আবুল ফয়েস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রায় দুই ঘন্টা যাবত নিহতের বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন।

এসময় ডিআইজি বলেন হত্যাকান্ডের অনেক ক্লু পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ত্রিশ বছরের চাকুরীর জীবনে এত ধরনের হত্যা কান্ড দেখেনি। এটা র্মমান্তিক হত্যাকান্ড।
উখিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, “একটি ঘরে টিভি আর ফ্যান চালু অবস্থায় ছিল। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি দা পাওয়া গেছে ঘরের ভেতরে। হত্যাকারী সম্ভবত বাসার ভেতরেই ছিল। রাতে খুন করে ছাদ হয়ে বেরিয়ে গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনায় অনেক ধরনের ক্লু পাওয়া গেছে। মামলার স্বার্থে কিছু বলা যাচ্ছে না। গত বুধবার রাতে ৭ জনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন, এধরনের হত্যাকান্ড কোন অবস্থায় মেনে নেওয়া যায় না।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!