এইমাত্র পাওয়া

x

ঈদগাঁও বাসষ্টেশনে দীর্ঘ যানজট : ট্রাফিক পুলিশের অনৈতিক বানিজ্য

শনিবার, ০৩ আগস্ট ২০১৯ | ৪:৫০ অপরাহ্ণ | 121 বার

ঈদগাঁও বাসষ্টেশনে দীর্ঘ যানজট : ট্রাফিক পুলিশের অনৈতিক বানিজ্য

পর্যটন শহর কক্সবাজারে প্রবেশ মুখের অন্যতম বানিজ্যিক শহর ঈদগাঁও বাসষ্টেশনে সব সময় লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। এই স্টেশন থেকে মফস্বলের অসংখ্য যানবাহন ছেড়ে যায়। যাতায়াত করে লাখ লাখ মানুষ, হাজার হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনে যানজট লেগেই থাকে সারাক্ষণ। এতে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হন পথচারী ও যাত্রী সাধারণ।

শুক্রবার সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি। অন্যদিনের চাইতে এখানে যানজট কম থাকার কথা। সময় তখন সকাল ১১ টা। বার আউলিয়া দরগাহ গেইট থেকে খোদাইবাড়ী নতুন রাস্তার মাথা পর্যন্ত দুপাশে যানজট। গ্রামাঞ্চলে চলাচলের পারমিট থাকা অনেক অটোরিকশা, টমটম, মাহিদ্রা, যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানামা করছে। অন্যান্য যানবাহনেরও জট রয়েছে। এ সময় বাসস্ট্যান্ডে দুজন ট্রাফিক কনষ্টেবল থাকলেও যানজট নিরসনে তাঁদের কোনো তৎপরতা নেই। সড়কের একটু সামনে এসে দেখা যায় ডানপাশে ঈদগড়ের সামনেও তীব্র যানজট। সেখান থেকে কয়েক শ গজ দূরে বাজারের মুখ। সেখানেও যানজট। এর পাশে পশ্চিম ও পূর্বে অটো রিক্সা, সিনএনজি, মাহিন্দ্রা দাঁড়িয়ে আছে। এছাড়া আছে বিপরীত দিক ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা বড় বড় বাসের চাপ। ওই গাড়িগুলো কক্সবাজার শহরের দিকে যেতে পারছে না যানজটের কারণে। আবার সারা দেশ থেকে ছেড়ে আসা ঐ বাস গুলো যত্রতত্র যাত্রী উঠা নামার ফলেও লেগে থাকে যানজট।মাইক্রো,ছারপোকা তো আছেই যানজটের মুল যানবাহন।

এভাবে যখন বাসস্ট্যান্ডে মারাত্মক যানজট সৃষ্টি হয়েছে তখন দেখা যায়, ঈদগড় সড়কের মুখে পশ্চিম পাশে দাঁড়িয়ে আছেন ট্রাফিক সার্জেন্ট নিজাম উদ্দীন , অন্য দুই ট্রাফিক কনস্টেবল আছে গাড়ী জব্দের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে। সে সময় প্রতিবেদককে ছবি তুলতে দেখে এক কনস্টেবল কৌশলে সরে দাঁড়ায়। এদিকে যানজটে পথচারী ও যাত্রীসহ যানবাহনের চালক-শ্রমিকদের যখন ত্রাহি অবস্থা তখনও ওই দিকে দেখার যেন সময় নেই দুই সার্জেন্টসহ কনস্টেবলদের।

আর এই যানজটের মধ্যে সময়ে অসময়ে দেখা যায় , কনস্টেবলরা বিভিন্ন সাইজের মালবাহী গাড়ী সিগন্যাল দিয়ে থামিয়েছেন। সার্জেন্ট নিজাম উদ্দীন যাত্রী ছাউনির পাশে দাঁড়িয়ে ওই গাড়ির লোকজনের সঙ্গে কানাঘুষা করছেন। জানা গেছে, সার্জেন্ট কিংবা তাঁর নির্দেশনা ছাড়া সড়কে চলাচলরত কোনো যানবাহন ধরার নিয়ম নেই ট্রাফিক কনস্টেবলদের। কিন্তু বেলা ১২ টার দিকে দেখা যায়, জয় নামে এক কনস্টেবল নিজেই যানজটের মধ্যে ওই এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান আটকে রাখেন। তাঁর পেছনেই সারি সারি গাড়ি। এক পর্যায়ে ওই গাড়িটি এক পাশে ডেকে নিয়ে ঈদগড় সড়কের মাথায় যাত্রী ছাউনির সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।

গাড়ি চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গাড়ির সব কাগজপত্র আছে। এরপরও ওনি (কনস্টেবল) বলছেন গাড়ি এখানে রাখার জন্য। এখন গাড়ির ডকুমেন্ট নিয়ে যাচ্ছি। ২ টার ১০ মিনিটে দেখা যায়, জনগুরুত্বপূর্ণ এই বাস স্টেশনে যানজট। কিন্তু সার্জেন্ট নিজাম উদ্দীন সড়কের উপর দাঁড়িয়ে দুই শ্রমিক নেতার সঙ্গে আলাপচারিতায় মগ্ন।

বিকাল ৩ টার দিকে আবু তাহের নামের একজন ট্রাক চালক বলেন, ‘যানজটের জন্য এই এলাকায় গাড়ি চালাতে পারি না। মধ্যরাতেও এখানে যানজট থাকে।’

জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ঈদগাঁও শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেকুর রহমান জানান ‘এই ঈদগাঁও বাসস্ট্যান্ডটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অনেক গাড়ি স্টেশন থেকে দুই পার্বত্য জেলার বাইশারী ও দক্ষিণে রামু, কক্সবাজার শহর, চকরিয়াসহ বিভিন্ন সড়কে চলাচল করে। ট্রাফিক বিভাগ যেভাবে দায়িত্ব পালন করার কথা কিন্তু তারা তা করছে না। এখানে যারা দায়িত্ব পালন করছে তাদের নজর অবৈধ আয়ের দিকে। গাড়ি দাঁড় করিয়ে চাঁদাবাজি করছে ট্রাফিক পুলিশ। অটোরিকশা, টমটম, মাহিদ্রা এখানে থাকতেই পারে না। কিন্তু ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে অবাধে চলছে গ্রামের গাড়ি আরকান সড়কে । যানজটের জন্য ওই গাড়িগুলো দায়ী হলেও কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাফিক পুলিশের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে যানজট হচ্ছে। আমরা বিষয়টি সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি। টমটম চালক মো. তোহা বলেন, ‘আমি বিভিন্ন সড়কে ৩/৪ বছর ধরে গাড়ি চালাচ্ছি। এতো চাঁদা আগে দেইনি। এখন প্রতিদিন টমটম প্রতি ২০ টাকা (রসিদ দিয়ে) এবং মাসে টোকেন বাবদ ৩০০ টাকা দিতে হয়। শুনেছি এই টাকা ট্রাফিক পুলিশও পায়। নিয়মিত চাঁদা না দিলে ট্রাফিক পুলিশ রাস্তায় ধরে।’ গতকালও তার টমটমটি ধরে নিয়ে আরকান সড়কে চলাচলের অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। অথচ কেইস স্লিপে টাকার কথা উল্লেখ করেনি।এমন কি কাউকে না বলার জন্যও তাগিদ দেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট নিজাম উদ্দীন।

জানা গেছে, ঈদগাঁও বাসস্ট্যান্ডসহ গ্রামাঞ্চলের হাজারো টমটম, অটো রিক্সা, সিনএনজি, মাহিদ্রা চলাচল করে। এসব গাড়ি থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অভিযোগ ওঠেছে এই টাকার ভাগ পায় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার একাধিক গাড়িচালক-শ্রমিক জানান, সার্জেন্ট নিজাম উদ্দীন প্রায় দুই মাস ধরে ওই এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময় তাঁর বেপরোয়া ‘চাঁদাবাজিতে’ অতিষ্ঠ যানবাহনের চালক-শ্রমিক। তাঁকে যানজট নিরসন করতে দেখা যায় না।এসব বিষয়ে সার্জেট নিজাম উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে উল্লেখিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন বিস্তারিত জানতে চাইলে টিআই স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে ট্রাফিক পুলিশের নাম ভাঙিয়ে একটি দালাল চক্র মাসোহারা তুলছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তাদেরকে চিহ্নিত করতে ট্রাফিক পুলিশ কাজ চালাচ্ছে বলে জানান নিজাম উদ্দীন।

দৈনিক দৈনন্দিন এ প্রকাশিত কোন ছবি,সংবাদ,তথ্য,অডিও,ভিডিও কপিরাইট আইনে অনুমতি ব্যতিরেখে ব্যবহার করা যাবে না ।

Copyright @ 2019

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!